শিরোনাম

আইএস বোমারু বাংলাদেশি যুবকের খোঁজে ইন্টারপোল

আমার সংবাদ ডেস্ক  |  ০৩:২০, আগস্ট ২১, ২০১৭

সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের হাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার এক যুবককে খুঁজছে ইন্টারপোল।

তাবিরুল হাসিব (২৫) নামের টরেন্টোর সাবেক এই বাসিন্দাকে ইউরোপে আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বলে পশ্চিমা গোয়েন্দাদের সন্দেহ।

কানাডাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী হিসেবে আইএসের ১৭৩ যোদ্ধার একটি তালিকা করেছে ইন্টারপোল। ওই তালিকায় আছেন তাবিরুল।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জঙ্গি হামলা চালানো ‘নব্য জেএমবির’ প্রধান হিসেবে তামিম চৌধুরী নামে যে ব্যক্তির কথা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনিও কানাডা প্রবাসী ছিলেন।

ইন্টারপোলের তালিকায় তাবিরুলসহ কানাডীয় নাগরিকদের প্রথম বের করা সন্ত্রাসবাদ গবেষক অধ্যাপক অমরনাথ অমরাসিঙ্গাম বলছেন, ‘এই লোকগুলোর অনেকে এখন বিভিন্ন দেশে হামলা চালানোর জন্য শ্বাস ফেলছেন’-এই ভয় থেকে ওই তালিকা প্রচার করছে ইন্টারপোল।

তাবিরুল হাসিব তাবিরুল হাসিব তার ভাষ্য মতে, তালিকার অধিকাংশ ইরাকি, যারা ইউরোপের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তবে তাদের মধ্যে বাংলাদেশি-কানাডীয়সহ বেশ কয়েকজন পশ্চিমা নাগরিক আছেন।

ধর্মান্তরিত মুসলিম আন্দ্রে পলিনের মাধ্যমে টরেন্টোয় বাংলাদেশি ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত একদল তরুণ-যুবা আইএসে যোগ দেন। ওই দলে ছিলেন তাবিরুল।

আইএসের লড়াইয়ে অংশ নিতে তাবিরুল ও মালিক আব্দুলসহ চারজন ২০১২ সালের জুলাইয়ে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়ে লেবানন পর্যন্ত যান। সে সময় তাদের সবার বাবা ছেলেদের পিছু নিয়ে সবাইকে কানাডায় ফিরিয়ে আনেন। ঘটনাটি তখন পুলিশের কাছ থেকে চেপে যাওয়া হয়।

‘আবু মুসলিম’ নামে নিজের পরিচয় দেওয়া পলিন সিরিয়ায় আইএসের হয়ে যুদ্ধে ২০১৩ সালে নিহত হওয়ার পরের বছর জুলাইয়ে তাবিরুল, মালিক আব্দুল এবং তাদের অন্তত এক বন্ধু তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যান।

আইএসের ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী ১৪ জুলাই ওই তারা সিরিয়ার তাল আবিয়াদে পৌঁছান।

আইএসের ‘এন্ট্রি ফরমে’ তাবিরুলের দেওয়া তথ্যমতে, তিনি অবিবাহিত, আইএসের যোদ্ধা হতে চান এবং তার আগে লেবানন ও বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন।

ইন্টারপোলের তালিকায়ও তাবিরুলের ২০১৪ সালের জুলাইয়ে আইএসে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ‘আবু বকর বাংলাদেশি’ নাম নিয়েছিলেন তিনি। এই জঙ্গি থাকতেন ‘ব্যাটালিয়ন গেস্ট হাউজে’।

ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়লগের জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো অমরাসিঙ্গাম বলেন, অন্টারিয়র মিসিসাগার সাবেক বাসিন্দা ও পরে সিরিয়ার আইএস সদস্য মোহাম্মদ আলীর সহায়তায় জঙ্গি গোষ্ঠীটিতে জড়িয়েছিলেন তাবিরুল ও তার বন্ধুরা।

তাদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে মালিক আব্দুলের ছোট ভাই কাদির আব্দুলকে তুরস্কের পুলিশ গ্রেপ্তারের পর কানাডায় পাঠায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে কাদির ফেইসবুকে তাবিরুলের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

কাদিরের ভাই মালিক এবং তাদের সঙ্গে কানাডা থেকে আসা আরেকজন ২০১৪ সালের নভেম্বরে ও ২০১৫ সালের প্রথম দিকে নিহত হন বলে তাবিরুল তাকে জানান।

আদালতের নথিতে কাদিরের স্বীকারোক্তিতে বলা হয়েছে, দু্জনই আইএসের হয়ে লড়তে গিয়ে মারা গেছেন,” বলা হয়েছে কাদিরের স্বীকারোক্তির।

গত এপ্রিলে সিরিয়ার সীমান্তবর্তী আদানা শহর থেকে কাদিরকে গ্রেফতার করে তুরস্ক কর্তৃপক্ষ।

তাবিরুলও রুশ বিমান হামলায় মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহের কথা পুলিশকে জানিয়েছিলেন কাদির।

তবে অধ্যাপক অমরাসিঙ্গাম বলছেন, মনে হচ্ছে, তাবিরুল এখনও জীবিত। তবে আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত