শিরোনাম

জ্বালানি কাঠ ব্যবহার হচ্ছে ইটভাটায়

মো. আব্বাস উদ্দিন (শেরপুর) ঝিনাইগাতী  |  ১২:০৫, মার্চ ১৫, ২০১৯

শেরপুর জেলায় বন বিভাগের ৩টি রেঞ্জ রয়েছে। এই ৩টি রেঞ্জের অধীনে আছে ১০টি বিট অফিস। রাংটিয়া রেঞ্জের অধীনে ৩টি বিট যথাক্রমে রাংটিয়া বিট, গজনী বিট ও তাওয়াকোচা বিট। মধুটিলা রেঞ্জের অধীনে সমশ্চুড়া বিট, সন্ধ্যাকুড়া ও বাতকুচি বিট অফিস রয়েছে। বালিঝুড়ি রেঞ্জের ৪টি বিট রয়োছে যথাক্রমে বালিঝুড়ি বিট, মালাকুচা বিট, ডুমুরতলা বিট ও কর্ণঝোড়া বিট রয়েছে। উক্ত ১০টি বিটের বনাঞ্চলের বনভূমির আওতার মধ্যে নানা প্রজাতির বৃক্ষ ছিল। দীর্ঘদিন থেকে এই বনভূমির বিটগুলো থেকে কাঠ পাচাকারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বৃক্ষ নিধন চলছে। প্রতিদিন এই ৩টি রেঞ্জের বিটগুলো থেকে গাছ কেটে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে হাজার হাজার মণ লাকরি পাচার হচ্ছে। পাহাড়ের এই জ্বালানি কাঠ দিয়ে শেরপুর-জামালপুরের শতাধিক ইটভাটা চলছে। জানা যায়, এসব অবৈধ কাঠ পাচারের জন্য কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেটেরা কৌশলে বিভিন্ন ভুয়া কাগজ-পত্র তৈরি করে কাঠ পাচারের পথ উন্মুক্ত করেছে। সূত্রমতে জানা যায়, উল্লেখিত লড বিডার অথবা চেয়ারম্যানদের কাছে বিষয়গুলো জানতে চাইলে চেয়ারম্যান জানায়, সামান্য কিছু লোক আসলে তাদের নিজস্ব বাগান থাকলে যাচাই-বাছাই করে ২/১টার অনুমতি দিয়ে থাকি। অপরদিকে লড বিডাররা জানায়, আমরা যখন লড ক্রয় করে শুধুমাত্র কাটার সময় কাঠ রেখে জ্বালানি কাঠগুলো লাকার করে বাইরে বিক্রি করে থাকি। কিন্তু প্রশ্ন হলো প্রতিনিয়ত তাহলে এই জ্বালানি কাঠ আসে কোথা থেকে? যেভাবে প্রতিনিয়ত জ্বালানি কাঠ পাচার হচ্ছে অতি অল্প সময়ে বনাঞ্চলগুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, সরকার এই বন উজারের কবল থেকে রক্ষার জন্য সামাজিক বনায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সামাজিক বনায়নের অংশিদার হিসেবে ওই এলাকার স্থায়ী দরিদ্র, ভূমিহীন বাসিন্দারা ওই সামাজিক বনায়নের অংশীদার হওয়ার কথা। কিন্তু সরকারের এই নিয়ম নীতিমালার তোয়াক্কা না করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ধর্ণাঢ্য প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সম্পূর্ণ দলীয় পর্যায়ের লোকজন এ সামাজিক বনায়নের অংশীদার করা হয়। অভিযোগে প্রকাশ, অসাধু বন কর্মকর্তা ও অংশীদারদের যোগসাজশে এসব বনায়ন থেকে প্রতিনিয়ত বৃক্ষ কেটে কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইটভাটাগুলোতে দেয়া হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান করতে হলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী স্থানীয় বাসিন্দাদের সামাজিক বনায়নের অংশীদার করার মাধ্যমেই বৃক্ষ নিধন বন্ধ হতে পারে এমন ধারণা বিজ্ঞ মহলের। পরিবেশবিদরা মনে করেন, বন বিভাগের ব্যাহত জমি উদ্ধার করে উদ্ধারকৃত ভূমিতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা জরুরে প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে, তেমনি বন বিভাগের বিশাল অরণ্যের গারো পাহাড়ের ঐতিহ্য ফিরে পাবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত