শিরোনাম

সৌদি ফেরত সব নারীর মুখেই নির্যাতনের কথা

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:২২, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

ভাগ্য অন্বেষণে সৌদি আরব গিয়েছিলেন ঝিনাইদহের জীবননেছা। সংসারে সুখ আনার স্বপ্ন নিয়ে স্বজনদের ছেড়ে বিদেশমুখী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিদেশ গিয়ে স্বপ্ন তার দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে দেশে ফিরেছেন এই নারী। শুধু তিনি নন, তার সঙ্গে দেশে ফিরেছেন রত্মা, আকলিমা, জারফিনা, ঝর্ণা, সালমা, শাহনূর, শিল্পী, সাহেরা, লুৎফাসহ ৪১ জন হতভাগা নারী। যারা জীবননেছার মতোই এক বুক আশা নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পেটের দায়ে বিদেশ গেলেও ঠিকমতো তাদের পেটে ভাত জুটতো না। চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতাও পেতেন না তারা। বেতন চাইলে মারধর করা হতো তাদের। গত মঙ্গলবার রাতে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান এই ৪১ নারী। আর্থিক সচ্ছলতার আশায় বিভিন্ন সময় তারা সৌদি আরবে পাড়ি দিলেও নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন খালি হাতে। বিমানবন্দরে তাদের দেখা যায়, চোখে-মুখে দুশ্চিন্তা ও হতাশার ছাপ। ১৫ মাস আগে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি পাড়ি জমিয়েছিলেন মনি বেগম। কিন্তু তাকে নিয়মিত বেতন দিতেন না গৃহকর্তা (মালিক)। ঠিক মতো খাবারও দেয়া হতো না তাকে। তুচ্ছ কোনো বিষয় নিয়েই করা হতো মারধর। গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে এসব নারী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এসময় তাদের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ। গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন, চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতা তো পেতেনই না তারা, সেই সঙ্গে নানা অত্যাচারও সহ্য করতে হয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফিরেছেন তারা। এদিকে মোট ৪২ জন নারীকর্মী সৌদি আরব থেকে দেশের পথে রওনা দিলেও অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে একজনকে দুবাই বিমানবন্দরে রাখা হয়েছে। আর ফেরত আসা নারীদের সহায়তায় এগিয়ে আসা বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির উপপরিচালক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত পাঁচদিনের ব্যবধানে দেশে ফিরেছেন ১০৭ নারী কর্মী। তাদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, এদের মধ্যে কেউ পাঁচ মাসের মাথায় ফেরত এসেছে, আবার কেউ তিন মাসের মধ্যে চলে আসছে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম হেড শরীফুল হাসান জানান, নির্যাতনের শিকার হয়ে চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসেই ১৮৯ জন নারী দেশে ফিরলেন।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহকারী পরিচালক জাহিদ আনোয়ার এই প্রতিবেদককে জানান, ৪১ নারীকর্মীকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আনার জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে খরচ (বিমানের টিকিট) বহন করা হয়েছে।  ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গৃহকর্মী নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে সৌদি আরব। এই চুক্তির আলোকে বিপুল সংখ্যক নারী সৌদি আরবে গেছেন এবং যাচ্ছেন। তবে প্রতিনিয়ত দেশটিতে এসব নারীকর্মীকে শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও বেতন-ভাতা না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীকর্মী দেশে ফিরে আসছেন। যদিও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে বারবার বলা হচ্ছে নির্যাতনের সব অভিযোগ সত্য নয়। নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দূতাবাস সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত