শিরোনাম

ফিরে দেখা আ.লীগের ২০টি কাউন্সিল

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৩:৫১, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

‘বঙ্গবন্ধু-আওয়ামী লীগ-বাংলাদেশ’ ইতিহাসে এই তিনটি নাম অমলিন, অবিনশ্বর। ইতিহাসে এই তিনটি নাম একই সূত্রে গাঁথা। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও শত সহস্র চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আজ গণমানুষের সবচেয়ে প্রিয় ও আস্থার ঠিকানাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ।  আওয়ামী লীগ মানেই বাঙালী জাতীয়বাদের মূল ধারা। আওয়ামী লীগ মানেই সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের কাদা-মাটি গায়ে মাখা খেটে খাওয়া মানুষের কাফেলা।

একনজরে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে জন্মলাভের পর ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিলে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে দলের দ্বিতীয় কাউন্সিলে মওলানা ভাসানি সভাপতি পুনর্নির্বাচিত ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ’৫৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় কাউন্সিলে একই কমিটি বহাল থাকে। ’৫৭ সালে কাগমারি সম্মেলনকে ঘিরে মওলানা ভাসানি দল ভেঙ্গে ন্যাপ করলে আওয়ামী লীগের মওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অপরিবর্তিত থাকেন।

’৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি হলে আওয়ামী লীগের  কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ ৬ বছর পর ’৬৪ সালে দলকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তর্কবাগিশ-মুজিব অপরিবর্তিত থাকেন। ’৬৬ সালের কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদ। এরপর ’৬৮ ও ’৭০ সালের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অপরিবর্তিত থাকেন। এই কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ।

দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭২ সালের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। ’৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু দায়িত্ব ছেড়ে দিলে সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জিল্লুর রহমান বহাল থাকেন। ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবারও স্থগিত করা হয়। ’৭৬ সালে ঘরোয়া রাজনীতি চালু হলে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করে মহিউদ্দিন আহমেদ সভাপতি ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হন। ’৭৭ সালে এই কমিটি ভেঙ্গে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক হন সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন। ’৭৮ সালের সম্মেলনে আবদুল মালেক উকিল সভাপতি ও আবদুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক হন।

’৮১ সালের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁকে সভাপতি এবং আবদুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন। এরপর শেখ হাসিনা দেশে ফিরে ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক দলটির হাল ধরেন। ’৮৩ সালে আবদুর রাজ্জাক দলত্যাগ করে বাকশাল গঠন করলে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ’৮৭ সালের সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হন। ’৯২ ও ’৯৭ সালের সম্মেলনে শেখ হাসিনা সভাপতি ও জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০০ সালের বিশেষ কাউন্সিলেও একই কমিটি বহাল থাকে।

এরপর ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রয়াত নেতা আবদুল জলিল। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ১৮তম কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আর ওই কাউন্সিলে বাঘা বাঘা নেতাদের সাইড লাইনে রেখে অপেক্ষাকৃত তরুণদের নিয়ে গঠন করেন চমকের কেন্দ্রীয় কমিটি। ২০১২ সালে ওই সম্মেলনে সভাপতি পদে শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পুনর্নির্বাচিত হন।

সর্বশেষ ২০তম জাতীয় কাউন্সিল ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত