শিরোনাম

ক্যাথলিক চার্চে জন্মশতবার্ষিকী পালনকারী সেই আলেমের গল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১৬:০৬, জুন ১৭, ২০১৯

আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাষ্ট্র ঘানার প্রধান ইমাম ও গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ উসমান শারুবুতু একটি ক্যাথলিক চার্চে তার জন্মশতবাষিকী যাপন করেছেন সম্প্রতি। মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি প্রকাশ পেলে মুসলিম বিশ্বে সাড়া পড়ে যায়।

খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ঘানার ক্রাইস্ট দি কিং ক্যাথলিক চার্চে দেশটির ওই মুসলিম আলেম পোপদের কথা শুনছিলেন মনোযোগ দিয়ে। স্যোশাল মিডিয়ায় এ জাতীয় একটি ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।

গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ উসমান ঘানার সংখ্যালঘু মুসলমানদের প্রধান পথপ্রদর্শক। তিনি শান্তি ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তা দিয়ে থাকেন সর্বদা।

মুসলিম এ আলেম চার্চে যাওয়ার বিষয়টি চাওড় হওয়ার বড় কারণ ছিল, তিনি যেদিন ঘানার ওই চার্চে ফাদার এন্ড্রো ক্যাম্পবেলের সঙ্গে সাক্ষাৎরত সেদিনই শ্রীলঙ্কার আরেকটি চার্চে আত্মঘাতী বোমা হামলায় আড়াইশর বেশি খ্রিস্টান নিহত হন।

স্যোশাল মিডিয়ায় বয়োবৃদ্ধ এ আলেমের সমর্থকরা তাকে ‘অন্ধকারে আলোর দিশা’ হ্যাশট্যাগে সম্মানিত করেছে।

চুপচাপ আর প্রচারবিমুখ এ আলেম বেশি কথা না বললেও ঘানার ওই পাদ্রী মুখ খুলতে দ্বিধা করেন না মোটেও। বিপরীত স্বভাবী এ দুই ধর্মীয় নেতার মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন পরিণত হয়েছে জীবন্ত কিংবদন্তীতে।

শায়খ শারুবুতু ২৬ বছর ধরে ঘানার মুসলমানদের ধর্মীয় নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি জুমায় তিনি দেশটির মুসলমানদের প্রতি শান্তি ও সম্প্রীতির বাণী শোনান। তিনি সবসময় বলে থাকেন, ইসলামের ভিত্তি শান্তি ও ভালোবাসার ওপর।

বুজুর্গ এ আলেমের সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হলো বস্তুবাদের বিরোধিতা করা। তিনি বলে থাকেন, বস্তুবাদ শুধু মানুষের লোভই বাড়িয়ে দেয়।

শায়খ উসামানের নির্দেশে ফাদামায় অবস্থিত তার ঘরের দরোজা সবসময় গরিব জনসাধারণের জন্য খোলা রাখা হয়।

বেশ কয়েক বছর ধরে ওই এলাকার লোকজন প্রতিদিন সকালে তার বাড়ির নলকুপ থেকে পানি নিয়ে যায়। প্রতিরাতে তারা শায়খের বাড়ি থেকে পাত্র ভরে খাবারও নিয়ে যায়।

দান করা মুসলিম আলেমদের একটি সাধারণ নীতি। শায়খ উসমানের ভক্তদের বক্তব্য, তার পক্ষ থেকে আসা সাহায্যের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে থাকে। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে দেশে ও দেশের বাইরে পড়াশোনা করান। তিনি একটি ট্রাস্ট ফান্ডও গঠন করেছেন। এ ট্রাস্টের অধীনে তিনি গরিব ও মেধাবীদের স্কলারশিপের ব্যবস্থা করে থাকেন।

ঘানার ১৮ ভাগ মানুষ মুসলিম। অধিকাংশ খ্রিস্টান। কিন্তু দেশটিতে কখনো কোনো ধর্মীয় দাঙ্গা বা বিবাদ সৃষ্টি হয়নি। অবশ্য কখনো ব্যতিক্রম কিছু দেখা দিলে আত্মত্যাগী এ আলেম তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার সমাধান বের করে ফেলেন।

শায়খ উসমান শারুবুতু ঘানার ন্যাশনাল পিস কাউন্সিলেরও একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ১৩ সদস্যের ওই কাউন্সিলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন তিনি।

বিবিসি নিউজ অবলম্বনে সুলাইমান সাদী

এসএস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত