শিরোনাম

পবিত্র কোরআনের ১০টি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ১১:৫২, নভেম্বর ০৩, ২০১৮

পবিত্র কোরআন মানবজীবনের সংবিধান হিসেবে প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। রাসূল (সা.)-এর যুগে কোরআন সংকলন এবং সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপ ও পরিক্রমা ছিল। পরবর্তীতে খলিফা আবু বকর (রা.) ও উসমান ইবনে আফফান (রা.) ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।কোরআন নাজিলের একদম শুরুর দিকে যে সুরা বা আয়াত নাজিল হতো, সাহাবিরা তা মুখস্থ করে নিতেন। তবে রাসূল (সা.) ও লিখিতভাবে কোরআন সংকলন, সংরক্ষণ ও একত্রীকরণের ব্যবস্থা করেছিলেন।

কোরআন লিপিবদ্ধের জন্য তিনি চল্লিশজন ‘কাতেবে ওহি’ বা ‘ওহি লেখক’ নিযুক্ত করে ছিলেন। কাগজ ছাড়াও পাথর, চামড়া, খেজুরের ডাল, বাঁশের টুকরা, গাছের পাতা এবং চতুষ্পদ জন্তুর হাড্ডির ওপর তখন কোরআন লিখে সংরক্ষণ করা হতো।.রাসূল (সা.) এর তত্ত্বাবধানে এভাবে লিপিবদ্ধের ধারাবাহিকতায় কোরআনের একটি কপি প্রস্তুত করা হয়েছিল, তবে তা পুস্তিকা বা গ্রন্থাকারে ছিল না। অন্যদিকে অনেক সাহাবায়ে কেরাম ব্যক্তিগতভাবে কোরআনের সম্পূর্ণ অথবা অসম্পূর্ণ কপি সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।

ইতিহাসের পরম্পরায় বিভিন্ন দেশে কোরআনের প্রচুর পাণ্ডুলিপি তৈরি হয়। কোরআনের শিক্ষা, কোরআনের চর্চা ও কোরআনের হাফেজদের বদৌলতে কোরআনের কপিগুলো সংরক্ষণে রয়েছে। আমরা বর্তমানে যে কোরআনটি তেলাওয়াত করি বা পড়ি, তা খলিফা উসমান (রা.)-এর তত্ত্বাবধানে সংকলিত ও সংরক্ষিত কোরআনের অনুলিপি। আজকের আয়োজনে পৃথিবীর প্রাচীন দশটি কোরআনের পাণ্ডুলিপির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো।

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত পান্ডুলিপি
২০১৫ সালে ব্রিটেনের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি কোরআনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপির দু’টি পাতার সন্ধান পান। পাতা দু’টি তৈরি করা হয়েছে চামড়ার কাগজ দিয়ে। তাতে লিখিত আয়াতগুলোতে সুস্পষ্ট আরবি-হিজাজি লিপি-রীতি অবলম্বন করা হয়েছে। এ পাণ্ডুলিপিটিকে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত অন্যতম প্রাচীন পাণ্ডুলিপি বলা হচ্ছে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায়, এটি ৫৬৮-৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে লেখা হয়েছে। আর এ সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভবত এ পাণ্ডুলিপিটি রাসূল (সা.) এর নবুওয়তের প্রাথমিক সময়েই লিখিত।.

সানায় আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপি
১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ইয়েমেনের রাজধানী সানার বড় মসজিদ (Great Masjid of Sana’a) সংস্কার করার সময় মসজিদে সংরক্ষিত পুরনো কাগজ ও পাণ্ডুলিপি থেকে দুই পাতার এ পাণ্ডুলিপিটি আবিষ্কৃত হয়। এ পাণ্ডুলিপিটিও চামড়ার কাগজে লিখিত। পাণ্ডুলিপিটিতে এতে দু’টি স্তর রয়েছে, যাতে উভয় ধরনের হিজাজি লিপিশৈলী রয়েছে। পরীক্ষার মাধ্যমে ধারণা করা হচ্ছে, পান্ডুলিপিটি ৬৪৬-৬৭১ খ্রিস্টাব্দের ভেতর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

তোপকাপি প্রাসাদে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি
তুরস্কের ইস্তাম্বুল তোপকাপি প্রাসাদে সংরক্ষিত কোরআনের পাণ্ডুলিপিটি হিজরি ১ম শতাব্দীর শেষে অথবা ২য় শতাব্দীর শুরুতে লিখিত বলে ধারণা করা হয়। কুফিক লিপিশৈলীতে লিখিত এ পাণ্ডুলিপিতে পূর্ণ কোরআন লিপিবদ্ধ রয়েছে। তবে এর মধ্য থেকে দু’টি পৃষ্ঠা (২৩ আয়াত) হারিয়ে গেছে।

সমরকন্দে আবিস্কৃত পাণ্ডুলিপি
উজবেকিস্তানের বিখ্যাত শহর সমরকন্দে প্রাপ্ত ও রাজধানী তাসখন্দে সংরক্ষিত কোরআনের পান্ডুলিপিটি হিজরি ২য় শতাব্দী মোতাবেক খ্রিস্টাব্দ ৮ম শতাব্দী লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।কুফিক লিপিরীতিতে লিখিত কোরআনের বৃহৎ পাণ্ডুলিপিটি বেশ ঋজু ও জীর্ণ হয়ে এসেছে। এটি সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষ আলমারিতে রাখা হয়েছে।

প্যারিসিনো-পেট্রোপোলিট্যানাস পাণ্ডুলিপি
প্যারিসিনো-পেট্রোপোলিট্যানাস পাণ্ডুলিপিটি পবিত্র কোরআনের অন্যতম প্রাচীন পাণ্ডুলিপি হিসেবে স্বীকৃত। ১৮ শতাব্দী পর্যন্ত এটি মিসরের পুরাতন কায়রো শহরের (ফুস্তাত) আমর ইবনুল আস মসজিদে সংরক্ষিত ছিল। (নেপোলিয়নের মিসর জয়ের পর এটি প্যারিসে নিয়ে আসা হয়।) 

বিজ্ঞানিরা ধারণা করছেন, হিজাজি লিপিশৈলীতে লিখিত এ পাণ্ডুলিপিটি সপ্তম শতাব্দীর শেষের দিকে অথবা ৮ম শতাব্দীর শুরুতে লিপিবদ্ধ করা হয়।হিজাজি লিপিশৈলীতে দক্ষ পাঁচজন লেখকের মাধ্যম এটি লিখিত। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভবত দ্রুত পাণ্ডুলিপি তৈরির লক্ষ্যে যৌথভাবে লেখা হয়েছে।পান্ডুলিপিটির অক্ষত ৯৮টি পাতা বিশ্বের বিভিন্ন বিখ্যাত জাদুঘর ও লেইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। ফ্রান্সের জাতীয় গ্রন্থাগার, রাশিয়ার ন্যাশনাল লাইব্রেরি, ভ্যাটিকান লাইব্রেরি ও লন্ডনের খলিলি কালেকশান উল্লেখযোগ্য।

নীল কোরআন পাণ্ডুলিপি
‘নীল কোরআন পাণ্ডুলিপি’টি ৯ম শতাব্দীর শেষে ও ১০ম শতাব্দীর শুরুতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কুফিক লিপিশৈলীতে লিখিত পান্ডুলিপিটি ফাতেমি আমলের স্মারক। নীল রঙের বাছুরের চামড়া দিয়ে তৈরি কাগজে সোনালি হরফে কোরআনের আয়াতগুলো ও রূপালি কালি দিয়ে নকশাঙ্কৃত করা হয়েছে। পাণ্ডুলিপিটির অধিকাংশ পৃষ্ঠা তিউনিসিয়ার বর্ডো ন্যাশনাল মিউজিয়ামের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ আর্ট অ্যান্ড আর্কিওলজিতে সংরক্ষিত রয়েছে।

ইবনুল বাওয়াব পান্ডুলিপি
এ পাণ্ডুলিপির পুরোটা অংশ ‘নাসখ লিপিরীতি’তে লেখা হয়েছে। বর্তমানে পান্ডুলিপিটি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে চেস্টার বেটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে।৩৯১ হিজরিতে আরব ক্যালিওগ্রাফার আবুল হাসান আলী ইবনে হিলালি পান্ডুলিপিটির সংকলন করেন। তিনি বাগদাদে ইবনুল বাওয়াব নামে পরিচিত ছিলেন। সে সূত্রে তার সংকলিত পাণ্ডুলিপিটি ইবনে বাওয়াবের পাণ্ডুলিপি নামে প্রসিদ্ধ।

আল-আন্দালুস কোরআন পান্ডুলিপি
স্পেনে প্রাপ্ত আল-আন্দালুস পাণ্ডুলিপিটি ১২ শতাব্দীতে লিখিত। এটি লিপিবদ্ধ করতে কুফিক লিপিশৈলী ব্যবহার করা হয়।

মাগরিবি পাণ্ডুলিপি
মাগরিবি পাণ্ডুলিপিটি ১৩ শতাব্দীতে সংকলন করা হয়েছিল। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার জনপ্রিয় মাগরিবি-শৈলীতে কোরআনটি চামড়ার তৈরি কাগজের ওপর লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

সেভিল কোরআনিক পান্ডুলিপি
এ পাণ্ডুলিপিটি ১৩ শতাব্দীর। স্পেনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর বেঁচে যাওয়া কোরআনের অল্প কিছু প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্যতম একটি। তৎকালীন মুসলিম স্পেনের ‘আন্দালুসিয়ান’ লিপিতে রচিত এ পাণ্ডুলিপিটির লিখনকাজ ১২২৬ সালে সেভিলে সমাপ্ত হয়। চামড়ার কাগজের উপর লিখিত পাণ্ডুলিপিটি বর্তমানে জার্মানির মিউনিখের ব্যাভেরিয়ান স্টেট লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত