শিরোনাম
ভক্তকুলের বাণী বন্দনা

সারাদেশে উদযাপিত হলো সরস্বতী পূজা

প্রিন্ট সংস্করণ॥ নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০১:২৪, জানুয়ারি ২৩, ২০১৮

বিদ্যা ও জ্ঞান বৃদ্ধির আশায় মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমীতে সরস্বতী পূজা করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাদের কাছে শ্বেত পদ্মে আসীনা সরস্বতী হলেন বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, যার হাতে আছে বীণা আর বই। সারাদেশে বিভিন্ন মন্দিরের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও ঐতিহ্যগতভাবে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয় প্রতিবছর। তবে সবচেয়ে বড় আয়োজনটি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের মাঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আয়োজনে এ বছর জগন্নাথ হলে মোট ৬৬ ম-পে সরস্বতীর আরাধনা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকেই সেখানে ছিল শিক্ষার্থী, ভক্ত আর দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, কুয়েত মৈত্রী হল, শামসুন্নাহার হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলেও আলাদা ম-পে বিদ্যাদেবীর অর্চনা হয়েছে। বরাবরের মতই জগন্নাথ হলের পুকুরের মাঝে বিশাল আকারের সরস্বতী প্রতীমা গড়েছে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা। গত রোববার মধ্যরাতে ম-পে দেবীর প্রতিমা স্থাপন থেকে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সকালে দেবীকে দুধ, মধু, দই, ঘি, কর্পূর ও চন্দন দিয়ে স্নান করানো হয়। জগন্নাথ হল মাঠে সকাল ৯টার দিকে শুরু বাণী অর্চনা। পুরোহিত ‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমল লোচনে/বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যংদেহী নমোহস্তুতে’ মন্ত্রপাঠ করে দেবীর আশীর্বাদ কামনা করেন। এরপর ভক্তরা দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি দেন। এসময় ভক্তদের মাঝে অঞ্জলী ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। পুরোহিত মস্ত্র পাঠ করিয়ে শিশুদের হাতে কাশ ফুলের কলম ও রূপক দোয়াত তুলে দেন। ওই কলম দিয়ে একটি মাটির সরায় (পাত্র) লেখার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লেখা-পড়া শুরু করে শিশু। একেই বলা হয় ‘হাতেখড়ি’। জগন্নাথ হলের পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী বলেন, “মহা সাড়ম্বরে সোমবার পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যারা আজ শিশু, তারা মায়ের কাছে বিদ্যার জন্য, স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য আশীর্বাদ চাইছে। যারা আজ সুর ও সংগীতের জন্য সাধনা করে, তারাও মায়ের কাছে প্রার্থনা করছেন।” জগন্নাথ হলের ছাত্র মিলটন বৈরাগী বলেন, “এই পূজা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণের মেলা। প্রতিবছর বিদ্যাদেবীর আবাহনে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এখানে মিলিত হয়। এ এক অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলন তীর্থ।” মিরপুর থেকে পূজা দেখতে আসা হামিদা আক্তার জেবা বলেন, “অনেক ভালো লাগছে। এই আয়োজনে ধর্মীয় সংস্কৃতি জানতে পারছি, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মেলবন্ধন বাড়ছে।” জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অসীম সরকার বলেন, “জগন্নাথ হল ঐতিহ্যবাহী হল।
এই ঐতিহ্যের একটি নমুনা হল সরস্বতী পূজা। জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে সব স্তরের মানুষ এখানে আসে। সবার উপস্থিতে এটা সবর্জনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।” উপস্থিত সবাইকে সরস্বতী পূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “মায়ের কাছে একটাই প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের সকলের জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে দেন, সেই আলোয় যেন আমরা আলোকিত হই। সমস্ত অনাচার-অবিচার-অন্ধকার যেন দূর হয়, এই কামনা করি।”
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত