শিরোনাম

দেশ ছাড়লেন এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০১:৪৪, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

সোমবার (১০ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১১টায় দেশ ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ভোটের আগে অসুস্থতা নিয়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য’ সিঙ্গাপুরে গেলেন তিনি। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে তিনি রওনা হন। জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপ প্রেসসচিব খন্দকার দেলোয়ার জালালী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এরশাদের সঙ্গে গেছেন জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এরশাদ দুটি আসনে প্রার্থী হলেও বর্তমান সংসদ সদস্য বাবলু নির্বাচনে নেই। রাত সাড়ে ৯টায় বারিধারার পার্ক রোডের বাসা থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন এরশাদ। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানাতে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন ক্ষমতা রাঙ্গাঁর হাতে দিলেও এরশাদ নিজের অবর্তমানে ‘চেয়ারম্যানের সার্বিক সাংগঠনিক দায়িত্ব’ পালনের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন সাবেক মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের হাতে।একথা জানালেও এরশাদের অনুপস্থিতিতে হাওলাদারই জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব পেলেন কি না- সে প্রশ্নের উত্তর দেননি মহাসচিব রাঙ্গাঁ।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের অসুস্থতা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। তিনি অসুস্থ, সিএমএইচে ভর্তি আছেন, আবার তিনি সুস্থ -বিভিন্ন সময় দলের নেতাকর্মীদের মুখে এমন তথ্য শুনে গুঞ্জন শুরু হয়।

এমন গুঞ্জনের মধ্যে গত ৬ ডিসেম্বর হঠাৎ বনানী কার্যালয়ের সামনে হাজির হন এরশাদ। গাড়িতে বসেই তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে সর্বশেষ গত ২০ ডিসেম্বর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে কথা বলেছিলেন তিনি। এরপর থেকে কখনও বাসায় কখনও সিএমএইচ-এ ভর্তি রয়েছেন।

সেইসময় এরশাদ অভিযোগ করেছিলেন, অসুস্থ হওয়ার পরও তাকে চিকিৎসা করতে এবং বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। কার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তা স্পষ্ট না করেই আলোচিত এই রাজনীতিবিদ বলেন, তাকে ‘দমিয়ে রাখা’ যাবে না।

নির্বাচন সামনে রেখে পার্টির মনোনয়নপ্রক্রিয়া শুরু করে দেওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না এরশাদকে। তার অসুস্থতার বিষয়ে জাতীয় পার্টির এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেওয়া হচ্ছিল সাংবাদিকদের।

২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই তিনি এমপি নির্বাচিত হন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পান।

এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে ‘অসুস্থ’ এরশাদের সিএমএইচে ভর্তির খবর এলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে গুঞ্জনের মধ্যেই জাতীয় পার্টির জোটসঙ্গী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত মাসের শেষে সাংবাদিকদের বলেন, এরশাদের অসুস্থতা ‘রাজনৈতিক‘ নয়; তিনি ‘সত্যিই’ অসুস্থ। তাকে দুই-এক দিনের মধ্যে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হতে পারে।

কিন্তু জাতীয় পার্টির তখনকার মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার তখন সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন ভিন্নভাবে। তিনি বলেন, এরশাদের অসুস্থতা ‘এমন কিছু নয়’। তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এর মধ্যে জাতীয় পার্টির মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষে বেশ কয়েকজন নেতা ‘মোটা টাকায়’ মনোনয়ন বিক্রির অভিযোগ তোলেন এরশাদ ও হাওলাদারের বিরুদ্ধে। হাওলাদার সে সময় তা অস্বীকার করেন।

ঋণ খেলাপের অভিযোগে পটুয়াখালী-১ আসনে হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেলে গত সোমবার অনেকটা আকস্মিকভাবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদে পরিবর্তনের ঘোষণা আসে। এরশাদের ‘সন্তানতুল্য’ এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে মহাসচিব করা হয় পার্টিতে ‘সরকারঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত মসিউর রহমান রাঙ্গাঁকে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে মহাজোটে নির্বাচন করছে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টি ২৯ জন প্রার্থী মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তবে এর বাইরে ১৩২ আসনে দলীয়ভাবে নির্বাচনে লড়বেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত