শিরোনাম

বালিয়াকান্দিতে নদী খননে পাকা সড়কে ধস

বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি  |  ০৫:৫৯, মে ১৭, ২০১৯

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে চত্রা নদী পুন.খনন কাজ শেষ না হতেই পাউবোর এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির ফলে পাকা সড়ক ধসে নদীতে চলে গেছে। মাটি বিক্রির জন্য সড়কের উপর মাটি জমিয়ে রাখায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে যানবাহন ও সাধারণ লোকজন।

এলাকার লোকজন অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় বাঁধা সৃষ্টি করলেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসাধু কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বাধা সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়- এলাকার লোকজনের সাথে অসাধাচারণ করেন।

এভাবে মাটি কেটে বিক্রির ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পাকা সড়কে ধসের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি- চত্রা নদীটি খননের পূর্বেই অনেক গভীর ছিল। নতুন করে খননের প্রয়োজন ছিল না। সম্প্রতি নদীর তীর দিয়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়।

কিন্তু সামান্য কিছু পেটুয়া বাহিনীর পেট ভরাতে গিয়ে দুই দফায় সরকারি অর্থ পানিতে চলে যাচ্ছে তৃতীয় দফায় ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণের আশায়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

জানা গেছে, বাংলাদেশ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে গড়াই নদী-সিরাজপুর হাওরের উৎপত্তিস্থলের চত্রা নদী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রাজবাড়ী পওর বিভাগাধীন রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুন.খনন (১ম পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় চত্রা নদীর নূনা ট্রেডার্স ৭.৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ হাজার কি.মি. খাল পুন.খনন শুরু করেছে।

গত বুধবার সকালে সরেজমিন উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের খাটিয়াগাড়া, চরঘিকমলা, বাকসাডাঙ্গী, বিলটাকাপোড়া এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, নারুয়া বাজার থেকে লাঙ্গলবাঁধ ঘাট পর্যন্ত সড়কের বাকসাডাঙ্গী এলাকায় সড়ক প্রায় ২০০ মিটার জায়গা নিয়ে পাকা সড়ক ধসে নদীতে চলে গেছে।

ফলে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে গেছে। শুধু তাই নয় সামান্য বৃষ্টিতে কাদা-পানিতে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা পায়ে হেঁটে চলা কষ্ট হয়ে পড়েছে।

বালিয়াকান্দি-পাংশা সড়কের উপর অবৈধভাবে খননকৃত মাটি বিক্রির জন্য মাটির স্তূপ করে রাখা হয়। সড়কের মাটি পড়ে থাকায় বৃষ্টিতে কাদায় একাকার হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষসহ যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখনো সড়কের উপর মাটির স্তর পড়ে যাওয়ার কারণে যানবাহন চলাচল করছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। নারুয়া বাজার থেকে লাঙ্গলবাঁধ সড়কটির উপর মাটি ফেলে সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়। সড়কের পাশ কেটে গর্ত করা হয়।

এলাকার লোকজন বাধা দিলেও স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাহমুদুল হাসান ও মুরাদ হোসেন এলাকার লোকজনের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। জোরপূর্বক রাস্তার সোল্ডার (পাশ) খুঁড়ে খনন করায় এ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

ঠিকাদারের প্রতিনিধি লুলু বিশ্বাস জানিয়েছেন, যেভাবে মাটি কাটার নিয়ম আছে সে অনুযায়ী কাটা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সব জায়গায় তো ধস হয়নি।

এক জায়গায় হতেই পারে। আমরা তো পানি উন্নয়ন বোর্ডের নকশা অনুযায়ী কাজ করছি। যাতে আর ভাঙনের সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। নারুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম বলেন, সড়কের পাশ খুঁড়ে খনন করতে আগে থেকেই নিষেধ করেছি।

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তা না করায় পাকা সড়ক ভেঙে নদীতে চলে গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে বালিয়াকান্দি উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস,ও মাহমুদুল হাসানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, নদী যেভাবে কাটছে নিয়ম অনুযায়ী কাটছে। সড়কে ফাটল ধরেছে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে তারা খুব শিগগিরই সরেজমিন এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব ইঞ্জিনিয়ার এসএম নুরুনব্বী প্রকল্প সম্পর্কে জানান, আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে সড়কে ফাটল দেখেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম রেজা বলেন, ‘হ্যাঁ বিষয়টি আমি শুনেছি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কাজটি করা হচ্ছে। আমাদের মিটিংয়ে সড়কে ফাটল ধরার বিষয়টি আলাপ হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। আগামী জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত