শিরোনাম
জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

বৈধ সব রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:৫১, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

চলমান জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের বৈধ সব রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে পারবে। অন্যদিকে কলিং ভিসায় অপেক্ষমাণ কর্মীদেরও মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথ উন্মুক্ত থাকবে।

মঙ্গলবার (২৫সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত উভয় দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর পিএস (যুগ্ম সচিব) মোঃ আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর। এছাড়াও মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত কর্মীদেরকে নিয়মিতকরণের বিষয়েও মালয়েশিয়া সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে বলে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে।

জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও বেগবান করার লক্ষ্যে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম সভা গতকাল স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯ টায় মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত হয়। জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় বাংলাদেশের পক্ষে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের হাইকমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম।

অপরদিকে স্থানীয় সময় বেলা আড়াইটায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি’র নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মালয়েশিয়ার হিউম্যান রিসোর্স মন্ত্রী এম. কুলাসেগারান এর সঙ্গ একটি সভায় মিলিত হন।

২০০৯ সালের পর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার পর ২০১৩ সালে শুধুমাত্র সরকারিভাবে (জিটুজি) স্বল্পসংখ্যক কর্মী যাচ্ছিল মালয়েশিয়ায়। ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বড় পরিসরে কর্মী নিয়োগে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিসমূহকে সম্পৃক্ত করে জিটুজি প্লাস চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আলোকে ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে প্রায় দুই লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় গেছে।

তবে শুধুমাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে এ প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেয়, যা নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা ছিল। ড. মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শুধুমাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াকে একচেটিয়া ও শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তোলা হয়।

গত ১৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে এসপিপিএ সিস্টেমে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া স্থগিত করার ঘোষণা দেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই প্রক্রিয়ায় আর কোনো কর্মী মালয়েশিয়ায় না নেওয়ার ঘোষণা দিলে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এই শ্রমবাজার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। এরপর উভয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জিটুজি প্লাস চুক্তির আলোকে কর্মী যাবে, তবে এসপিপিএ’ সিস্টেমের পরিবর্তে নতুন সিস্টেম নির্ধারণ করবে মালয়েশিয়া সরকার।

জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন- জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক মোঃ সেলিম রেজা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কর্মসংস্থান) আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) মোঃ আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, এ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শাহীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ মোশাররফ হোসেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব সানজিদা শারমিন।

এছাড়াও সভায় মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সেলর (শ্রম) মোঃ সায়েদুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিব) উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত