শিরোনাম

বরাটে খোলা আকাশের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

মেরামতের জন্য বরাদ্দ মাত্র ২৫ হাজার টাকা
দেবাশীষ বিশ্বাস, রাজবাড়ী  |  ১২:১৬, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

ঝড়ে উড়িয়ে নিয়েছে রাজবাড়ীর সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের পূর্ব উড়াকান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনের ছাদ। গত ৩১ মার্চের ঝড়ে বিদ্যালয়ের ছাদটি উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। প্রচন্ড রৌদ্রের মধ্যে পাঠদান করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে বৃষ্টি শুরুর সাথে সাথে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ এতেকরে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বিদ্যালয়ের অন্য কোন ভবন না থাকায় খোলা আকাশের নিয়ে চলছে পাঠদান। প্রচন্ড রৌদ্রে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। অন্যদিকে বৃষ্টি শুরু হবরা সাথে সাথে ছুটি দিবার কারণে ভিজে ভিজে বাড়ীতে যেতে হয় শিক্ষার্থীদের। যে কারণে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমে গিয়েছে। হঠাৎ বজ্র সহ বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীতের ছুটি দেয়ার কারণে বয়েছে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকি।

ঝড়ে বিদ্যালয়ের ছাদ উড়ে যাওয়ার পর সরকার থেকে মাত্র ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ স্থানীয়দের। শিক্ষার্থীদের দাবী স্থায়ীভাবে দ্রুত তাদের স্কুলের মেরামতের। বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সিয়াম বলেন, বিদ্যালয়ের ছাদ উড়িয়ে নিয়ে গেছে। এর মধ্যেও আমরা ক্লাস করছি। ক্লাস চলাকালীন ৪/৫দিন বৃষ্টি শুরু হলে স্যারেরা ছুটি দিয়েছে। আমরা ভিজতে ভিজতে বাড়ীতে গিয়েছি। আমাদের বই খাতা বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে।

এ নিয়ে ক্ষোভ স্থানীয় অভিভাবকদের। নাম প্রকাশ না করার সর্তে এক অভিভাবক বলেন, আজ প্রায় ১৬ দিন হতে চললো কিন্তু বিদ্যালয়টি ঠিক করা হয়নি। আপনার কাছ থেকে শুনলাম এখানে ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই টাকা দিয়ে ছাঁদ নির্মাণ করা হলে ছাট সহ বিদ্যালয় ভেঙ্গে যেতে বড় ক্ষতি হতে পারে আমি আমার ছেলেকে অন্য স্কুলে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছি।

পূর্ব উড়াকান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা খাতুন আন্না বলেন, ১৯৯৪ সাল থেকে চার বার বিদ্যালয়ের ছাদ উড়িয়ে নিয়ে গেলেও স্থায়ীভাবে কোন সমাধান হয় নাই। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে। নানা সমস্যার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এখন বৈশাখ মাস হঠাৎ করে ঝড় উঠে আসে, বজ্রপাত সৃষ্টি হয় সে সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম বিপাকের মধ্যে থাকতে হয়।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড এম এ খালেক বলেন, স্কুলটি বার বার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আমরা অনুদান প্রদান করছি। এবারো ঝড়ে ভেঙ্গে যাবার পর সরকার থেকে ২৫ হাজার টাকা মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাঈদুজ্জামন খান বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ সম্পর্কে অবগত রয়েছি। বিদ্যালয়ের বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে কথা হয়েছে। অস্থায়ী ভাবে মেরামতের জন্য ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। আরো টাকার প্রয়োজন হলে স্থায়ীদের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে মেরামতের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। আপাতত শিক্ষার্থীদের অন্য স্কুলে পাঠদানের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত