শিরোনাম

চাঁদ দেখা গেছে, মঙ্গলবার থেকে রোজা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:১১, মে ০৬, ২০১৯

 

সোমবার বাংলাদেশের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এ কারণে মঙ্গলবার (৭ মে) থেকে সিয়াম সাধনার পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। সোমবার রাতে (০৬ মে) তারাবির নামাজের মধ্য দিয়ে শুরু হবে রোজার আনুষ্ঠানিকতা।

আগামী ১ জুন শনিবার দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র লাইলাতুল কদর। সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সোমবার থেকে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, মিসর, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরেও সোমবার থেকে রোজা শুরু হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষিত সেহরি ও ইফতারের সূচি অনুসারে ঢাকায় প্রথম রোজার সেহরির শেষ সময় রাত ৩টা ৫২ মিনিটে আর ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৪ মিনিটে। এদিকে রমজান মাসে খতম তারাবিহ্ পড়ার সময় দেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, রমজান মাসে দেশের প্রায় সব মসজিদে খতম তারাবিহতে পবিত্র কোরানের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তেলাওয়াত করার রেওয়াজ চালু আছে। তবে কোনও কোনও মসজিদে এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এতে করে কর্মজীবী যারা বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন তাদের কোরান খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

এই অবস্থায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে একটি অতৃপ্তি ও মানসিক চাপ অনুভূত হয়। কুরআন খতমের পূর্ণ সওয়াব থেকেও তারা বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি নিরসনে রমজানের প্রথম ৬ দিনে দেড় পারা করে ৯ পারা এবং বাকি ২১ দিনে ১ পারা করে ২১ পারা তেলাওয়াত করলে ২৭ রমজান রাতে অর্থাৎ পবিত্র লাইলাতুল কদরে কুরআন খতম করা সম্ভব।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে দেশবরেণ্য আলেম, পীর-মাশায়েখ ও খতিব-ইমামদের সঙ্গে আলোচনা হলে তারাও এ পদ্ধতিতে খতম তারাবিহ্ পড়ার পক্ষে অভিমত দিয়েছিলেন এবং সে মোতাবেক অধিকাংশ মসজিদে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

রোজা রাখার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং নিজেদের কামনা-বাসনা নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরহেজগারি বা তাকওয়া বৃদ্ধি করা।

কুরআনে বলা হয়েছে, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো"। — সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩

আরও বলা হয়েছে, "রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।" — সূরা বাকারা: ১৮৫

‘তাকওয়া’ শব্দটির মূল অর্থ ‘রক্ষা করা।’ এর অনুবাদ করা হয়েছে নানাভাবে। যেমন পরহেজগারি, আল্লাহর ভয়, দ্বীনদারি, সৎ কর্মশীলতা, সতর্কতা প্রভৃতি। রোজা ঢালের মতো কাজ করে, যা গোনাহের হাত থেকে বাঁচায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত