শিরোনাম

নিষ্ক্রিয় ও জনবিচ্ছিন্নদের জোটে জনস্বার্থ নেই

বললেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী
প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৪০, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কড়া সমালোচনা করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেন, নিষ্ক্রিয় ও জনবিচ্ছিন্নদের জোটে জনস্বার্থ নেই। বাংলাদেশের জনগণের কি লাভ হবে? তাই জোটের নামে কোনো অরাজকতার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যুবলীগ প্রতিহত করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন উল্লেখ করে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন, নিষিদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বলা হয়েছে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা রাষ্ট্রীয় মদদে একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। রায়ের পর্যবেক্ষণে হাওয়া ভবনেই এই হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। সেই সময়ে সরকারে ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। এই রায় থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে এই নৃশংস সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। স্পষ্ট হয়েছে যে, এই ঘটনার সাথে শুধু তারেক জিয়াই নয়, বেগম খালেদা জিয়া এবং পুরো বিএনপিই জড়িত ছিল। এজন্য বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ মনে করে ২১ আগস্টের নৃশংসতম হত্যাকান্ডের জন্য বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে, তাদের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী আরও বলেন, আদালতের রায়ে বলা হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় এই ঘটনা ঘটানো হয়। তাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নির্দেশেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণেই খালেদাও গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িত। রায়ে আরও প্রমাণিত হয়েছে ওই গ্রেনেড হামলায় ক্ষমতাসীন বিএনপি সংগঠন হিসেবে জড়িত ছিল। বিএনপির প্রধান নেতা তারেক জিয়া এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হয়েছেন। তাই সংবিধানের ৩৮(গ) ধারা প্রয়োগ করে অবিলম্বে বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিএনপিকে নিষিদ্ধ করাই বর্তমানে রাজনীতি সচেতন জনতার মূল দাবি। শহীদ শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে, এখন তিনি ৫৫-তে পা রাখতেন। কিন্তু বাঙালি জাতির মানসপটে এখনো শেখ রাসেল শিশু। বাংলাদেশের শিশু অধিকার, বাংলাদেশের শিশুর রূপকল্প ভাবলেই শেখ রাসেলের মুখচ্ছবি আমাদের সামনে ভেসে ওঠে। একজন শিশু, মাত্র ১০ বছর ৯ মাস ২৭ দিন বয়সে ঘাতকের বুলেটে পৃথিবীর সব আনন্দ, সব ভালবাসা ত্যাগ করে চলে গেছে। কিন্তু শহীদ শেখ রাসেল যেন এখনো বেঁচে আছে, বাংলাদেশের সব শিশুদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে। সব শিশুদের জন্য রাসেল যেন এক উদ্দীপনা, অনুকরণীয় উদাহরণ। ৭৫-র ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে যে অপশাসন সেই অপশাসনই শিশুদের বিকাশে অন্তরায় হয়ে আছে। স্বৈরাচারী একনায়ক জিয়াউর রহমান কেবল শেখ রাসেলকে হত্যা করেনি, এদেশের শিশুদের শৈশবকে হত্যা করেছে, তাদের ভবিষ্যৎকে হত্যা করেছে। এসময় বিএনপিকে নিষিদ্ধের দাবিতে যুবলীগের পক্ষে ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে গণস্বাক্ষর অভিযান, বিএনপির রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবরে স্মারকলিপি ও সাক্ষাৎ, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি ও সাক্ষাৎ, নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি ও সাক্ষাৎ, প্রধান বিচারপতি বরাবর স্মারকলিপি ও সাক্ষাৎ, জাতিসংঘের মহাসচিব বরাবর স্মারকলিপি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বরাবর স্মারকলিপি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বরাবর স্মারকলিপি, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়। যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট-এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মো. ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আব্দুস সাত্তার মাসুদ, মো. আতাউর রহমান, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, অ্যাড. মোতাহার হোসেন সাজু, শেখ আতিয়ার রহমান দীপু, সম্পাদকম-লীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন স্বপন, আনোয়ার ইকবাল সান্টু, হারুন-অর-রশীদ, নাজমুল হোসেন টুটুল, কামাল উদ্দিন খান, মাহবুবুর রহমান পলাশ, মোরসালিন আহমেদ, খোরশেদ আলম মাসুদ, যুগ্ম সম্পাদক জাফর আহমেদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান, কাজী ইব্রাহীম খলিল মারুফ, আরমান হক বাবু, এমদাদুল হক এমদাদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সারোয়ার হোসেন বাবু।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত