শিরোনাম

যে কারণে কুমারী পূজা করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৮:২০, অক্টোবর ১৭, ২০১৮

কুমারী পূজা মাতৃভাবে ঈশ্বরেরই আরাধনা। নারী জাতির প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা-সমাজ ও জীবনকে মহৎ করে তোলে। কুমারী পূজা এ শিক্ষাই দেয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমীতে রামকৃষ্ণ মিশনগুলোতে এই পূজার মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় নারীকুলের প্রতি।

হিন্দু শাস্ত্র মতে, সাধারণত এক বছর থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে পূজার উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও পূজা করার বিধান রয়েছে। বয়সভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, শাস্ত্রমতে; এক বছর বয়সে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে কুব্জিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসন্ধর্ভা, এগারোয় রুদ্রাণী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোয় ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোল বছরে অম্বিকা বলা হয়ে থাকে। এদিন নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক ও পায়ে আলতা। ঠিক সময়ে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চারদিক মুখরিত হয় শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তব-স্তুতিতে।

কুমারী পূজার দার্শনিক তত্ত্ব সম্পর্কে উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, নারীতে পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন। বিশব ব্রহ্মাণ্ডে যে ত্রিশক্তির বলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় ক্রিয়া সাধিত হচ্ছে, সেই ত্রিবিধ শক্তিই বীজাকারে কুমারীতে নিহিত। কুমারী প্রকৃতি বা নারী জাতির প্রতীক ও বীজাবস্থা। তাই কুমারী বা নারীতে দেবীভাব আরোপ করে তার সাধনা করা হয়। এ সাধনপদ্ধতিতে সাধকের নিকট বিশবজননী কুমারী নারীমূর্তির রূপ ধারণ করে; তাই তার নিকট নারী ভোগ্যা নয়, পূজ্যা।

এদিকে, শারদীয় দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিন বুধবার (১৭অক্টোবর) মহাষ্টমীতে মন্দিরে মন্দিরে উদযাপন করা হয়েছে কুমারী ও সন্ধি পূজা। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা শুরু হয়। এরপর পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ শেষে দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট থেকে ১টা ১৯ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে রামকৃষ্ণ মিশন, মঠসহ কয়েকটি মন্ডপে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে দুর্গাপূজা আয়োজনের কারণে এসব মন্ডপে পূজার সময়ের হেরফের ঘটেছে কিছুটা। তবে মহাষ্টমীর প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা। প্রতিবারের মতো এবারও এই পূজার জন্য অল্পবয়সী একটি মেয়েকে কুমারী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে, যাকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার মহাসপ্তমীতে ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছিল সারাদেশের পূজাম-পগুলোতে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষও পূজা দেখতে আসায় এরই মধ্যে এই উৎসব পেয়েছে সার্বজনীন রূপ। সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকার পূজাম-পগুলোও এদিন ঢাক-ঘণ্টার বাদ্যি-বাজনা আর ভক্তদের পূজা-অর্চনায় মুখর হয়ে উঠেছিল। সরেজমিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি মন্ডপ ঘুরে সর্বত্র উৎসবের ছোঁয়া দেখা গেছে। মন্ডপে মন্ডপে মহাসপ্তমীর পূজা দেখতে আসা নানা বয়সী পূজারি ও ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যার পর এ ভিড় ছিল উপচেপড়া।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত