শিরোনাম

যেভাবে আদায় করবেন শবে কদরের নামাজ

মাওলানা মুহাম্মদ হেমায়েত উদ্দীন  |  ১৫:৫৯, মে ২৭, ২০১৯

যেভাবে আদায় করবেন শবে কদরের নামাজ
‘শবে কদর' একটি ফারসি শব্দবন্ধ । এর আরবি হলো 'লাইলাতুল কদর'। শব ও লাইলাত শব্দের অর্থ রাত। আর কদর শব্দের অর্থ মাহাত্ম্য ও সম্মান। এ রাতের মাহাত্ম্য ও সম্মানের কারণেই একে শবে কদর বা লাইলাতুল কদর বলা হয়। কিংবা কদর শব্দের অর্থ তাকদীর ও আদেশ। এ রাতে যেহেতু পরবর্তী এক বছরের জীবন, মৃত্যু ও রিযিক প্রভৃতি বিষয়ের তাকদির লেখা হয় তাই এ রাতকে শবে কদর বা লাইলাতুল কদর বলা হয়।

লাইলাতুল কদর-এর একরাতের ইবাদতের বিনিময়ে হাজার মাস ইবাদত করার সওয়াব পাওয়া যায়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি কুরআন অতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।(সূরা কদর)

রমজান মাসের শেষ দশকের মধ্যে যে কোনো বেজোড় রাতই শবে কদর হতে পারে, যেমন ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের রাত। তবে ২৭ তারিখের রাতের কথা বিশেষভাবে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ২৭ তারিখের রাতকেই শবে কদর ভাবা উচিত নয়। তাই রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বেজোড় রাতেই শবে কদরের অনুসন্ধান করা এবং বেশি বেশি এবাদত করা উচিত।

শবে কদরে নফল নামায, তিলাওয়াত, যিকির ইত্যাদি যে কোনো ইবাদত করা যায়। কত রাকাত নফল বা কি কি সুরা দিয়ে পড়তে হবে, হাদিসে এর নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তাই এ রাতে যত রাকাত ইচ্ছা, যে সূরা দিয়ে ইচ্ছা নফল নামাজ পড়া যায়।

শবে কদরে নামাযের বিশেষ কোনো নিয়তের কথাও হাদিসে বর্ণিত নেই। ইশার পর সুবহে সাদেক পর্যন্ত যে নফল পড়া হয় তাকে তাহাজ্জুদ বলে। তাই নফল বা তাহাজ্জুদের নিয়তে নামায পড়লেই চলবে।

নফল নামায যেহেতু ঘরে পড়া উত্তম, তাই এ রাতেও ঘরে থেকে নামায পড়লে উত্তম হবে। একান্তই ঘরে কারো নামাযের পরিবেশ না থাকলে তিনি মসজিদে গিয়ে পড়বেন।

তবে বর্তমানে শবে বরাত ও শবে কদরে ইবাদত করার জন্য মসজিদে ভীড় করার একটা প্রথা হয়ে গেছে। তাই কোনো কোনো মুফতি সাহেব শবে কদর ও শবে বরাতে ইবাদত করার জন্য মসজিদে একত্রিত হওয়াকে মাকরূহ ও বিদআত বলে ফতোয়া দিয়েছেন। তাই এ রাতে যথাসম্ভব ঘরেই ইবাদত করা উত্তম। (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া, চতুর্থ খণ্ড)

শবে কদরে বিশেষভাবে দোয়া কবুল হয়ে থাকে, তাই এ রাতে বেশি বেশি দোয়া করা চাই।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রা.-কে শবে কদরে বিশেষভাবে এই দুআ পড়তে শিক্ষা দেন—
الله انك عفو تحب العفو فاعف عني

উচ্চারণ, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা‘ফু আন্নী।

অর্থ, হে আল্লাহ! তুমি তাে অত্যন্ত ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতে ভালবাস; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দাও।

যেহেতু শবে কদরের নির্দিষ্ট কোনো রাত নেই তাই রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি বেজোড় রাতেই শবে কদরের আমল করা চাই। কেউ যদি আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহে শবে কদর চিনতে পারে তাহলে তার জন্য শবে কদরে গােসল করা মােস্তাহাব।

এসএস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত