শিরোনাম

চিকিৎসক সংকটে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

রনি আকন্দ কালাই, জয়পুরহাট  |  ১৬:২১, এপ্রিল ২২, ২০১৯

চিকিৎসক সংকটে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হয় অনেক রোগীকে। আবার রোগীদের ভর্তি হয়েও বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। আলট্রাসনোগ্রামের মত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা যন্ত্র থাকা সত্তেও চিকিৎসকের অভাবে প্রায় ২ বছর ধরে সেবা বন্ধ। কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিত্র এ রকমই। অথচ এই স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটিকে উপজেলা পর্যায়ের অন্যতম সেরা ৫ হাসপাতালের মধ্যে ঘোষণা করেছে সরকার।

কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও মাত্র ৮ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। শূণ্য আছে ১৮টি পদ। হৃদরোগ কনসালটেন্ট, গাইনি কনসালটেন্ট, অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট ও ৫ জন মেডিক্যাল অফিসার দ্বারা হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে। রয়েছে নার্স ও জনবল সঙ্কট। চিকিৎসকের অভাবে জোড়াতালি দিয়ে চলছে বহির্বিভাগে রোগী দেখা। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া শতাধিক রোগীর সেবা দিতেও হিমশিম খেতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

৫০ শয্যা বিশিষ্ট কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হওয়ার পড়েও প্রায় ৮০-৯০ জন রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিন বহিঃবিভাগে প্রায় ৩০০-৪০০ জন রোগী এবং জরুরী বভাহে ৭০-৮০ জন চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্য আছেন।

সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটি অত্যন্ত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কিন্তু সেবার উদ্দেশ্য নিয়ে এসে যদি চিকিৎসকের অভাবে কাঙ্খিত সেবায় না পাওয়া যায় তাহলে কি লাভ?

এলাকার সাধারণ ভুক্তভোগী মানুষের অভিযোগ, কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপযুক্ত সেবা না পেয়ে সামান্য সমস্যাতেই রোগীদের জয়পুরহাট সরকারি আধুনিক হাসপাতাল অথবা বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপালে স্থানান্তর করা হয়। ফলে কালাইয়ের সাধারণ রোগীরা জেলা শহরসহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও প্রাইভেট চিকিৎসা কেন্দ্র নির্ভর হয়ে পড়েছেন। এতে করে হত দরিদ্র রোগীদের ভোগান্তির সীমা থাকে না। তাই সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি নিরসনে শূন্য পদে চিকিৎসক পদায়নসহ যাবতীয় সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মিঠুন সরকার বলেন, ২৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আমরা মাত্র ৮ জন চিকিৎসক কালাই উপজেলার জনসাধারণের সর্বাধিক সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এনেসথেসিয়া বিষেশজ্ঞ না থাকার ফলে হাসপাতালটিতে অপারেশনের সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ শয্যা হাসপাতালটি ১০০ শয্যা বেডের অনুমোদনের অপেক্ষায়।

জয়পুরহাট জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি আমরা অবগত। এ ব্যপারে চিকিৎসক সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রতি মাসেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। কিন্তু কোন সাড়া মিলেনি আজ পর্যন্ত। তবে মাঝে মধ্যে ২/১জন নতুন ডাক্তার যোগদানের খবর পাওয়া গেলেও কর্মস্থলে যোগদানের পূর্বেই অজ্ঞাত কারণে তারা বদলীর আদেশ নিয়ে ঢাকাসহ বড়বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে যোগদান করেন। ফলে মফস্বল এলাকাগুলোতে চিকিৎসক সঙ্কট থেকেই যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত বিভিন্ন হাসপাতাল ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যসেবায় অধিকতর উন্নয়নে উৎসাহিত করার জন্য এ বছর ২৭টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। সেরা পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র"র মধ্যে রয়েছে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার’ ২০১৮ প্রদান করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত