শিরোনাম

পাশের ঘরের অসহায় ভাবীটা ইফতার করেছেন তো?

মেহেদী হাসান সাকিফ  |  ২০:৪৩, মে ২১, ২০১৯

পাশের ঘরের অসহায় ভাবীটা ইফতার করেছেন তো?
সংযমের মাস মাহে রমজান। রমজান মাসের প্রধান আমল হচ্ছে সাওম পালন করা। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর ( সুরা বাকারা-১৮৩)

আল্লাহ চান তার বান্দারা যেন রমজানে সিয়াম সাধনের মাধ্যমে মুত্তাকি হতে পারে। রমজান মাসের সিয়াম পালন করতে গিয়ে এখন প্রায় দশ বারো ঘণ্টা উপোস থাকতে হয়। এর মাধ্যমে সহজে আমরা বুঝতে পারি, আমাদের সমাজের অসহায় দুখী মানুষেরা বছরের বাকি এগারোটি মাস কিভাবে দিনাতিপাত করে।

এটা রমজানের অন্যতম এক শিক্ষাও বটে। কিন্তু রমজানের এই শিক্ষা আমরা কতটুকু অর্জন করতে পেরেছি? রমজানের বড় অংশটি কাটিয়ে দিই হাজার হাজার টাকার শপিংয়ের পেছনে।

সারাদিন রোজা রেখে ইফতারিতে কবজি ডুবিয়ে খাচ্ছি। নামিদামি রেস্টুরেন্টে গিয়ে বন্ধুবান্ধব নিয়ে অনেক টাকা খরচ করে সেহরি করছি স্বোল্লাসে। একাধিক আইটেমের তরকারি ছাড়া আমাদের সাহরির খাবার হচ্ছে না। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি আমাদের পাশের বাড়ির অসহায় ভাবীটি কীভাবে সাহরি বা ইফতার করছে? তিনি হতে পারেন একজন বিধবা। হতে পারে তার স্বামী থাকেন দূরে কোথাও। হতে পারে তার কেউ নেই। একাই ছেলে-সন্তান নিয়ে জীবনযাপন করছেন আপনার পাসের বাসায়, বাড়ির উঠোনের ওপারের ঘরটিতে।

আমাদের চারপাশে এমন বহু অসহায় হতদরিদ্র মানুষ আছেন। বহু কষ্টে অনাহারে অর্ধাহারে তাদের দিন কাটে। কিন্তু তাদের দিকে একবার আমরা ফিরেও তাকাই না। এটাই কি আমাদের সিয়ামের শিক্ষা?

সামান্য একটু পানি আর নামমাত্র একটু খাবার দিয়ে তারা ইফতার, সাহরি সারে। আমরা নিজেদের সর্বদা প্রিয় নবীজির উম্মত দাবি করি। কিন্তু প্রিয় নবীজির আর্দশ আজ কোথায় আমাদের মাঝে?

ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সা. ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক দানশীল। রমজানে তিনি সর্বাধিক দানশীল হতেন, যখন জিবরাইল আ.-এর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হতো। রমজানে জিবরাইল আ. তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তার সঙ্গে কুরআন পাঠ করতেন। জিবরাইল আ.-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রাসুল সা. হতেন মুক্ত বায়ুর তুলনায় অধিক কল্যাণময় দানশীল। (বুখারি : ৩২২০)

আমাদের চারপাশের আসহায় মানুষদের ইফতার করানো কত বড় ফজিলতপূর্ণ আমল সেটা রাসুল সা.-এর হাদিস থেকেই বোঝা যায়।

আল্লাহর রাসুল সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, এর দ্বারা তার গুনাহ ক্ষমা করা হবে এবং তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। রোজাদারের সমপরিমাণ নেকি তাকে দান করা হবে, রোজাদারের প্রাপ্য নেকি থেকে একটুও না কমিয়ে।

সাহাবাগণ আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের মধ্যে সবার তো রোজাদারকে ইফতার করানোর মতো ক্ষমতা নেই! রাসুল সা. বললেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে একটিমাত্র খেজুর দিয়ে বা পানি পান করিয়ে অথবা এক ঢোক দুধ দিয়ে ইফতার করাবে, মহান আল্লাহ তাকে এই সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে পরিতৃপ্ত করে খাওয়াবে, মহান আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন আমার হাউজ থেকে এমন শরবত পান করাবেন, জান্নাতে প্রবেশের আগে তার আর পিপাসা লাগবে না।’ (ইবনে খুজাইমা : ১৮৮৭; বায়হাকি, শুআবুল ইমান : ৩৩৩৬; আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব : ১৭৫৩)

এসএস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত