শিরোনাম

শ্রীলঙ্কায় ২৭২ কেজি হেরোইন ৫ কেজি কোকেনসহ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

তদন্তে মাঠে নেমেছে সিআইডি
প্রিন্ট সংস্করণ॥আব্দুল লতিফ রানা  |  ০০:৩২, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে ২৭২ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেনসহ ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গ্রেপ্তারকৃতদের (পুলিশের দেয়া ছদ্মনাম) শকিল ও ফয়েজ উদ্দিন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সিআইডি পুলিশের অর্গানাইজ ক্রাইম বিভাগের টিম তদন্তে মাঠে নেমেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শ্রীলঙ্কায় আটক দুই মাদকপাচারীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক চোরাচালানের আটককৃতদের জড়িত থাকার বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এরপর সিআইডি পুলিশের অর্গানাইজ ক্রাইম বিভাগের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চোরাচালানিদের কোনো প্রকার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তার তথ্য জানতে সিআইডি পুলিশ তার তদন্তে নেমেছে। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। আর গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর যদি আন্তর্জাতিক চোরাচালানিদের কোনো প্রকার যোগসূত্র পাওয়া না যায়, তাহলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে মাদকদ্যব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সূত্রে জানা গেছে। গত ৫ জানুয়ারি শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল শ্রীলঙ্কার পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের প্রথমে আটক করা হয়। এরপর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রটি আরও জানায়, গত ৩১ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার কলম্বোর মাউন্ট লাভিয়ানা এলাকার একটি বাড়িতে শীলঙ্কার পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। এসময় সেখান থেকে জামাল উদ্দিন ও দেওয়ান রাফিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৯ কেজি হেরোইন উদ্ধার করা হয়। আর এই দুইজনের মধে রাফিউলের বাড়ি জয়পুরহাটে এবং জামালের বাড়ি বগুড়ায় বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, শ্রীলঙ্কায় গ্রেপ্তারকৃত জামাল উদ্দিন ও রাফিউলের তথ্যমতে, একই এলাকার অপর একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৬৩ কেজি হেরোইন ও ৫ কেজি কোকেন উদ্ধার করে পুলিশ। আর এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার হাইকমিশন পর্যায়ে চিঠি আদান প্রদান করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও কোকেনসহ মাদক উদ্ধারের বিষয়টি ব্যাপক তদন্ত করতে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানা গেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম আমার সংবাদকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শ্রীলঙ্কায় আটক দুই বাংলাদেশির তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমরা একজনকে আটক করেছিলাম। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিআইডি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কায় আটক দুই ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তারা কীভাবে ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কায় গেলেন আর তাদের সাথে আর কারা কারা জড়িত সে বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। এ ব্যাপারে সিআইডি পুলিশের ডিআইজি মো. শাহ আলম-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে আমার সংবাদকে জানিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত