শিরোনাম

বাসচাপায় সহপাঠীর মৃত্যু : বুধবার থেকে আন্দোলন চলবে

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২০:১১, মার্চ ১৯, ২০১৯

ঢাকার নদ্দায় বাসচাপায় সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদে দিনভর বিক্ষোভের পর সন্ধ্যায় সড়ক থেকে সরে গেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা বুধবার সারাদেশে ক্লাস বর্জন ও সড়ক অবরোধের আহ্বান জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ শেষে সাংবাদিকদের পরবর্তী কর্মসূচি জানান বিইউপি শিক্ষার্থী মায়েশা নূর।

এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘বুধবার থেকে আমাদের আন্দোলন চলবে। সেদিন সকাল ৮টা থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন করার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনারা আপনাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বর্জন করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেবেন।’

মায়েশা বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন গত বছরের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ধাবাহিকতা। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আমাদের এই আন্দোলনে গত বছরের মতো কোনো হামলা ও রক্তাক্ত চেহারা দেখতে চাই না। আমরা পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে নিরাপত্তা চাই। আমাদের আন্দোলনের সময় আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় আবরার আহম্মেদ চৌধুরীর মৃত্যুর প্রতিবাদে সকাল থেকে রাজধানীর নর্দ্দা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে ইস্টওয়েস্ট ও নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়।

প্রথমে ১২ দফা দিলেও পরে তারা আট দফা দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত নিজেদের দাবিতে অনড় থাকলেও ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। তবে বুধবার সকাল থেকে আবারও তারা রাস্তায় নামার ঘোষণা দেয় তারা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে মায়েশা নূর বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আট দফা দাবি দিয়েছি। এটা গণমাধ্যমে চলে এসেছে। আমাদের এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন না। আমাদের এই আন্দোলনে রাজনৈতিক কোনো দল বা ব্যক্তিকে গ্রহণ করবো না। সবাই নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেবেন। আমরা আমাদের অভিভাবকদের এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করছি।’

সকালে মেয়র আতিকুল গেলে তার কাছে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ ছাড়াও বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- আবরারকে চাপা দেওয়া বাসের চালককে ১০ দিনের মধ্যে ফাঁসি দিতে হবে, সুপ্রভাত বাসের রুট পারমিট বাতিল, সিটিং সার্ভিস বন্ধ, স্টপেজের ব্যবস্থা করা, চালকদের ছবি ও লাইসেন্স গাড়িতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করা, প্রতিটি জেব্রা ক্রসিংয়ে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা এবং ট্রাফিক পুলিশের ‘দুর্নীতি’ বন্ধ করা।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত