শিরোনাম

আমবয়ানের মধ্যে দিয়ে শুরু বিশ্ব ইজতেমা

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১২:৩২, জানুয়ারি ১২, ২০১৮

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে বাদ ফজর আমবয়ানের মধ্যেদিয়ে শুরু হয়েছে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা। জর্ডানের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি ওমর হোতিবের আমবয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে এবারের ইজতেমার কার্যক্রম।

মাওলানা আবদুল মতিন তার বয়ান অনুবাদ করে দিচ্ছেন। তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেয়া নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যদিয়ে বৃহস্পতিবার প্রস্তুতিমূলক বয়ান শুরু হয়। আর শুক্রবার বাদ ফজর তার অনুপস্থিতেই টঙ্গীতে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার মুসল্লি বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সমবেত হয়েছেন।
বাংলাদেশের মাওলানা মোশারফ হোসেন এবার বয়ান করবেন। বাদ মাগরিব শুরু হবে মূল বয়ান।

এবারও দুই দফায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। প্রথম দফা ১২ জানুয়ারি থেকে ১৪ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় দফা ১৯ জানুয়ারি থেকে ২১জানুয়ারি চলবে। দুই দফারই শেষ দিন অনুষ্ঠিত হবে আখেরি মোনাজাত।

তবে এবার আখেরি মোনাজাত কে পরিচালনা করবেন তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে ভারতের মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমায় বয়ান ছাড়াও আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু এবার তাকে নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ব ইজতেমায় বয়ান ও মোনাজাত পরিচালনা কে করবেন এ নিয়ে অনেকটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তাবলিগ জামাতের মুরুব্বি ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুরে মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেয়ার জন্য বিমানে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। কিন্তু তাবলিগ জামাতের হেফাজতপন্থি অংশ তাকে বিশ্ব ইজতেমায় যোগদানে বাধা দিতে বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সাদবিরোধী স্লোগান দেয়। পরে পুলিশ সাদকে বিমানবন্দর থেকে স্কট দিয়ে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে নিয়ে যায়।

এসময় সাদ বিরোধীদের একাংশ কাকরাইলের দিকে এবং অপর অংশ বিশ্ব ইজতেমার ময়দানের দিকে রওয়ানা হন। কাকরাইল মসজিদে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে সেজন্য পুলিশ ওই মসজিদের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। বিমানবন্দর থেকে মাওলানা সাদের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় যাওয়ার কথা ছিল।

ইজতেমা মাঠের মুরুব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, টঙ্গীতে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব ইজতেমায় দুই পর্বে ৩২ জেলার মুসুল্লিরা অংশ নেবেন। প্রথম ধাপে ১৬ জেলা এবং দ্বিতীয় দফায় ১৬ জেলার মুসুল্লিরা বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ঢাকা জেলার মুসুল্লিরা দুই দফায়ই অংশ নেবেন। বাকি ৩২ জেলার মুসুল্লিরা (এবছর) নিজ নিজ জেলায় আঞ্চলিক ইজতেমায় অংশ নেবেন।

র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যানজট এড়াতে এরই মধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইজতেমা ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইজতেমা শুরুর আগেই ভারতের তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সাদের আগমনকে কেন্দ্র করে গত বুধবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। তবে সাদ ইজতেমায় আসছেন না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া এমন খবরে স্বস্তি ফিরেছে মুসল্লিদের মধ্যে।

বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান বলেন, ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসল্লি এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ও সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকি মোকাবেলায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার তুরাগ নদীর তীরে দু’দফায় এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমায় দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যোগ দেবেন। বিশ্ব ইজতেমায় জল, স্থল ও আকাশ পথে ত্রিমাত্রিক নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত