শিরোনাম
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু বিশ্ব ইজতেমা

বিশ্ব ইজতেমা : আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করবেন কোন মাওলানা

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:১৪, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৯

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম পর্বের তিনদিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রস্ততিমূলক সভা গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিশ্ব ইজতেমায় বয়ান আর মুনাজাত কে করবেন, তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি সম্মিলিতভাবে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এ ব্যাপারে তাবলিগ জামাতের নেতারা সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানেই বিশ^ ইজতেমার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সার্বিক নিরাপত্তা, ইজতেমায় আগত বিদেশি মেহমানদের ভিসার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিভাগীয় কমিশনার ও গাজীপুর জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে মাঠ পরিষ্কার এবং যাবতীয় ইউটিলিটিজের ব্যবস্থা করা হবে। তবে, ইজতেমার বাকি কাজ কীভাবে হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে একটু মতবিরোধ ছিল। তারা ঐক্যমত হয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। তারপর তাদের মতামত নিয়ে ইজতেমার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত তা ঠিক আছে।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেখুন সারা বিশ্বেই তাবলিগ জামাতের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও বাদ যায়নি। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাবলিগ জামাত আগের মতোই একসঙ্গে থাকবে এবং এবারের ইজতেমাও একই দিনেই হবে। আমরা সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা যে যাই বলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সবার কথা শুনেছি এবং একমতে পৌঁছেছি। দুপক্ষ মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে ইজতেমা হবে। এখন আমাদের পক্ষ থেকে দায়িত্ব হচ্ছে ইজতেমায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয় সেই ব্যবস্থা করা। মাওলানা সা’দ এবার আসবেন কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বলেন, এটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।ধর্র্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, দ্বন্দ্ব নিরসনের পর তাবলিগ জামাতের দুপক্ষ মিলে ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ইজতেমা আয়োজন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই তিনদিন একসঙ্গে টঙ্গীর ময়দানে অন্যান্য বছরের মতো বিশ্ব ইজতেমা সুন্দরভাবে পালিত হবে।মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক বলেন, আলোচনা চলছে, সমস্যার সমাধান হবে। কে বয়ান করবেন, কে মুনাজাত করবেন এবং কে পরিচালনা করবেন এগুলো নিয়ে ঝামেলা আছে। আর তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আলোচনা চলছে।ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, এলিট ফোর্স র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। গত ২৯ জানুয়ারি সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সভায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় ইজতেমায় বিবদমান দুপক্ষের সমানভাবে অংশগ্রহণ ও ঐক্যবদ্ধভাবে তিনদিনের এই ইজতেমা আয়োজনে করণীয় নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ইজতেমা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতসহ মুসল্লিদের বিভিন্ন সেবা বাস্তবায়নের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই সভায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইজতেমা ময়দানের আনুষাঙ্গিক প্রস্তুতিমূলক যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়।উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জামিল আহমেদ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (অপরাধ) শরিফুর রহমান, গাজীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফ উদ্দিন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমীরুল ইসলাম খানসহ জেলা পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। ওই সভায় মাওলানা সাদপন্থিদের মধ্যে মাওলানা হারুনুর রশিদ, ইঞ্জিনিয়ার মহিবুল্লাহ, মুফতি মিজানুর রহমান, ডা. আব্দুল আজিজ, অধ্যাপক আব্দুল হান্নান এবং মাওলানা যুবায়েরপন্থিদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুল হক, ডা. আলী আজগর অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী বিশ^ ইজতেমা মাঠে দুপক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটে। টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্বের মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় সম্মেলন ‘বিশ্ব ইজতেমা’র আয়োজনও করে আসছিল বিশ^ তাবলিগ জামাত। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সেখানে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে অঞ্চলভেদে বিশ^ ইজতেমা দুই পর্বে করা হয়। কিন্তু এবার দুপক্ষ চলতি মাসে আলাদাভাবে ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করে। নির্বাচনের আগে সরকার দুপক্ষের সঙ্গে সভা করে ইজতেমা স্থগিত করে। সরকারের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, নির্বাচন শেষে দুপক্ষের সঙ্গে বসে পরবর্তীতে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করার কথা ছিল বলে তাবলিগের মুরব্বিরা জানিয়েছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত