শিরোনাম

বাহরাইনে মহাবিপাকে বাংলাদেশিরা

মো.অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী, বাহরাইন থেকে  |  ১৯:৫৯, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

নিজের বেকারত্ব ঘুচাতে ধারদেনা করে পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা পূরণে কর্মসংস্থানের অভাবে পাড়ি জমিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে। তবে কেউ আবার স্বপ্নের ঘোরে আরাম আয়েশে জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে, কেউবা অবৈধ টাকা লুকাতে এসেছেন। কেউবা এসেছেন জীবনের নিরাপত্তার অভাবে আর কেউবা হামলা ও মামলার ভয়ে বাহরাইন এসেছেন।

বর্তমানে বাহরাইনে বৈধ আর অবৈধ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় তিন লাখ। বাহরাইনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বর্তমানে ৪০থেকে ৫০শতাংশই মহাবিপাকে আছেন। মহাবিপাকের পরও অনেকেই উপায়-অন্তহীনভাবেই অবস্থান করছেন বাহরাইনে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, বাহরাইনে বাংলাদেশের এই বিশাল প্রবাসী জনসংখ্যার জন্য দায়িত্বশীল যোগ্য কোনো অভিভাবক না থাকায় তাদের অন্তহীন সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। অধিক মানসিক চাপের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক প্রবাসী মৃত্যুবরণ করেছেন। তেমন কোনো শক্তিশালী কমিনিউটি না থাকার কারণে এখানে যেসব কমিনিউটির নেতারা আছেন তারাও প্রত্যেকে নিজেদের মধ্য অন্তঃদ্বন্দ্বে লিপ্ত।

প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু দালালের প্রলোভনে পড়ে অনেকেই আজঁ বাহরাইনে মানবতার জীবন যাপন করছে।ঢাকার দোহারের আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমি চার লাখ ৬৫ হাজার টাকা দালালের হাতে দিয়ে বাহরাইন আসি। আসার ১৯ দিনের মাথায় আমার ভিসা বাতিল হয়ে যায়, অবৈধ হয়ে পড়ি।

এদিকে শরিয়েতপুরে জাজিরার রাহায়ন আহমেদ বলেন, এক দালালকে চার লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে আমি বাহরাইন আসি। আসার চার মাস পর জানতে পারি আমার ভিসা বাতিল হয়ে গেছে।’

বিভিন্ন সূত্র জানা যায়, এ ধরনের অবৈধ হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা এরই মধ্যে প্রায় দেড় লাখ ছাড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল(অব.) কে এম মমিনুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের সব অভিযোগ আমরা একটি ডাটাবেজে লিপিবদ্ধ করে রাখছি। কে কার মাধ্যমে কীভাবে বাহরাইন এসেছে ইত্যাদি তথ্য মোবাইল নম্বরসহ অভিযোগে লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।’

এছাড়া রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও বাহরাইন সরকারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যারা এর জন্যে দায়ী তাদের আইনের আওতায় আনার ব্যাপারেও আশ্বাস দেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত