শিরোনাম

ভারতে সন্ন্যাসিনী ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশি যুবক

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ২০:১৭, নভেম্বর ০৭, ২০১৭

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাটে একটি কনভেন্ট স্কুলের সন্ন্যাাসিনীকে ধর্ষণের ঘটনায় এক বাংলাদেশিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে কলকাতার নগর দায়রা আদালত। ওই বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম ওরফে নাজু (২৯)।

মঙ্গলবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা হাকিম কুমকুম সিনহা এই রায় ঘোষণা করেন। এর পাশাপাশি ওই কনভেন্ট স্কুলে লুঠ ও তান্ডব চালানোর অভিযোগে চার বাংলাদেশিসহ পাঁচ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত।

তারা হলেন- মিলন সরকার, ওহিদুল ইসলাম, মোহম্মদ সেলিম শেখ, খালেদা রহমান ওরফে ফারুক (সকলেই বাংলাদেশি) গোপাল সরকার (ভারতীয়)। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সীমান্ত পেরিয়ে হাবড়ার বাসিন্দা গোপাল সরকারের বাড়িতে আশ্রয় নেয় ওই বাংলাদেশিরা। তার বাড়িতে বসেই ওই কনভেন্ট স্কুলে ডাকাতি ও লুঠের পরিকল্পনা করা হয়। যদিও গোপালও এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে জানতে পেরেছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

২০০২ সালে গোপালও সীমান্ত পেরিয়ে হাবড়ায় বসবাস শুরু করে। আগামীকাল বুধবার দোষী ব্যক্তিদের সাজা ঘোষণা করা হবে। এদিন রায় প্রদান করতে গিয়ে বিচারক জানান, সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে যা হয়েছে তা খুবই লজ্জাজনক।

তবে গণর্ধষণ নয়, তাঁকে একজন ব্যক্তিই ধর্ষণ করেছিলেন। নির্যাতিতার মেডিকেল রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট ও সাক্ষ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখেই এই রায় দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৪ মার্চ রাতে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার রানাঘাটে ডন বসকো পাড়ায় কনভেন্ট স্কুলে ডাকাতি ও লুঠের পাশাপাশি স্কুলের ৭১ বছরের এক বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। প্রথমে জেলা পুলিশ ওই মামলার তদন্ত শুরু করলেও পরে রাজ্য সরকারের নির্দেশে তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডি’কে। জানা যায় ওইদিন রাত ১ টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত কনভন্ট স্কুলে সাত দুর্বৃত্ত তাণ্ডব চালায়।

স্কুলের নিরাপত্তারক্ষীকে মারধর করে ক্যাশ বাক্স ভেঙে ১২ লাখ রুপি লুঠ করার পাশাপাশি আরও কিছু মূল্যবান জিনিস চুরি করে। চুরির সময় বাধাপ্রাপ্ত হয়েই সন্ন্যাসিনীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি স্কুলের রান্না ঘর থেকে খাবার চুরি করেও তারা খায়। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে তাদের সেই কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ছবি ধরাও পড়ে যায়। অপরাধ ঘটিয়েই তারা প্রত্যেকেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে গিয়ে গা ঢাকা দেয়।

তদন্তে নেমে ছয় মাসের মধ্যেই অভিযুক্ত সাতজনের মধ্যে ছয় জনকে আটক করে সিআইডি। এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। ওই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রানাঘাট মহকুমা আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। যদিও নিরাপত্তার কারণেই ২০১৬ সালের মে মাসে হাই প্রোফাইল মামলাটি রানাঘাট মহকুমা আদালত থেকে স্থানান্তরিত করলকতা নগর দায়রা আদালতে। এরপর থেকে গত দেড় বছর ধর সেখানেই মামলা চলে।

গত ৩০ অক্টোবর আদালতের দরজা বন্ধ কক্ষে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয়। মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর এদিন রায় ঘোষণা করল বিচারক। এই রায়কে কেন্দ্র করে কোনরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা আদালত চত্বর।

তদন্তকারী কর্মকর্তা বিজয় কুমার যাদব জানান, ‘প্রথমে মামলাটির তদন্তভার নেয় জেলা পুলিশ, একদিন পরেই সিআইডি’কে দেওয়া হয়। আমরা তদন্ত শুরু করি এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করি। তাদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক। পরে তাদের আটক করা হয়। এরপর উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিই। আদালতে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আমরা চাই দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হোক’।

আড়াই বছর আগেকার ওই বর্বরতার খবরে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, গোটা দেশ এমনকী বিদেশেও তোলপাড় পড়ে যায়। ভ্যাটিক্যান সিটি থেকে স্বয়ং পোপের প্রতিনিধিরা রানাঘাটে এসে নির্যাতিতা সন্ন্যাসিনীর সাথে দেখা করেন। পরবর্তীতে অবশ্য দিল্লির একটি নিরাপদ স্থানে ওই সন্ন্যাসিনীকে নিয়ে যাওয়া হয়।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও ওই ঘটনার নিন্দা জানান এবং সিআইডি’কে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন। সেসময় ওই স্কুলে যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িবহরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় উত্তেজিত জনতা। পরে গাড়ি ঘুরিয়ে হাসপাতালে গিয়ে ওই নির্যাতিতা সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত