শিরোনাম

কুয়েতে নিষেধাজ্ঞা কেবল খাদেম ভিসায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:০১, মার্চ ০৬, ২০১৮

বাংলাদেশিদের জন্য কুয়েতের শ্রমবাজার আবারও বন্ধ হয়ে গেছে বলে যে খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, তা পুরোপুরি ঠিক নয়। কুয়েত সরকার ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কেবল ভিসা টোয়েন্টি বা খাদেম ভিসার ক্ষেত্রে। অন্য সব ধরনের ভিসায় লোক নেয়ার সুযোগ আগের মতই বহাল আছে। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম গণমাধ্যমকে ‍এ তথ্য জানিয়েছে।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আরবি দৈনিক আল জারেদা সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, কর্মী নিয়োগে ‘রেসিডেন্সি পারমিটে’ ব্যাপক অনিয়মের কারণে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির সরকার। কর্মক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের আবাসন পারমিটে অনিয়ম ও পাচারকারীদের অপব্যবহার এবং দৌরাত্ম বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রমিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে প্রতিবেদনে ‍উল্লেখ করা হয়। আল জারেদাকে উদ্ধৃত করে মধ্যপ্রাচ্যের ইংরেজি সংবাদমাধ্যমগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমেও তা ছাপা হয়।

‍এ বিষয়ে কুয়েতে সরকারি সফরে থাকা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম মঙ্গলবার বলেন, খাদেম ভিসার মাধ্যমে কুয়েতে বিদেশি গৃহকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী একটি কুয়েতি পরিবার এই ভিসায় এক দেশ থেকে কেবল একজনকে কাজে নিতে পারে। “কিন্তু কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখতে পেয়েছে, ২০১৬ সালে তাদের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য আবার খোলার পর থেকে খাদেম ভিসার ক্ষেত্রে অনেক অনিয়ম হয়েছে। পারস্পরিক যোগসাজশে এক পরিবারে একাধিক কর্মী নেওয়া হয়েছে। সেখানে যাওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে গেছে, তারা আবার অন্য কাজে যোগ দিয়েছে, যা তারা পারে না।” ভিসা টোয়েন্টি ছাড়া অন্য সব ধরনের ভিসায় কুয়েতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ আগের মতই বহাল রয়েছে বলে জানান তিনি।

শাহরিয়ার আলম জানান, ২০১৬ সালে নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর বিভিন্ন খাতে মোট ৮০ হাজার বাংলাদেশিকে কুয়েত কাজে নিয়েছে বলে জানান তিনি।
সোমবার তিনি কুয়েতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার কুয়েতের শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ শুরু করে কুয়েত; যা ২০০৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এসময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে কমপক্ষে ৪ লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশি কর্মে যোগ দিয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দেশটিতে পাড়ি জমানোর পর অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ করে কুয়েত। ২০১৪ সালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আবারও বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি।

২০১৬ সালের মে মাসে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর আবারো বাংলাদেশে থেকে পুরুষ গৃহকর্মী নিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কুয়েত। পরে কুয়েত সরকার দেশটির নাগরিকদের বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে নতুন শর্ত আরোপ করে।

ওই সময় বলা হয়, প্রত্যেক কুয়েতি নাগরিক যদি কোনো দেশের একজন পুরুষ গৃহকর্মী নিযুক্ত রাখেন; তাহলে ওই দেশের আর কোনো শ্রমিককে নিয়োগ দিতে পারবেন না। নতুন শর্তে বলা হয়, নিয়োগদাতার অবশ্যই নিজস্ব বাড়ি থাকতে হবে কুয়েতে। ২০১৬ সালে কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ২ লাখ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স আসা কমছে। নানা কারণে এ রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংক এর তথ্য অনুযায়ী ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে ১১০৬ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন ডলার, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ১০৭৭ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলার, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ১০৩৯ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে কুয়েত থেকে।

ওই হিসাবে ২০১৫ সালে ২৯ দশমিক ০১ মিলিয়ন ডলার, ২০১৬ সালে ৩৭ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স কমেছে। এই ধারা এখনো অব্যাহত আছে। অর্থবছর ২০১৬-২০১৭ অর্থবছর পর্যালোচনা করলেও রেমিট্যান্স কমার চিত্র দেখা যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়া, দ্রব্যমূল্যের মুল্যবৃদ্ধি, প্রবাসী শ্রমিকদের ওভারটাইম কমে যাওয়া এবং আকামা নবায়ন সহ বিভিন্ন কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত