শিরোনাম

চাটমোহরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন : খোলা মাঠে শিক্ষাগ্রহণ শতাধিক শিক্ষার্থীর

শিমুল বিশ্বাস,চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  |  ১৭:০৪, মার্চ ১৫, ২০১৯

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, স্কুলে নেই টয়লেট, নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। ভবন মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে করে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ১০৪ নং বারকোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। তবে ঝুঁকির পরেও বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে ক্লাস রুমে বসিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে বেশ কিছু শিক্ষার্থী স্কুল ভবনের সামনে খোলা মাঠে বেঞ্চে বসে স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ইয়াসমিন খাতুনের কাছে পাঠ গ্রহণ করছেন। স্কুল ভবনের পেছনে আশরাফ আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির পুকুর।

সেই পুকুরের পাড় ভেঙ্গে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি। ১৯৭২ সালে স্থাপিত দীর্ঘ পুরোনো এই স্কুলটি ২০১৩ সালে সরকারি করণ হয়। ১৯৯৪ সালে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেখানে একটি পাকা ভবন নির্মাণ হয়। বর্তমানে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ওই স্কুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে।

এছাড়া স্কুলে নেই টয়লেট, নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা। এখানেই শেষ নয়, চাটমোহর-পার্শ্বডাঙ্গা প্রধান সড়কের পাশে বিদ্যালয়ের সামনে সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রায়শই ঘটে থাকে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

তবে যে কোন মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পুকুরে পড়ে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। এদিকে রাস্তা থেকে ভবনটি অনেক নিচু হওয়ার কারণে স্কুলের চারিদিকে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। বর্ষকালে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে জানান বেশ কয়েকজন অভিভবক।

প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, ‘পুকুর পাড় ভেঙ্গে গিয়ে স্কুল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে কিছু শিক্ষার্থীদের বাইরে বসিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে। এছাড়া ওয়াশব্লক ও টয়লেট না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গত বছর ভবন মেরামতের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন দেওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নানা সমস্যা নিরুপণ করেছি। তবে বড় সমস্যা পুকুড় পাড় ধসে যাওয়ার কারণে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত