শিরোনাম

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ওষুধ পাচ্ছে না দরিদ্র রোগীরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥এম এ রহমান, যশোর  |  ০২:১৫, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ও পেইং ওয়ার্ডে রোগীদের সরকারি ওষুধ না দিয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আবার অনেক রোগীদের ওষুধ দেয়া হচ্ছে। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পানিঘাটা গ্রামের মৃত আলতাফের ছেলে হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ও গ্যাসের ইনজেকশন সরকারিভাবে সরবরাহ রয়েছে। তারপরও বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।এ সময় ওই জেলার শালিখা উপজেলার বাগডাঙা গ্রামের ইউনুচ মোল্যার ছেলে মিরাজ হোসেন (১৪) তারা দুই জনে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে যশোর সদর উপজেলার মামলা খোলা গ্রামের খয়বার শেখের ছেলে গোলাম রসুল (৪৫) ও চৌগাছা উপজেলার দক্ষিণ কয়ার পাড়া গ্রামের আরজুল্লাহ দফাদারের ছেলে আব্দুল মোতালেব (৫০), তারা দুজনে পুরুষ পেইং ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অসুস্থ হাবিবুরের ভাতিজা সেলিম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমার চাচা হাবিবুর রহমানকে ৮ এপ্রিল রাত ২টার দিকে কীটনাশক পান করার কারণে যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করি। সেই থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ও গ্যাসের ইনজেকশনসহ সকল প্রকার ওষুধ আমরা বাইরে থেকে ক্রয় করেছি। সব ওষুধ যদি বাইরে থেকে কিনতে হয়, তাহলে সরকারি হাসপাতালে এসে লাভ কী? যশোর ২৫০ শষ্যা জেনারেল হাসপাতালে সরকারি ওষুধ সরবরাহ আছে, কিন্তু আমাদের দেয়া হচ্ছে না। অসুস্থ মিরাজের পিতা ইউনুচ অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে মিরাজ জ্বরের কারণে অসুস্থ হলে গত ৯ এপ্রি বেলা ১টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করি। সেই থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত আমরা এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ও গ্যাসের ইনজেকশনসহ সকল প্রকার ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হয়েছি। অন্যদিকে পুরুষ পেইং ওয়ার্ডের ১৬ নাম্বার বেডের রোগী গোলাম রসুলের স্ত্রী অঞ্জনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী গোলাম রসুলের শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা নিয়ে ৮ এপ্রিল যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ পেইং ওয়ার্ডে ভর্তি করি? সেই থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ পাইনি। হাসপাতালের পুরুষ পেইং বেড ১৮ নম্বারে ভর্তি আব্দুল মোতালেবের বোন সোনালী অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই আব্দুল মোতালেব হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর ৮ এপ্রিল সকালে সাড়ে ১০টায় যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ পেইং ওয়ার্ডে ভর্তি করি। সেই থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত একটা গ্যাসের ক্যাপসুল পেয়েছি। হাসপাতালে সরকারি সাপ্লাই এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ও গ্যাসের ইনজেকশনসহ সকল প্রকার ওষুধ বাইরে থেকে এনে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।যশোর জেনারেল হাসপাতালে এন্টিবায়েটিক ইনজেকশন ও গ্যাসের ইনজেকশন আছে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ নাজমা খাতুন, পুরুষ পেইন্ডিং ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ সেবিকা শেফালী। যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ বলেন, এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন ও গ্যাসের ইনজেকশন আগে সরবরাহ ছিল। বর্তমানে পরিমাণে একটু কমে যাওয়ার কথা? গতকাল শনিবার অফিসের খাতাপত্র দেখতে হবে যে, ওষুধ সরবরাহ আছে কি না। ওষুধ আনতে ঢাকায় চাহিদা দেয়ায় হয়েছে। ওইসব ওষুধ এলে আবার রোগীদের দেয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত