শিরোনাম

‘ক্রিসমাস ট্রি’কে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়

প্রিন্ট সংস্করণ॥জিয়া উল ইসলাম  |  ০০:৫৪, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮

আজ ২৫ ডিসেম্বর শুভ বড়দিন। বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রে বড়দিন একটি প্রধান উৎসব। এই দিন সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়ে আসছে বিভিন্ন দেশে এমনকি অ-খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশেও মহাসমারোহে বড়দিন উদযাপিত হতে দেখা যায়। সারা বিশ্বের খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা এই দিনকে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন বা বড়দিন হিসাবে উদযাপন করে থাকে। এই দিন সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং ঈশ্বর ত্রি-ব্যক্তি পরমেশ্বর তার দ্বিতীয় ব্যক্তি এবং পুত্র যিশুর মধ্য দিয়ে মানবদেহ ধারণ করেছেন বলেই খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস। বড়দিন উৎসব ক্রিসমাস ট্রিকে ঘিরেও শুরু হয়। বড় বড় হোটেল বাসাবাড়িতে ক্রিসমাস ট্রি দেখা যায়। ক্রিসমাস ট্রি হিসেবে যে গাছটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় সেটি হলো ফার গাছ। এটি মূলত দেবদারুজাতীয় গাছ। এই গাছ বিভিন্ন রংয়ের আলোক সজ্জা আর বিভিন্ন দ্রব্যে সাজিয়ে রাখা হয়। বড়দিনে ক্রিসমাস ট্রি সাজানো এবং উপহার দেওয়ার শুরু কীভাবে হয় তার লিখিত কোনো দলিল নেই। এ নিয়ে প্রচলিত আছে বিভিন্ন গল্প। একটি গল্প হলো রোমের এক গরিব কাঠুরের ঘরে একদিন এক শীতার্ত শিশু হাজির হলো। কাঠুরে দম্পতি ছিল যিশুভক্ত। তারা শিশুটিকে আদর করে খাওয়ালেন, নরম  বিছানায় শুতে দিলেন। সকালে ওই শিশু দেবদূতের রূপ ধরে বলল, ‘আমিই যিশু’। তাকে আদর-আপ্যায়ন করার জন্য কাঠুরে দম্পতিকে তিনি একটি গাছের ডাল দিলেন এবং তা মাটিতে পুঁতে রাখতে বললেন। এরপর ক্রিসমাসের দিন দেখা গেলো ডালটি সোনালি আপেলে ভরে গেছে। তখন তারা এ গাছের নাম দেন ক্রিসমাস ট্রি। আর এভাবে এই গাছের ব্যবহার চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো! তবে চিরসবুজ এ ক্রিসমাস গাছটি ব্যবহার শুরু হয়েছিল যিশুখ্রিস্টের জন্মের আগেই। প্রাচীনকালে শীতপ্রধান দেশের মানুষ পাইন বা দেবদারু গাছকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে মনে করতো। তখনকার মানুষের ধারণা ছিল, বাড়ির আঙিনায় চিরসবুজ এই গাছগুলো থাকলে ভূত-পেতনিসহ কোনো অশুভ শক্তি বাড়ির ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে পারে না! কিন্তু বর্তমানে আমরা যে ক্রিসমাস ট্রি বড়দিনে ব্যবহার করতে দেখি সেই ক্রিসমাস ট্রি প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ষোড়শ শতাব্দীর দিকে জার্মানিতে। সে সময় জার্মান খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা বড়দিনের উৎসবে বাসায় কাঠ ও সবুজ পাতার তৈরি একধরনের ক্রিসমাস পিরামিড রাখতো। ক্রিসমাস ট্রি সাজানো হয় আপেল, পাখি, মোমবাতি, ঘুঘু, মাছ, ফুল, ফল, স্বর্গদূত আর রঙবেরঙের কাগজ ও বাতি দিয়ে। ঝাউজাতীয় গাছও ক্রিসমাস ট্রি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ক্রিসমাস ট্রি সত্যিকারের হতে পারে আবার সেটি কৃত্রিমও হতে পারে। ক্রিসমাস ট্রিতে আলোর ব্যবহার ছাড়াও বিভিন্ন অর্নামেন্ট দিয়ে সাজানো হয়। এ গাছের ওপর একটি তারা বা স্বর্গদূত বসানো হয়। এই স্বর্গদূতটি বেথেলহেমে জন্ম নেয়া যিশুখ্রিস্টের প্রতীক। বড়দিনের ক্রিসমাস ঘিরে যে উৎসব খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্য অনুসারে, ২৪ ডিসেম্বর ক্রিসমাস সন্ধ্যার আগে ট্রি সাজানো যায় না। আর এটি সরিয়ে ফেলা হয় ১২তম রাতে অর্থাৎ ৬ জানুয়ারি। অনেকেই মনে করেন এই নিয়ম না মানা হলে অমঙ্গল হতে পারে। তবে প্রথাগতভাবে না হলেও এখন ক্রিসমাস ট্রি আরও আগে সাজানো হয়। জার্মানিতে এটা ঐতিহ্য অনুসারে ২৪ ডিসেম্বরে সাজানো হয় এবং ৭ জানুয়ারি খুলে ফেলা হয়। ক্যাথলিকদের রীতিতে এটি জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত সাজিয়ে রাখা হয়। অস্ট্রেলিয়ায় এটি ডিসেম্বরের শুরুতে সাজিয়ে গ্রীষ্মের ছুটি পর্যন্ত রাখা হয়।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত