শিরোনাম

মালয়েশিয়ার কোতারায়া, আসেন ভাই দেশি-বিদেশি আছে!

শেখ সেকেন্দার আলী, মালয়েশিয়া থেকে  |  ১২:৫৭, মার্চ ১১, ২০১৯

মালয়েশিয়ার বাংলাদেশি মার্কেট বলে পরিচিত কোতারায়া(পুডু) গতকাল ১০ই মার্চ রোববার অনেক শখ করে দীর্ঘদিন পরে কিছু মাছ কেনার জন্য যখন বাংলা মার্কেটে গেলাম, একজন বাংলাদেশি খদ্দেরদের ডাকছে ভাই আসেন, দেশি বিদেশি আছে।

আমি ভাবলাম হয়তো কোন দোকান অথবা রেস্টুরেন্ট। যাক আমি মাছ কেনার আশায় পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে যেয়ে আমার প্রিয় সুস্বাদু টেংরা মাছ, আছে কিনা জানতে চাইলে দোকানদার বলেন ভাই, একটু আগে শেষ হয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী আরেকটি দোকানে যেয়ে চেষ্টা করলাম টেংরা মাছ পাওয়ার জন্য, কিন্তু সেখানেও মিলল না কারণ আমি গেছি প্রায় সাড়ে চারটার দিকে ততক্ষণে সুস্বাদু মাছটা শেষ হয়ে গেছে ‌।

তাই মনে মনে ভাবলাম, ওখানে তো আমাকে ডাকল ভাই আসেন দেশি-বিদেশি আছে। আমি চিন্তা করলাম হয়তো নতুন দোকান হবে তাই নিচের দোকান ভাড়া না পেয়ে ওপরে হয়তো দোকান দিছে। আমি একটু এগিয়ে এসে ব্যাক্তির কাছে যেয়ে বসলাম ভাই, দেশি-বিদেশি কি আছে?। উনি আমাকে বললেন ভাই, বুঝেন না কি আছে? ,,,,,,,,,,,।

আমি সত্যি ভীষণ লজ্জা পেয়ে চলে এসে পার্শ্ববর্তী একটি দোকান থেকে কিছু ছোট পুটি মাছ কিনে ড্রাইভারকে বললাম গাড়িটা একটু পিছনে নিয়ে আসো। গাড়ির ভিতরে বসে ছবি নিয়ে রওনা দিলাম আমার গন্তব্য স্থানে। মালাই ড্রাইভার আমাকে বলল কি ছবি তোলা হলে ওটা। আমি বললাম নতুন দোকান তো তাই পরবর্তীতে আসলে কাউকে ছবি দিলেই চিনতে পারবে এখানে ভালো মাছ পাওয়া যায়।

মালয়েশিয়া জুড়ে যখন অভিবাসন এবং পুলিশের ব্যাপক অভিযান চললেও ভয় ভীতির তোয়াক্কা না করে এভাবেই প্রকাশ্য রাস্তায় খরিদ্দার ডাকছে বাংলাদেশি।রোজগারের অনেক পথ খোলা থাকলেও এইভাবে বাংলাদেশি কর্তৃক বাংলাদেশিরা বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে।

একাধিক সূত্রে প্রকাশ, মালয়েশিয়ায় সহজ সরল নারীদের ফ্যাক্টরী কিংবা অফিসে চাকরি দেয়ার নাম করে মালয়েশিয়া এনে ডিস্কো ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফেরার আর কোন সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশি নারীরা। ইতিমধ্যেই ডিস্কো এবং অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে কিছু বাংলাদেশি নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কথা হয় ওই বাংলা মার্কেটের একজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এখনই এই প্রতিবেদককে জানান, বাংলাদেশি মার্কেট এর অনেক মান মর্যাদা থাকলেও সেটা হারিয়ে গেছে।

রাতারাতি লাখোপতি হওয়ার আশায় পতিতাবৃত্তির ব্যাবসাকে বেছে নিয়েছে অনেকেই কথিত দালালরা। আর এসবের তদারকি করছেন স্বদেশী। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যদি ইমিগ্রেশন এবং পুলিশের অভিযানে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে বাংলাদেশি নারীদের আটক করা হয় তখন সমস্ত বাংলাদেশের মান মর্যাদা কোথায় যাবে সেটা কি ভেবে দেখেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত