শিরোনাম

ঐতিহাসিক স্থানে ইতিহাস সৃষ্টি করলো হাশেম রেজার লাখো মানুষের জনসভা

প্রিন্ট সংস্করণ॥জিয়া উল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা  |  ০০:৫৪, অক্টোবর ২৩, ২০১৮

চুয়াডাঙ্গার-২ আসনের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হাশেম রেজার জনসভায় লাখো মানুষের উপস্থিতি জাতীয় কবি কাজী নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত কার্পাসডাঙ্গাকে এক ঐতিহাসিক মর্যাদা এনে দিয়েছে। এ কার্পাসডাঙ্গায় বসেই কাজী নজরুল ইসলাম রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত ‘লিচু চোর’ কবিতা বাবুদের তাল-পুকুরে, হাবুদের ডাল-কুকুরে, সে কি বাস করলে তাড়া, বলি থাম একটু দাঁড়া।’ ১৯২৬ সালে ২৭ বছর বয়সে কবি সপরিবারে এখানে বেড়াতে আসেন এবং প্রায় দুমাস কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থান করেন। তার সাথে এসেছিলেন শাশুড়ি গিরিবালা, স্ত্রী প্রমীলা ও বড় ছেলে বুলবুল। তারা কলকাতা থেকে ট্রেনযোগে দর্শনায় নেমে ৬ মাইল গরুর গাড়িতে করে কার্পাসডাঙ্গায় আসেন। এখনো কার্পাসডাঙ্গায় কবি নজরুলের স্মৃতি নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে আটচালা ঘর। কার্পাসডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা নির্বাচনি আসন-২-এর অন্তর্ভুক্ত। জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনি আসন ৮০। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের মধ্যে পড়েছে দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলা এবং সদর উপজেলার তিতুদহ ও বেগমপুর ইউনিয়ন। এ আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ১৪ হাজার ৭৬০ জন। এই ঐতিহাসিক স্থানে গত রোববার আর এক ইতিহাস সৃষ্টি করলেন হাশেম রেজার নৌকার এক জনসভা। জনসভার দিন কোনো হরতাল ছিল না। ছিল না কোনো ধর্মঘট। কিন্তু ওইদিন এলাকায় দোকানপাট ছিল বন্ধ। মানুষ ঈদ আনন্দের মতোই ঘর থেকে বের হয়ে এলেন। বিভিন্ন সাজে, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে, ছোট-বড়, আবাল বৃদ্ধ, শিশু নারী-পুরুষসহ সবাই দলে দলে হেঁটে, গাড়িতে, বাস, মাইক্রো, আলমসাধু, করিমন, নসিমন, পাখিভ্যান, সিএনজি, ট্রাক, ট্রলিট্রাক্টর, পিকআপ নিয়ে যোগদান করেন জনসভায়। বিকাল ৪টায় জনসভাস্থল অভিমুখে মানুষের যে ঢল নামে তা পূর্বে ধান্যঘরা থেকে পশ্চিমে মুচিবটতলা মোড় এবং উত্তরে ব্রিজ মোড় পার হয়ে কোমরপুর মোড় থেকে বাঘাডাঙ্গামোড় পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। শুধু মানুষ আর মানুষ। সভায় আগত অনেকেরই মন্তব্য হাশেম রেজার এ জনসভাই প্রমাণ করে চুয়াডঙ্গা-২ আসনে আ.লীগের বিজয় সুনিশ্চিত। এলাকার সর্বত্র শোভা পায় কাঠ-বাঁশ দিয়ে তৈরি আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী হাশেম রেজার ছবি। সুবোলপুর, আমডাঙ্গা, চিতলা, জীবননগর, নতুনগ্রাম থেকে রঙ-বেরঙের ৬০ হাত লম্বা বিশাল আকৃতির শতাধিক নৌকা, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন ও ব্যান্ড পার্টির বাদ্য যন্ত্র নিয়ে সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা নেচে গেয়ে মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসেন। জনসভা স্থলে আসা কুড়ুলগাছী মাঠপাড়ার আমেনা খাতুন বলেন, আমাদের আজ খুব আনন্দ হচ্ছে, আমরা সবাই এসেছি হাশেম রেজাকে ভালোবেসে, সে মানুষকে ভালোবাসে তাই আমরাও তাকে ভালোবাসি, আমরা চাই শেখ হাসিনা যেন তাকে টিকিট দেয়। শিউলী বেগম তার দুই সন্তানকে নিয়ে এসেছেন ঠাকুরপুর থেকে। তিনি বলেন, আমরা চাই হাশেম রেজা এমপি হোক। চারদিকে যখন নৌকার স্লোগান হচ্ছে তখন কথা হয় জাহাজপোতা থেকে আসা এক বৃদ্ধ আসগর আলীর সাথে। তিনি বলেন, আমার জীবনে এত বড় জনসভা আর দেখিনি, এত মানুষ, আসলে সত্যি হাশেম এমপি হওয়ার যোগ্য। যার এত বড় জনসভা সেই হাশেম রেজা হচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গার-২ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিচক্ষণ আর সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে দুর্বার গতিতে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল বাস্তবায়নের পথে। ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা এখন বাস্তব। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার পক্ষে থাকুন। আগামীতেও নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে, শেখ হাসিনার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে নৌকার পক্ষে ভোট চাইতে হবে, জনমত গঠন করতে হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত