শিরোনাম

এক বধূর তিন স্বামী, সিলেটে তোলপাড়

সলিম আহমদ সলু, সিলেট  |  ১২:১৭, মার্চ ২৩, ২০১৯

অনেকটা ‘এক ফুল দু মালি’র ছবির কাহিনির মতো। ছবিতে কাল্পনিক হলেও এটা বাস্তব ঘটনা। আর ঘটনা নিয়ে চলছে পুরো শহর জুড়ে গুঞ্জন। ধরে নেয়া যায় “টক অব দ্যা টাউন”। ঘটনাটি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে। আর কাঙ্কিত সেই নারী হলেন আমেরিকান গ্রিন কার্ডধারী এক প্রতারক সাবানা আক্তার। এক স্বামীকে তালাক না দিয়ে অন্য ব্যক্তিকে নিয়ে ঘর সংসারের ঘটনা এলাকার লোকজনকে ভাবিয়ে তুলেছে। সাবানার সৌদি আরব প্রবাসী স্বামী তার স্ত্রীকে ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। স্থানীয় মুরুব্বিদের কাছে অভিযোগ করেও সৌদি প্রবাসী স্বামী কোন সুরাহা পাচ্ছেন না। বরং তাকে ও তার পরিবারকে নানা ভাবে হয়রানীর হুমকী দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার গাজিনগর এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে সৌদি প্রবাসী মোঃ সুহাগ মিয়া ইসলামী শরিয়া মোতাবেক দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের জগদল গ্রামের আব্দুল খালিকের কন্যা সাবানা আক্তারকে ২০১২ ইংরেজি সনের ০৫ এপ্রিল ৩ লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্য্যক্রমে বিয়ে করেন। যা দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজারের কাজী অফিসে রেজিষ্ট্রি হয়। বিয়ের পর গোপনে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। সাবানার আত্বীয় রেনু বেগম ও রেবা বেগমের সহযোগিতায় সুহাগ মিয়া প্রায়ই জগদলে সাবানার বাড়িতে আসা যাওয়া করত।

এভাবে লুকিয়ে চলতে থাকে তাদের সংসার, ২০১৩ সালে তাদের আমেরিকার ভিসা হলে পরিবার থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয় চাচাত ভাই সাব্বিরকে বিয়ে করে আমেরিকায় নিতে হবে। আর যদি চাচাত ভাই সাব্বিরের কাছে সাবানা বিয়ে না বসে তাহলে তাদের পরিবারকে আমেরিকা নেয়া হবে না। এমতাবস্থায় সাবানা ও তার ভাই কাউসার স্বামী সুহাগ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে বলেন তাদেও বৃহৎ স্বার্থের জন্য সাব্বিরের কাছে বিয়ে বসতে হচ্ছে, সাব্বিরকে আমেরিকা নিয়ে ডিভোর্স দিয়ে সুহাগকে নিয়ে যাবে, এই শর্তে সুহাগ রাজি হন।

কথামত সাব্বিরকে বিয়ে করে আমেরিকা নিয়ে ডিভোর্স দিয়ে দেন সাবানা, কিন্তু ডিভোর্স দিয়ে প্রতারনার আশ্রয় নেন সাবানার পরিবার। সুহাগের সাথে যোগাযোগ না করে গোপনে দেশে এসে জগদল গ্রামের মরহুম আব্দুস সালামের পুত্র নাদিমের সাথে তড়িঘড়ি করে দিরাই বাগান বাড়ি সেন্টারে বিয়ে বসেন সাবানা। বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে দেখে আকাশ ভেঙে মাথায় পরে সুহাগ মিয়ার।

এ ব্যাপারে সুহাগের পিতা তালিমুল ইসলাম বলেন, আমরা এখন কি করব, আমার পুত্রবধূর পিত্রালয়ের ক্ষমতা আছে বিধায় আমার ছেলেকে ডিভোর্স না দিয়ে অন্যত্র বিয়ে দিতে পেরেছে। তারা মানুষ কিনা আমার সন্দেহ আছে। তারা যদি মানুষ হতো এবং মুসলমান হতো তাহলে এরকম জঘণ্য কাজ তারা কখনও করতে পারতোনা। তিনি আরও বলেন, আমরা সাবানার এলাকায় যাবো, যদি সমাধান না হয় তাইলে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত