প্রয়াত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ’র মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রিন্ট সংস্করণ | ১২:১২, নভেম্বর ২৮, ২০১৬

দলীয় রাজনীতি করলেও তার উদার চিন্তা-চেতনা ও সংবেদনশীল মনোভাবের কারণে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের কাছেই তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল। ১৯৪৪ সালে ১লা এপ্রিল পুরান ঢাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। পিতা আবদুল আজিজ আর মাতা মুন্নি বেগমের ছোট ছেলে হানিফ।

আখতার-উজ-জামান‍ঃ প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে একজন অভিভাবকতূল্য নেতা তৈরি হয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগেও নেতৃত্ব দেয়ার মতো কিছু নেতার আর্বিভাব লক্ষ্যণীয়। মোহাম্মদ হানিফ, যিনি বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্বাধীনতা পূর্ব সময়ের একান্ত সচিব বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ও ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। টগবগে যুবক মোহম্মদ হানিফ শুরু থেকে সারা জীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকেছেন। দলীয় রাজনীতি করলেও তার উদার চিন্তা-চেতনা ও সংবেদনশীল মনোভাবের কারণে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের কাছেই তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল। ১৯৪৪ সালে ১লা এপ্রিল পুরান ঢাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। পিতা আবদুল আজিজ আর মাতা মুন্নি বেগমের ছোট ছেলে হানিফ। আদর করে সবাই তাকে ‘ধনী’ নামে ডাকতো। শিশু হানিফ ছোটবেলায় মমতাময়ী মাকে হারান। মায়ের মৃত্যুর পর ফুফু আছিয়া খাতুনের কাছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য আর আদর্শে বেড়ে উঠেন তিনি। ঢাকার প্রখ্যাত পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আলহাজ মাজেদ সরদার ছিলেন ঢাকার শেষ সরদার। মোহাম্মদ হানিফের বহুমুখী প্রতিভা তাকে মুগ্ধ করে। তাই ১৯৬৭ সালে মাজেদ সরদার তার প্রিয়কন্যা ফাতেমা খাতুনকে মোহাম্মদ হানিফের সাথে বিয়ে দেন। এই দম্পতির এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করা মোহাম্মদ হানিফ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর অসুস্থ অবস্থায় ২০০৬ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। মোহাম্মদ হানিফ ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৬০ সালে পুরান ঢাকার ইসলামিয়া হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে তৎকালীন কায়েদে আযম কলেজ (বর্তমান শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ) থেকে এইচএসসি ও বিএ পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। কিছুদিন আইন বিষয়েও লেখাপড়া করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচার্যে মোহাম্মদ হানিফের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ১৯৬৫ সালে বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব হিসেবে অত্যন্ত সফলতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে গেছেন। তিনি একান্ত সচিব থাকাকালীন ছয় দফা আন্দোলনের প্রস্তুতি, ছয় দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, মহান মুক্তি সংগ্রামে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা চিরস্মরণীয়। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সব আন্দোলনে তিনি রাজপথে প্রথম কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেয়া ঢাকা- ১২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়ে হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে মোহাম্মদ হানিফ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেছেন। ৯০-এর গণআন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মোহাম্মদ হানিফ। ১৯৯৬-এর মার্চের শেষ সপ্তাহে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনে মোহাম্মদ হানিফ তার নেতৃত্বে ‘জনতার মঞ্চ’ গঠন করেন যা তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতনসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট তৈরি করে এবং ’৯৬-এর ১২ জুন দেশের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে দেশ পরিচালনার জন্য মোহাম্মদ হানিফের প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। বঙ্গবন্ধুর দুর্দিনে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে নিজের ভক্তি ও ভালোবাসার জানান দেন মোহাম্মদ হানিফের পরিবার। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়ের পর গঠিত প্রাদেশিক সরকার ভেঙে দিয়ে তৎকালীন মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তখন ২৪ ঘণ্টার নোটিশে শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও তার পরিবারকে মন্ত্রিপাড়ার বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় সরকার। সেই সময় সরকারের রক্তচক্ষু, হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে মোহাম্মদ হানিফের পরিবার বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবের পরিবারকে তাদের পরিবারিক পুরান ঢাকার নাজিরা বাজার বাসায় নিয়ে তোলেন। কারাগার থেকে বের হয়ে বঙ্গবন্ধুও সেই বাসায় ওঠেন এবং পরিবার নিয়ে কিছুদিন অবস্থান করেন। সেসময় থেকে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মোহাম্মদ হানিফকে খুব স্নেহ ও বিশ্বাস করতেন। ফলে তিনি সবসময় চাইতেন মোহাম্মদ হানিফ যেন সর্বদাই বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকেন। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কোনো দিন কমে যায়নি। ঢাকাকে একটি আধুনিক মডেল গড়ে তোলার জন্য প্রথম নগরপিতা হিসেবে মোহাম্মদ হানিফ যেসব অবদান রেখে গেছেন তা আজও নগরবাসীর কাছে উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। মোহাম্মদ হানিফ, যার নামের সাথে মেয়র শব্দটি হয়ে ওঠেছে অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি ঢাকা সিটি করর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পাওয়া মোহাম্মদ হানিফ ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম সরাসরি নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মেয়র নির্বাচিত হন। তার আমলে ঢাকার উন্নয়নে রাস্তাঘাট, নর্দমা, ফুটপাত উন্নয়ন ও সংস্কার, নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, আন্ডারপাস, সেতু, ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ, মহিলাদের মাতৃকালীন সময়ে পরিচর্যার জন্য নগরীতে বেশ কয়েকটি মাতৃসদন নির্মাণ, ঢাকার সৌন্দর্য বাড়ানো ও নগরবাসীর চাহিদা পূরণে নগরীতে বিজলি বাতি স্থাপন, নগর সৌর্ন্দয বর্ধনে ফোয়ারা নির্মাণ, বনায়ন কর্মসূচি, পুরান ঢাকার আউটফলে ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। তিলোত্তমা নগরী গড়ার লক্ষ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়েও মহানগরীর উন্নয়ন সম্ভব, ঢাকাবাসীর কাছে নির্বাচনী ওয়াদা পূরণ হিসেবে এটাই তিনি কাজে প্রমাণ করে গেছেন। একজন প্রকৃত নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে নগর রাজনীতির এই মহানায়ক রাজপথে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০৪ সালের ভয়াল ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের ট্রাক মঞ্চে শেখ হাসিনার ওপর নারকীয় গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানবঢাল তৈরি করে প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষার প্রাণান্তর চেষ্টা করেন মোহাম্মদ হানিফ। সে সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রাণে রক্ষা পেলেও মারাত্মক আহত হন তিনি। মস্তিষ্কসহ দেহের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ঘাতক স্প্রিন্টার ঢুকে পড়ে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায়ও কোনো ফল হয়নি, বরং মাথার গভীরে বিধে থাকায় তা অস্ত্রোপচার করেও অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। তবু দুঃসহ যন্ত্রণা সহ্য করেই রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় থেকেছেন মোহাম্মদ হানিফ। তার জীবদ্দশায় রাজধানীর প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার ধারাবাহিকতায় ২০০৬-এর ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। মাথায় বিদ্ধ স্প্রিন্টারের প্রতিক্রিয়া পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ও অকাল মৃত্যুর কারণ হিসেবে কাজ করেছে। তীব্র যন্ত্রণা ভোগ করে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ২৮ নভেম্বর রাতে ৬২ বছর বয়সে ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গ্রেনেড হামলায় আহত হন তাঁর ছেলে সাঈদ খোকনও। যিনি বর্তমানে বাবার আদর্শের ন্যায় আরেক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাবাকে হারিয়ে কষ্টকে বিসর্জন দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রয়াত নগর পিতার মতো বর্তমান মেয়রের দায়িত্ব পেয়ে। ঠিক বাবার ন্যায়-নীতিকে লালন করে সাঈদ খোকনও একইভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা আর জননেত্রী এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে। যা সত্যিই এক বিরল দৃষ্টান্ত। নগরপিতা মোহাম্মদ হানিফ চলে গেছেন জাতির চরম দুঃসময়ে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ যখন সংকটাপন্ন, তখন জননেতা হানিফের মতো আদর্শনিষ্ঠ, অকুতোভয় ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের বড় বেশি প্রয়োজন। তার মৃত্যুতে সৃষ্ট শূন্যতা কখনও পূরণ হওয়ার নয়, তবে দেশের রাজনীতিতে তার অবদান যুগে যুগে শ্রদ্ধার সঙ্গেই স্মরণীয়। ঢাকার রাজনীতির মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মোহাম্মদ হানিফ। তিনি ছিলেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত সফল মেয়র ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। চারশ বছরের প্রাচীন শহর রাজধানী ঢাকা। ঐতিহ্য আর নানা সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের কারণে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মেগাসিটি। এই গৌরবময় শহরের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ হানিফ।
মোহাম্মদ হানিফ যৌবন থেকে আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। দলীয় রাজনীতি করলেও তার উদার চিন্তাচেতনা ও সংবেদনশীল মনোভাবের কারণে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল অসামান্য। তার জীবন ছিল কর্মময়, ধ্যানধারণা ছিল অত্যন্ত সুন্দর, ব্যক্তিগত চরিত্র ছিল সততার সৌরভে উজ্জ্বল।
নিজ বিশ্বাসে অটল থেকে তা অকপটে প্রকাশ করতে পারার মতো অকুতভোয় মানুষ ছিলেন তিনি। তিনি ছিলেন একজন ঈমানদার ও ধার্মিক মুসলমান। একই সাথে ইসলামের মর্যাদা এবং দ্বীন প্রচারেও ছিলেন সোচ্চার। তিনি তার স্বপ্নের প্রিয় ঢাকা নগরীকে ইসলামী স্থাপত্যকলায় সাজিয়ে তুলতে সহায়তা করেন, যার লক্ষ ছিল মুসলিম প্রধান দেশের রাজধানীতে বিদেশি মেহমান কেউ নেমেই যেন বুঝতে পারেন তারা কোথায় এসেছেন। বুকে হাজারো স্বপ্ন থেকে তা বাস্তবে রূপায়ণের জন্য মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সচেষ্ট থেকেছেন। তিনি মুসলিম হলেও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে ছিলেন পরমপ্রিয়। দুর্গাপূজা কিংবা বড়দিন অথবা অন্য কোন উৎসবে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব¡ দিতেন। তার সহায়তায় অসংখ্য মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা সংস্কার করা হয়। মোহাম্মদ হানিফের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীতেও দেশের রাজনীতিতে তার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। একজন সফল রাজনীতিক ও সফল মেয়র হিসেবে মোহাম্মদ হানিফ আমাদের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। জননন্দিত প্রয়াত মেয়রের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
সাংবাদিক, গবেষক, লেখক

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
close-icon