শিরোনাম

খাস পুকুর লিজে সেচ সুবিধাবঞ্চিত জনসাধারণ

প্রিন্ট সংস্করণ॥বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি  |  ০৮:০৩, এপ্রিল ২১, ২০১৯

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় বন্দোবস্ত বহির্ভূত খাস পুকুর লিজ দেয়ায় সেচ সুবিধা থেকে কৃষক সাধারণ বঞ্চিত হয়ে আসছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে। উপজেলার ৫ নং কোলা ইউনিয়নের চকতাহের মৌজার ১ নং খতিয়ানভুক্ত ৩৫৫ নং দাগে ৬৮ শতক পুকুরটি অবস্থিত। উক্ত পুকুর থেকে পানি সেচ দিয়ে স্থানীয় কৃষকরা রবি শস্য এবং ধান-গম ও অন্য ফসলাদি উৎপাদন করে আসছিল। আর এস ১ নং খতিয়ানে স্থানীয় সাধারণের জল সেচের প্রয়োজন হেতু পুকুরটি বন্দোবস্ত বহির্ভূত মর্মে উল্লেখ রয়েছে। অথচ উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি পুকুরটি মথুরাপুর ইউনিয়নের জালালপুর মধ্যপাড়া সমবায় সমিতি লি.-এর সভাপতি মো. ইমরান হোসেনের নামে ১৪২৪-১৪২৬ বঙ্গাব্দ তিন বছর মেয়াদে ৪০ হাজার ৫০০ টাকায় বন্দোবস্ত দেয়া হয় বলে উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্রে জানা যায়। সরেজমিন তদন্তকালে চকতাহের গ্রামের কৃষক তাইজুল ইসলাম, আব্দুল জলিল, চাঁন মিয়া, শওকত আলী মন্টুসহ গ্রামবাসী জানান তাদের বাপ-দাদার আমল থেকেই তারা ওই পুকুরের পানি সেচ দিয়ে রবি শস্য, ধান-গম ও অন্যান্য ফসলাদি উৎপাদন করে আসছিল। এ ছাড়া তারা বলেন, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরের আব্দুর রহিম স্বাধীন ২ বছর পূর্বে পুকুরে মাছ চাষ শুরু করে এবং পুকুর থেকে পানি না তোলার জন্য নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তারা আর পানি তুলতে পারছেন না। ফলে ফসলাদি উৎপাদন করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। জালালপুর মধ্যপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. ইমরান হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন উল্লেখিত পুকুর লিজ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে তিনি বলেন, ভাতশাইল গ্রামের ভাগিনা মো. বেলাল হোসেন তার নিকট থেকে কাগজপত্র নিয়ে কি করেছেন তা বেলাল জানে। বেলাল হোসেন জালালপুর মধ্যপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. ইমরান হোসেনের নামে পুকুর লিজ নেয়া ও আব্দুর রহিম স্বাধীন কর্তৃক মাছচাষ করার কথা স্বীকার করেন। আব্দুর রহিম স্বাধীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে পুকুরটি নির্ধারিত ডাক মূল্যের চেয়ে ৭ হাজার টাকা বেশি দিয়ে কিনে তিনি মাছচাষ করছেন এবং পানি না তোলার জন্য কাউকে নিষেধ করেননি বলে জানান। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম আলী বেগ তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত