শিরোনাম

নিজ দেশে পরবাসী মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম

প্রিন্ট সংস্করণ॥সলিম আহমদ সলু, সিলেট  |  ০২:১৭, মার্চ ২১, ২০১৯

একখণ্ড খাস জমির স্বপ্ন নিয়ে আশায় বুক বেধে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও একটু মাথাগোঁজার ঠাঁই হয়নি তার। একাত্তরে যেমন গৃহহীন অবস্থায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে আজো তেমনি গৃহহীন অবস্থায় জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে। অবর্ণনীয় কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি। জন্মভূমি কুমিল্লায় হলেও তিনি মুক্তিযুদ্ধের অনেক আগেই মা-বাবার সাথে চলে আসেন সিলেটে। সিলেট এসে তার বাবা আশ্রয় নেন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরিফগঞ্জ ইউনিয়নস্থ ইসলামপুর গ্রামে। পিতা মহররম আলীর সাথে সিলেট আসার পর সিরাজুল ইসলাম যোগ দেন ইপিআরএ। তিনি জানান, ভারতের আসাম রাজ্যের বিভিন্ন ক্যাম্পে ট্রেনিং শেষে চট্টগ্রাম সীমান্ত এলাকায় গেরিলা হামলার দায়িত্ব পালন করেছিলেন তারা কয়েকজন। তিনি ৭১ এর সালের স্মৃতিচারণ করে বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি দেশ মাতৃকার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২৫ মার্চ কাল রাতের পরপরই তারা মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। জীবন বাজি রেখে পুরো নয় মাস যুদ্ধের ময়দানেই ছিলেন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর দেশে ফিরে বাবাকে আর পাননি। কিন্তু তাতেও তার কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি গর্ব করে বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা এটাই আমার বড় পাওয়া। তবে তার আক্ষেপ রয়েছে, তিনি বললেন, আজো আমি ঘরবাড়িহীন একজন মানুষ। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি জীবন বাজি রেখে। কিন্তু নিজের জীবন যুদ্ধ চালাতে আজ আর পারছি না। মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেলেও তার নেই কোনো নিজস্ব আশ্রয়। সিরাজুল ইসলাম পরের আশ্রয়ে থেকে মরতে চান না। জানালেন, ৬ সন্তানের জনক তিনি। সংসারে আছেন স্ত্রী আর দুই অবিবাহিত মেয়ে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রাপ্ত ভাতা দিয়ে চলে সংসার। ৬৭ বছর বয়সে তিনি বর্তমানে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গৃহবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘স্বাধীন এই দেশে আমার মাথাগোঁজার ঠাঁই নেই এর চেয়ে দুঃখ কি আর থাকতে পারে।তিনি সরকারের নিকট একখণ্ড খাস জমি ও শেখ হাসিনার মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া উপহার বীর নিবাস পাওয়ার আবেদন করে বলেন, ‘মেয়েদের বিয়ে দিয়ে যেন স্বাধীন দেশে নিজগৃহে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারি এটাই আমার চাওয়া।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত