শিরোনাম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কৃষি জমিতে পুকুর খনন

প্রিন্ট সংস্করণ॥ নাটোর প্রতিনিধি  |  ০৩:৫২, মে ১৬, ২০১৯

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে সুনাম রয়েছে অনেক পূর্বে থেকেই। উপজেলার ৮০% লোকের আয়ের উৎস্য এবং জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন কৃষি। উপজেলাটি পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এই উপজেলার সকল মৌজার জমি অনেক উর্বর ও সমতল। এখানে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য ও রবিশস্য যেমন- আমন ধান, গম, ভুট্টা, আলু, শরিষা, মরিচ ও পেঁয়াজ, আখের চাষসহ ব্যাপক হারে শাক-সবজি এবং লিচু, আম, কাঠাল প্রচুর উৎপাদন হয়।

এগুলো এলাকার চাহিদা মিটিয়ে নিজ জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করা হয়। তাই আমাদের উর্বর কৃষি জমির ব্যবহারের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কয়েক বছর পূর্বে এলাকার কিছু মানুষ ফসলি জমি নষ্ট করে স্বল্প পরিসরে পুকুর খননের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ করলেও বর্তমানে তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা লংঘন করে এলাকার শিক্ষিত ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবাধে ও নির্বিঘ্নে ফসলি উর্বর কৃষি জমি নষ্ট করে ব্যাপক হারে পুকুর খনন করছে।

তাতে এলাকার সাধারণ জমির মালিক চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার পর তা পরিবহনের জন্য অবৈধভাবে পাকা ও কাঁচা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। মাটিবোঝাই ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাগুলো ভেঙে গিয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আর সড়কগুলো নষ্ট হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার হরিরামপুর, কোয়ালীপাড়া ও বিলগোপালহাটীসহ বেশ কয়েকটি মাঠে কৃষি জমিতে জমিতে পুকুর খনন চলছে।

অজানা কারণে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রশাসন দেখেও দেখছেন না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জনপ্রতিনিধি ও সচেতন এলাকাবাসী অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাদী বলেন, এভাবে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করায় চিরস্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে। সরকারও এটা চাচ্ছে না। তারপরও প্রকাশ্যে কিভাবে এমন অবৈধ পুকুর খনন চলছে সেটাই প্রশ্ন? পাকা রাস্তায় কাদা থাকায় আমিও আহত হয়েছি। দ্রুত এমন অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার দাবি জানান তিনি।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র প্রামাণিক দাবি করেন, অবৈধভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খননের খবর পেয়ে পরিদর্শন করি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেছি। আমার যতটুকু করণীয় করি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোমরেজ আলী দাবি করেন, ‘পুকুর খননের জমি আবাদি কি না, ইউএনও স্যার এমন প্রতিবেদন চাওয়া সাপেক্ষে আমি তা প্রদান করি।’

কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই আবাদি জমিতে পুকুর খনন করছেন কিভাবে এমন প্রশ্নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। অনুমতি ছাড়া পুকুর খনন করা হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত