শিরোনাম

সাত হাজার হজযাত্রীর হজে যাওয়া অনিশ্চিত

প্রিন্ট সংস্করণ॥কাওসার আজম  |  ০১:১০, জুলাই ১৭, ২০১৮

আসন্ন হজের জন্য বিমানের এখনো প্রায় ১০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়নি। হজ এজেন্সিগুলো জানিয়েছে তারা নিয়মিত হজযাত্রীদের প্রায় সব টিকিট কেটেছেন। কিন্তু অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে অনেকে যেতে পারছেন না। সে কারণে এসব টিকিট অবিক্রিত রয়ে গেছে। রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ না দিলে পাঁচ থেকে সাত হাজার কোটা খালি থাকার আশংকা রয়েছে। তবে ধর্মমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বর্তমানে রিপ্লেসমেন্টের কোন সুযোগ নেই।  আসন্ন হজে মোট এক লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজে যাবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান ১৮৭ টি ফ্লাইটে ৬৪ হাজার ৯৬৭ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে এবং সাউদিয়া এয়ারলাইন্স ৬১ হাজার ৮৩১ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে। এ বছর নিয়মানুযায়ী আগে হজযাত্রীদের বিমানের টিকিট কাটতে হবে এরপর ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে। কিন্তু সম্প্রতি বিমান জানায় এখনো পর্যন্ত ২৩ হাজার ১৯১ জন হজযাত্রীর অনুকুলে টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করেনি ১৪৪টি এজেন্সি। এর মধ্যে ৫৬টি এজেন্সি তাদের হজযাত্রীদের অনুকূলে একটি পে-অর্ডারও ইস্যু করেনি। এ ৫৬ এজেন্সির হজযাত্রী রয়েছে ১২ হাজার ৯৪৯ জন। এছাড়া ৮৮ টি এজেন্সি তাদের মোট ২১ হাজার ১৭৯ জন হজযাত্রীর মধ্যে ১০ হাজার ৯৩৭ জন হজযাত্রীর জন্য টিকিট কাটলেও ১০ হাজার ২৪২ জন হজযাত্রীর জন্য কোন পে-অর্ডারও ইস্যু করেনি। এ কারণে গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ৫৬টি এজেন্সিকে তলব করা হয়। তবে গতকাল ৪৩টি এজেন্সি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শুনানিতে উপস্থিত হয়। এ সময় এজেন্সি মালিকরা জানান, তারা ইতোমধ্যে বিমান টিকিটের জন্য পে অর্ডার ইস্যু করেছেন। তবে ব্যাংক থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেয়া হয়নি। এ কারণে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সভায় ধর্ম সচিব আনিছুর রহমান বলেন, এখনো বিমানের প্রায় ১০ হাজার টিকিট অবিক্রিত রয়ে গেছে। কি কারণে হজ এজেন্সিগুলো টিকিট কাটছে না তা জানতে চান তিনি। এ সময় সভায় উপস্থিত বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, আমার মনে হয় অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে এসব ব্যক্তি হজে যাবেন না, এ কারণে এজেন্সিগুলো টিকিট কাটেনি। রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলে এ কোটা পূরণ হবে। হাবের সভাপতি আব্দুস সোবহান ভুইয়া বলেন, বিমানের প্রায় ১০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়নি। রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ না দিলে পাঁচ থেকে সাত হাজার হজযাত্রীর কোটা পূরণ হবে না। জবাবে ধর্মমন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (হজ) মো: হাফিজ উদ্দিন বলেন, রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে আগে কোন নীতিমালা ছিল না। এবার নীতিমালা করা হয়েছে। যা মন্ত্রীসভায় অনুমোদন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আগেই ৪ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। মৃত্যু অথবা গুরুতর অসুস্থতার কারণে এ সুযোগ দেয়া হয়েছে। এখন নতুন করে রিপ্লেসমেন্ট করা জটিল ও কঠিন। নীতিমালার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ধর্মমসচিব আনিছুর রহমান বলেন, আমরা আশা করি এর মধ্যে বিমানের টিকিট বিক্রি হয়ে যাবে। রিপ্লেসমেন্টের ব্যাপারে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এজেন্সিগুলো ভুয়া হাজী বানিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এখন তাদের বিপরীতে রিপ্লেসমেন্ট চাচ্ছেন। এ সময় উপস্থিত বেসরকারি এজেন্সিগুলো সমস্বরে এর প্রতিবাদ করে বলেন, তারা এ ধরনের কোন ঘটনার সাথে জড়িত নন। তখন সচিব বলেন, আমরা প্রমাণ নিয়েই কথা বলছি। তবে রিপ্লেসমেন্ট বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া তার এমনকি মন্ত্রীরও ক্ষমতার বাইরে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য আরো উপরে যেতে হবে। শেষ দিকে যদি এমন কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যাব। সভায় সচিব আসন্ন হজে ভালো সেবা দিলে এজেন্সিগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষণা দেন। এদিকে গতকাল পর্যন্ত ৫২ হাজার হজযাত্রীর ভিসা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান সচিব। উল্লেখ্য যে, গত ১৪ জুলাই থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ আগস্ট পবিত্র হজ পালিত হবে। হজকার্যক্রম পালন শেষে ২৭ আগস্ট থেকে হজের ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, শেষ হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত