শিরোনাম

মাধবদীর হরিজন সম্প্রদায়ের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস

প্রিন্ট সংস্করণ॥মাধবদী (নরসিংদী)প্রতিনিধি  |  ০৭:৫০, এপ্রিল ২১, ২০১৯

সৃষ্টির সেরা মানুষ। মানুষের ধ্যান, ধারণা, গুণে গুণান্বিত এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। সেই হিসাবে আমরা সবাই মানুষ। মানুষ হিসেবে ধর্ম, গোত্র সম্প্রদায় বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত রয়েছে। তবে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সুযোগ-সুবিধা বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে সব মানুষের। ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই অবহেলিত হিসেবে বসবাস করছে হরিজন সম্প্রদায়। নেই তাদের বাসস্থান, নেই শিক্ষার আলো, আবার কারো ভাগ্যে জুটেনি দুই বেলা ডাল-ভাত। তারা অনেকেই বাস করছেন দারিদ্র্য সীমার নিচে। বঞ্চিত হচ্ছেন নাগরিক সুবিধা থেকে। তেমনি পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন মাধবদীর হরিজন সম্প্রদায়। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ২০টি হরিজন পরিবারের দুর্দশা। হরিজনরা আবর্জনা পরিষ্কার ও মলমূত্র নিষ্কাশনের কাজে নিয়োজিত বলে সামাজিকভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত। তাদের অনেকে সুইপার, মেথর, ঝাড়ুদার প্রভৃতি নামে সম্বোধন করে ডাকে। যারা একদিন শহর পরিষ্কার না করলে ময়লার জন্য রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস আদালতে কাজ করা সম্ভব হত না, সমাজে তারাই আজ অবহেলিত। তাদের বসবাসরত কলোনিগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে অস্বাস্থ্যকর স্যাঁতস্যাঁতে নোঙরা পরিবেশ, নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, ড্রেনেজ, কলোনিগুলোতে কাঁচা-আধাপাকা, টিনশেড ও কিছু পাকা ঘর আছে। এক একটি ঘরের মধ্যে বাবা-মা, ভাই-বোন, ছেলে-ছেলে, বউ, মেয়ে-মেয়ে জামাইসহ সাত-আটজন লোক বসবাস করে। ওদের নিজস্ব ধর্মীয় উপাসনালয় বা মন্দির নেই কোথাও। এমনকি হরিজন সমপ্রদায়ের শিশুরা মেথরের ছেলেমেয়ে হিসেবে অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত। পড়ালেখার জীবনে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে কচি বয়সেই বড়দের মতো ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে লেগে যায়। সামাজিক দৃষ্টিতে হরিজনরা খুবই নীচু হওয়াতে মানুষের জীবনের মৌলিক অধিকারগুলো কখনোই এরা কল্পনা করতে পারে না। ন্যূনতম সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পায় না। অনেকে বিনাচিকিৎসায় মারা যায়। কিন্তু তাদের খবর রাখে না কেউ। অথচ তাদের ভোটাধিকার আছে। আছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার অধিকার।সর্দার গোলাপ চাঁন হরিজন (৭০) জানান, মাধবদীতে শত বছর যাবৎ বসবাস করেও স্থায়ী কোনো চাকরি মেলেনি। মাধবদী পৌরসভার মোট ১২টি ওয়ার্ডে ৬০ জন সুইপার কাজ করে। এ ছাড়া পাবলিক-প্রাইভেট সেক্টরে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে অনেকে নিয়োজিত। আবর্জনা, ড্রেনেজ পরিষ্কারসহ তিন-চার ধরনের কাজ করেন নারী-পুরুষ। কিন্তু এদের বেতন কাঠামো খুবই নগণ্য, দৈনিক ১০০ থেকে মাত্র ২০০ টাকা। কোনো কোনো স্থানে মাসিক এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা। তাদের চাকরি স্থায়ী নয়, মাস্টার রোলে কাজ করতে হয়। মেডিকেল ভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নেই। আমরা এ পেশায় নিয়োজিত বলে আমাদের কেউ বাসা ভাড়াও দিতে চায় না। দিনে দিনে হরিজন সমপ্রদায়ে বাড়ছে বেকারত্বের সংখ্যা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত