শিরোনাম

আজ ত্যাগের ঈদ, খুশির ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ০২:১০, আগস্ট ১২, ২০১৯

 

ত্যাগের উৎসব আজ সোমবার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম; যা কুরবানির ঈদ নামে পরিচিত। আরবীতে ঈদুল আজহা। যার মূল প্রতিপাদ্য হলো ত্যাগ করা।

এদিন মুসলমানরা ফজরের নামাজের পর ঈদগাহে গিয়ে দুই রাকাত ঈদুল-আজহার নামাজ আদায় করবেন। এরপর যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবানিতে শরিক হবেন।

শাওয়াল মাসের চাঁদ ওঠা নিয়ে ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারিত হয়। এ কারণে একেবারে রোজার শেষাবধি ঈদের দিনটি নিয়ে এক রকমের অনিশ্চয়তা থাকে। তবে ঈদুল আজহা যেহেতু জিলহজ মাসের ১০ তারিখেই নির্ধারিত, তাই জিলহজের চাঁদ ওঠার পর হাতে বেশ খানিকটা সময় নিয়েই লোকে ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারেন।

এই ঈদের প্রস্তুতির মধ্যে প্রধান বিষয় হলো পশু কেনা। পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদি কেনাকাটা ঈদুল আজহায় গৌণ। অবশ্য যাঁরা ঈদের উত্সবে রাজধানী ঢাকা বা অন্য কোনো শহরে কর্মস্থল থেকে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে ফেরেন, তাঁদের প্রস্তুতি শুরু হয় যানবাহনের টিকিট সংগ্রহ করা থেকে বাক্স-পেটরা গোছানো নিয়ে।

এরপর নির্দিষ্ট দিনে যাত্রা করা। ঈদের যাত্রায় ভোগান্তি কম নয়, এবারও তার কোনো হেরফের হয়নি। তবু প্রিয়জনের সান্নিধ্য লাভের আনন্দ, আপন ঠিকানায় ফেরার অনুভূতির তুলনায় যাত্রার দুর্ভোগ তুচ্ছজ্ঞান করেই সপরিবারে গ্রামে ফিরে গেছেন অসংখ্য মানুষ।

এদিকে পবিত্র ঈদুল-আজহা উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপ্রতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তারা দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল-আজহার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মুসলিমউম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং কোরবানির মহান ত্যাগে বলীয়ান হয়ে দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-আজহার শুভেচ্ছাও জানানো হয়েছে।

কুরবানি উপলক্ষে সারাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরাও সর্বোচ্চ ত্যাগের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। যার যার সাধ্য অনুযায়ী গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ এমনকি মরুভূমির জাহাজ নামে খ্যাত উটও কুরবানি প্রস্তুতি রয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, এবার কুরবানির জন্য সারাদেশে ১ কোটি ১৭ লাখ পালিত গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু, মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৮২ হাজার। ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ধরা ৭১ লাখ।

তারা জানায়, দেশীয় বাজারের এই চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে গত বছর যত পশু জবাই করা হয়েছিল তার সঙ্গে ৫ শতাংশ যোগ করে। সেই হিসাবে গত বছর ১ কোটি ৫ লাখের বেশি গরু, ছাগলসহ অন্যান্য পশু কুরবানি করা হয়েছিল।

কুরবানির আগে নামাজের খুতবায় তুলে ধরা হবে কুরবানির তাৎপর্য। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে একত্রে নামাজ আদায় করবেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন কোলাকুলির মাধ্যমে। হাদিসে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী মুসলমানদের আগে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। তারপরই কুরবানি দিতে হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এর হাদিস অনুযায়ী কেউ নামাজের আগে কুরবানি করতে পারবে না। যদি ঈদের নামাজের আগেই কেউ পশু কুরবানি করে তাহলে সেটা কুরবানি হিসেবে বিবেচিত হবে না। কুরবানি করতে হলে তাকে অবশ্যই ঈদের নামাজে শরিক হতে হবে। তারপর কুরবানিতে অংশ নিতে হবে।

আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে আল্লাহতা’আলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার ছেলে হজরত ইসমাইলকে (আ.) কুরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এটা ছিল মূলত ইবাহিমের (আ.) জন্য আল্লাহ্র পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা।

সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইলের (আ.) পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে যায়। তারপর থেকে বিশ্বের মুলমানদের মধ্যে কুরবানি ও ত্যাগের এই ধারা আজও চালু রয়েছে।

ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুরবানি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বৈধ পথে উপার্জিত অর্থের মাধ্যমে পশু কেনা, জবাই করে ভক্ষণ করা, অপরের জন্য মাংস বণ্টনের মাধ্যমে নিজের আনন্দ ও স্বার্থকে অন্যের সঙ্গে অংশীদার ও ভাগাভাগি করে মানবতা প্রতিষ্ঠা করা।

ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদুল-আজহার অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে, মনের পশু অর্থাৎ কুপ্রবৃত্তিকে পরিত্যাগ করা। জাতীয় কবির ভাষায় : মনের পশুরে কর জবাই, পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই...’।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত