শিরোনাম

বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা আজ

প্রিন্ট সংস্করণ॥ নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৫৯, জানুয়ারি ২২, ২০১৮

আজ সোমবার (৯ মাঘ ১৪২৪ বাংলা) শ্রী শ্রী সরস্বতী বা বিদ্যাদেবীর পূজা। মা সরস্বতী বিদ্যা এবং ললিতকলার দেবী। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী দেবীর পূজা হয়ে থাকে। তিথি অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকে সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা করবেন। সরস্বতী পূজা শুধু শিক্ষার্থী আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এই সরস্বতী পূজা, প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি মহল্লায়, প্রতিটি শহরের আনাচে-কানাচেই হয়ে থাকে। এইদিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শিশুদের হাতেখড়ি দিয়ে থাকেন। এই নিয়মটি সুপ্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেকে পারিবারিকভাবেও এই পূজা করে থাকেন। তবে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে সবচেয়ে বেশি জাকজমকপূর্ণ পূজা হয়ে থাকে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল, বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হল, কবি সুফিয়া কামাল হলের পাশাপাশি শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বদরুন্নেছা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, তিতুমীর কলেজ, বাঙলা কলেজেও এই পূজা হয়ে থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানের পূজারী শিক্ষার্থীরা এখন ব্যস্ত বিদ্যাদেবীর পূজাকে কেন্দ্র নানা কাজে। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠানে এখন সাজ সাজ রব। শাস্ত্রমতে সরস্বতী শব্দটির অর্থ, ‘সতত রসে সমৃদ্ধা’। তিনি শুক্লবর্ণা, শুভ্র হংস বাহনা। তিনি ‘বীণা-রঞ্জিত পুস্তক হস্তে।’ অর্থাৎ এক হাতে বীণা ও অন্য হাতে তার পুস্তক।  দেবীর এক হাতে বীণা থাকার কারণে, তাকে বীণাপাণিও বলা হয়ে থাকে। বিদ্যাদেবী সরস্বতী হলেন বিদ্যা-জ্ঞানদানকারী দেবী। তিনি মর্তলোকে সকলকে বিদ্যা আর জ্ঞান দান করেন। তাই মানুষ বিদ্বান আর জ্ঞানলাভের আশায় সরস্বতী পূজা করে থাকেন। দেবী শুক্লবর্ণা। শুক্লবর্ণ মানে সাদা রং। সত্ত্বগুণের প্রতীকও হলো সাদা। পবিত্র গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের ৬ নম্বর শ্লোকে আছে, ‘তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বাৎ’ অর্থাৎ সত্ত্ব, রজঃ ও তমোগুণের মধ্যে সত্ত্বগুণ অতি পবিত্র গুণ, স্বচ্ছতার প্রতীক, নির্মলতার প্রতীক। আবার ওই অধ্যায়েরই ১৭ নম্বর শ্লোকে আছে, ‘সত্ত্বাৎ সংজায়তে জ্ঞানং’ অর্থাৎ সত্ত্বগুণে জ্ঞান লাভ হয়। তাই জ্ঞানময়ী সর্বশুক্লা দেবী শ্রী শ্রী সরস্বতী জ্ঞানে গুণান্বিত বলে তার গায়ের রং শুক্লবর্ণা অর্থাৎ দোষহীনা ও পবিত্রতার মূর্তি। তাই পূজার জন্য দেবী সরস্বতীর মূর্তি শ্বেতবস্ত্র পরিধান করে থাকে। যা পবিত্রতারই নিদর্শন। আর জ্ঞানদান করেন বলে তিনি জ্ঞানদায়িনী। ‘নহি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে’ (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-৪/৩৯) অর্থাৎ ‘জ্ঞানের মতো পবিত্র আর কিছু নেই’। হংসঃ জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর বাহন শ্বেতহংস। হাঁস অসারকে ফেলে সার গ্রহণ করে। দুধ ও জল মিশ্রণ করে দিলে হাঁস জল ফেলে শুধু দুধটুকু গ্রহণ করে নেয়। কিংবা কাঁদায় মিশ্রিত স্থান থেকেও তার খাদ্য খুঁজে নিতে পারে। আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে- সবাই যেন অসার বা ভেজাল, অকল্যাণকর পরিহার করে সার বা ভালো কিছু অর্থাৎ নিত্য পরমাত্মাকে গ্রহণ করেন এবং পারমার্থিক জ্ঞান অর্জন করে সুন্দর পথে চলতে পারি। সরস্বতী দেবীর এক হাতে বীণা। জীবন ছন্দময়। বীণার ঝংকারে উঠে আসে ধ্বনি বা নাদ। বিদ্যাদেবী সরস্বতীর ভক্তরা সাধনার দ্বারা সিদ্ধি লাভ করলে বীণার ধ্বনি শুনতে পান। বীণার সুর মধুর। পূজার্থী বা বিদ্যার্থী বা শিক্ষার্থীর মুখ নিঃসৃত বাক্যও যেন মধুর হয় এবং জীবনও মধুর সংগীতময় হয় এ কারণেই মায়ের হাতে বীণা। হাতে বীণা ধারণ করেছেন বলেই, তার অপর নাম বীণাপাণি। সরস্বতী দেবীর একের হাতে পুস্তক। বিদ্যার্থীর লক্ষ্য জ্ঞান অর্জন। আর সে জ্ঞান ও বিদ্যা অর্জনের জন্য জ্ঞানের ভা-ার ‘বেদ’ তার হাতে রয়েছে। ‘বেদই বিদ্যা’। তিনি আমাদের আশীর্বাদ করছেন- ‘জীবনকে শুভ্র ও পবিত্র রাখ। সত্যকে আঁকড়ে রাখ। মূল গ্রন্থের বাণী পালন কর। জীবন ছন্দময় কর। স্বচ্ছন্দে থাক।’
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত