শিরোনাম

জয়পুরহাটে ভাতাবঞ্চিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দম্পতি

প্রিন্ট সংস্করণ॥জয়পুরহাট প্রতিনিধি  |  ০০:১২, মে ১৬, ২০১৯

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বুধইল গ্রামের সামছুল হক বাদলের বাড়িতে আশ্রিত ও ঠিকানাবিহীন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দম্পতি এখনো রয়েছেন সরকারি সুবিধাবঞ্চিতদের তালিকায়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দম্পতিরা হলেন- মাজাদ মিয়া (৪৭) ও তার স্ত্রী কুলছুম বিবি (৪২)।

সরেজমিন জানা গেছে, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মা রসুলপুর ইউনিয়নের বুধইল গ্রামের বাদলের বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মাজাদ মিয়া ও তার স্ত্রী কুলছুম বিবি।

মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বাদল সপরিবারে তার কর্মস্থল জেলার গতন শহর এলাকায় বসবাস করেন বলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অসহায় দম্পতিকে বসবাসের জন্য তিনি তার বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দেন।

গ্রামবাসীরা আক্ষেপ করে বলেন, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও তারা প্রতিবন্ধী ভাতা বা সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধাই লাভ করেননি। মাজাদ মিয়া ও তার স্ত্রী কুলছুম বিবি বলেন, তাদের দুইজনেরই একটি করে চোখে আলো নেই, অপর চোখ দিয়েও ভালো দেখতে পান না। যত দিন যাচ্ছে, এ সমস্যা আরও বাড়ছে বলেও জানান মাজাদ ও কুলছুম।

চরম অভাব-অনটন আর ভালোভাবে পৃথিবীটাকে দেখতে না পাওয়ার যন্ত্রণা বুকে নিয়ে কিছুটা রসিকতা করে কুলছুম জানান, ‘হামরা দু’জনাই অন্ধ তো, তাই একজন আরেক জনাক খোঁটা দেয়া পারবে না, সংসারে অশান্তি হবে না বলে হামাঘরে বাপ-মাও, ইষ্টি-কুটুম, পাড়া-পড়শি সবাই মিলে হামাঘরক বিয়া দিছে। গরিব মানুষ, দেকতে দেকতে ২০-২২ বছর গেল, কষ্ট-দুক্কু হলেও একস্ত্রেই আছি, মরার আগ পর্যন্ত একস্ত্রেই থাকমো।’

আশ্রয়দাতা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বাদলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘দ্যাশের বেশি মানুষেরই ঠিকানা আছে, হামাঘরে পরিচয় দেয়ার মতো কোনো ঠিকানা নাই, বসতবাড়ি এমনকি পা রাখার মতো নিজের কোনো জমিন নাই বাবা, বাদল ভাই দয়া করে তার বাড়িতে থাকতে দিছে, নাহলেও তো বউ-ছল লিয়ে গাছতলা আর হয় ইস্টিশনত থাকা লাগত।

এই অসহায় দম্পতির আশ্রয় দাতা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সামছুল হক বাদল জানান, ‘আমার বাবা মাজাদ ও কুলছুমকে তার সন্তানের মতো ভালো বাসতেন বলে আমাদের বাড়িতে তাদের থাকতে দিয়েছেন, বিষয়টি আমি জানি বলে বাবার মৃত্যুর পরও তার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমার বাড়িতে বসবাস করতে দিচ্ছি।

এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দম্পতি বলেন, প্রতিবন্ধীর তালিকায় নাম থাকলেও তারা আজ পর্যন্ত প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা সরকারি কোনো সহয়াতা তারা পাননি। প্রতিবন্ধী ভাতা লাভের জন্য এখনো পথ চেয়ে বসে থাকেন এই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামী-স্ত্রী।

এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজিবুল আলম জানান, ‘বিষয়টি জানা ছিল না, আবেদন পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত