শিরোনাম

সিলেটে বন্ধ হচ্ছে না নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি

সলিম আহমদ সলু, সিলেট প্রতিনিধি  |  ১৬:৩৯, মার্চ ২৩, ২০১৯

বার বার অভিযান চালিয়েও সিলেটে নকল ও ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। বিক্রি বন্ধ করা যাচ্ছেনা এসব বিঁষের। সিলেট নগরীর বিভিন্ন ফার্মেসীতে লুকিয়ে বিক্রি চলছে ভেজাল ও নকল ঔষধ। কি কারণে তা বন্ধ করা যাচ্ছেনা, এর উত্তরও পাওয়া গেছে ভোক্তভোগীদের কাছ থেকে।

মামলার দীর্ঘসূত্রতা আর আইনের কঠোর প্রয়োগের অভাবে এমনটি হচ্ছে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগীরা। এক্ষেত্রে প্রশাসনকে তাদের নিজ দায়িত্বে কাজ করার সুযোগ দেয়ার পরামর্শ তাদের।

এদিকে প্রশাসন বলছে, অব্যাহত অভিযানের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান সম্ভব। তবে প্রশাসনের একটি সুত্র থেকে জানা যায়, মামলার দীর্ঘসূত্রতা আর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু প্রশাসনও থেমে নেই। যেখানে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানে অভিযান হচ্ছে।

সিলেট নগরীর বিভিন্নস্থানে প্রয়োজনের সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিকটতম ফার্মেসী থেকে ওষুধ কিনেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু ফার্মেসী গুলোতে ভেজাল ও নকল ঔষধ বিক্রির কারনে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা হুমকির মুখে পড়ছে।

সিলেট নগরীর কয়েকটি ফার্মেসীতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ঔষধের কৌটার গায়ে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে গুণাগুণের আকর্ষণীয় বর্ণনা। কিন্তু এসবই তাদের নিজের বানানো প্রতারনার ফাঁদ। প্রতারক চক্রের সদস্যরা চীন ও ভারত থেকে ঔষধ চোরাইপথে আমদানি করে ইচ্ছামতো দাম লাগিয়ে বিদেশি সিল মেরে বিক্রি করছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ মানুষ হাজার হাজার টাকা খরচ করে এসব ঔষধ কিনে কিন্তু তাতে রোগ সারেনা। এসব প্রতারকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সাধারন জনগনের দাবী। একশ্রেণির লাইসেন্সধারী বা লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসী অনবরত ভেজাল ঔষধ বিক্রি করছে যাহা উদ্বেগজনক। এসব ফার্মেসী সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু তাদের দাপট ও প্রভাব অনেক বেশি।

আর সে কারনে ভাল ফার্মেসীগুলোর দুর্নাম হচ্ছে। তাদের এমন প্রতারনার বিষয়ে কেউই মুখ খুলতে পারেনা কারন এসব ফার্মেসীর মালিক কোন না কোন দল বা গ্রুপের ক্যাডার। তাই ভয়ে নিরবে সয্য করছেন জনগন। সিলেট নগরীর পাশাপাশি গ্রাম-গঞ্জের হাট-বাজারে ভেজাল ঔষধের ছড়াছড়ি খুব বেশী।

অশিক্ষা ও অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্র ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে নির্দ্বিধায়। বলাবাহুল্য, এখন অনেক রোগের মূল কারণই হল এই ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ কিংবা ঔষধের ভুল প্রয়োগ।

অশিক্ষিত কম্পাউন্ডার, নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ, ব্যবহারপত্র ছাড়া বিক্রি এবং ভুল প্রয়োগ, এসবের কারনে একদিকে যেমন লোকজন দিনে দিনে মৃত্যুকে ডেকে আনছেন, অপরদিকে প্রতারক ফার্মেসীর মালিকগন রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাচ্ছেন।

একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্য মতে, দেশে প্রতিবছর ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধের বার্ষিক বিক্রি প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার উপরে, যা মোট বিক্রির প্রায় ২০ শতাংশ।

এ ব্যাপারে ডাক্তারদের পরামর্শ হল, অভিজ্ঞ ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ভালো কোম্পানির ঔষধ লেবেলের নাম, মূল্য ও মেয়াদ উত্তীর্ণেও তারিখ ইত্যাদি দেখে সঠিকভাবে ক্রয় করা। এবং ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলা।

ভেজাল, নিম্নমান, নকল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধের ব্যাপারে ক্রেতাদের এখন থেকে সতর্ক হতে হবে বলেও অনেকের মতামত। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে শাস্তির মাত্রা বাড়ানোর এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত