শিরোনাম

সিদ্ধান্ত হয়নি মুনাজাত ও বয়ান নিয়ে

টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতের কাজ চলছে দিন-রাত
প্রিন্ট সংস্করণ॥আব্দুল লতিফ রানা  |  ০০:৫২, ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০১৯

বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আয়োজক কমিটির দুইপক্ষ টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে ৫৪তম বিশ্বইজতেমার মাঠ প্রস্ততির কাজ জোরেশোরে শুরু করেছে। ১০টি শর্ত মেনে এবারের বিশ্ব ইজতেমার ময়দানের প্রস্তুতি কাজ গত বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ইজতেমা। চলতি বছর বিশ্ব ইজতেমা চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে। এটি ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। বিশ্ব তাবলিগ জামাত ওই বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ সরেজমিন ঘুরে ও মাঠের উন্নয়ন কাজে অংশ নেয়া মুসল্লিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা ঘিরে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়া হলেও দু’পক্ষের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কোনো পক্ষই ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতি কাজে অংশগ্রহণ করেনি। প্রতি বছর ইজতেমা অনুষ্ঠানের তিন মাস আগে থেকে মাঠের প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর মাত্র আটদিন আগে ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। একাধিক মুসল্লি জানান, চলতি বছরের বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে মাঠ প্রস্তুতির কাজ বেশ জোরেশোরে শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পেশায় কর্মরত যুবক, ছাত্র, শিক্ষক ও বিভিন্ন জামাতে অংশ নেয়া ধর্মপ্রাণ শত শত মুসল্লি মাঠ প্রস্তুতিমূলক কাজে বিনা পারিশ্রমিকে দিয়ে যাচ্ছেন। আর ইজতেমা মাঠের বিদেশি নিবাসের প্রবেশ গেটসহ ১৭টি প্রবেশ গেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ইজতেমার মুরব্বিদের গতকাল বৃহস্পতিবার পাহারা দিতে দেখা গেছে। টঙ্গী পূর্ব মডেল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত বুধবার বিকেলে মাঠে ইজতেমা সংক্রান্ত ত্রিপক্ষীয় এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় এমপি আলহাজ মো. জাহিদ আহসান রাসেলের নেতৃত্বে বিশ^ তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা (জোবায়েরপন্থি), ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, মাহফুজুর রহমান, মুফতি নেছার উদ্দিন, মুফতি নূরুল ইসলাম, মোস্তফা। সাদপন্থিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মুহিবুল্লাহ, হাজী মোহাম্মদ হোসেন, হারুন অর রশিদ, শহীদ উল্লা, মনির হোসেন, মুফতি ফয়সাল ও আতাউল্লাহ। ওই বৈঠকে দুই পক্ষকে নিয়ে দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মো. জাহিদ আহসান ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতি কাজের উদ্বোধন করেন। বৈঠক শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মো. জাহিদ আহসান রাসেল ইজতেমা মাঠে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে তুলে ধরেন। সিদ্ধান্ত গুলোর মধ্যে রয়েছে আগামী ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি মাওলানা জোবায়েরের অনুসারীরা ইজতেমা শুরু করে ১৬ ফেব্রুয়ারি মাগরিবের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ করে চলে যাবেন। এ ছাড়া, মাওলানা সাদ অনুসারীরা ১৭ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর ইজতেমা মাঠে প্রবেশ করবেন এবং ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবেন। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি সাদপন্থি ওয়াসিফুল ইসলাম অনুসারীরা ইজতেমা মাঠে প্রবেশ করে তাদের দুইদিনের ইজতেমার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আর মাওলানা জোবায়ের অনুসারীরা গত বুধবার থেকে ইজতেমা মাঠ প্রস্তুতি কাজ শুরু করেছেন। তা ছাড়া, মাওলানা জোবায়েরপন্থিরা ১৬ ফেব্রুয়ারি বাদ মাগরিব আখেরি মোনাজাত শেষ করে মাঠ ছেড়ে চলে যাবেন। জোবায়েরপন্থি লোকজন প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাদপন্থিদের কাছে মাঠ বুঝিয়ে দেবেন। আবার দুই পক্ষের ইজতেমা শেষে ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতি কাজে লাগানো সরঞ্জামাদির বিষয়ে দুই পক্ষের মুরব্বিরা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। ইজতেমা শেষে ময়দানে মুসল্লিদের ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া বাকি সব মালামাল স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবে। মাওলানা জোবায়ের অনুসারী বিদেশি মেহমানরা দুইদিন ইজতেমা শেষে উত্তরা হাজীক্যাম্পে অবস্থান করবেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন না। ইজতেমা চলাকালীন উভয় পক্ষের তাবলিগ অনুসারী মুসল্লিরা টঙ্গীর আশপাশ এলাকার মসজিদে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করবেন।উল্লেখ্য, তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের বিরোধের কারণে টঙ্গীর ময়দানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজন মুসল্লি প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়। এরপর থেকে বিশ্ব ইজতেমার অনুষ্ঠান অনিশ্চত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত