শিরোনাম

খালেদার অনুপস্থিতিতে কে হবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম  |  ০০:১৩, অক্টোবর ১৯, ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে! বিরোধী দলীয় শক্তি আগামী নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট জয়ী হলে পরবর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনে যাবে কিনা? ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা কে? ঐক্য থেকে বের হয়ে যাওয়া বি. চৌধুরী সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য কী? জামায়াতের ভূমিকা কী থাকবে? নির্বাচনের আগে দেশবিরোধী কোনো সহিংস আন্দোলনে যাবে কিনা? ২৫টি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে নবগঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কাছে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতে ড. কামালের কাছে এমন ১১টি প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন কূটনীতিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে গুলশানে হোটেল লেকশোতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৩টার দিকে প্রায় ঘণ্টাখানেক চলে এ বৈঠক। বৈঠকের শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এরপর ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেন সাত দফা ও ১১ দফা ইংরেজিতে কূটনীতিকদের সামনে তুলে ধরেন। এর আগে ড. কামাল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে কূটনীতিকদের সামনে শক্তিশালী নেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। বৈঠক শেষ হওয়ার পর উপস্থিত থাকা তিন নেতার সঙ্গে আমার সংবাদের সঙ্গে একান্তে আলাপ হয়। তারা জানান, কূটনীতিকদের পক্ষ থেকে ড. কামালের কাছে আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গ ও সম্পৃক্ত রাজনৈতিক বিষয়ে ১১টি প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন ছিলো বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিপরীতে লিডার (নেতা) কে হবেন? বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। নির্বাচনের আগে তার মুক্তির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় সেক্ষেত্রে নেতৃত্ব সংকট কীভাবে পূরণ হবে? জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘এখানে একক নেতৃত্ব নেই। যৌথ নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে।’ আমাদের দেশে সংসদীয় পদ্ধতিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। আমরা ক্ষমতায় এলেও সেভাবেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার দেওয়া হবে কাউকে। বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তিনি কারাগারে থাকলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে কি না এমন প্রশ্নও জানতে চেয়েছেন কূটনীতিকরা। এ প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল কূটনীতিকদের জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। সরকার যদি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে তাহলে তারা অবশ্যই নির্বাচনে যাবেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবং ঐক্যফ্রন্টে স্থান না পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা নিয়েও ঐক্যফ্রন্টের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চান কূটনীতিকরা। এ প্রসঙ্গে ড. কামালের উত্তর ছিল এরই মধ্যে এ বিষয়ে আমাদের দেশীয় গণমাধ্যমে ঐক্যফ্রন্টের বক্তব্য উঠে এসেছে। এর বাইরে আর কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। নির্বাচনের আগে দেশবিরোধী কোনো সহিংস আন্দোলনে যাবে কিনা? কূটনীতিকদের এমন প্রশ্নে ড. কামাল বলেন, আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের প্রতি চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে, কোনো সহিংস আন্দোলন করা হবে না।আরও জানা গেছে, প্রায় ৫৫ মিনিটের বৈঠকের পর ঐক্যফ্রন্টের লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন কূটনীতিকরা। পরে কূটনীতিকদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিপর্যায়েও আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে বৈঠক নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এখনই বলার সময় হয়নি। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, আমরা বিদেশিদের সঙ্গে ৭ দফা ও ১১ লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করেছি। এসব দাবি আমরা তাদের কাছে তুলে ধরেছি। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই, বিচারব্যবস্থা নেই, মানুষের অধিকার নেইÑ এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কূটনীতিকরা কী বলেছেন জানতে চাইলে ড. মঈন বলেন, তারা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা কী ভাবছে, সেটা তারাই বলতে পারেন। আপনারা তাদের কাছ থেকেই জেনে নিতে পারেন। বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, আমরা নির্বাচনের দাবিগুলো জানিয়েছি। তারাও আমাদের কথা শুনেছেন। জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্ট নেতা আমিনুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, কূটনীতিকদের কাছে আমাদের সাত দফা ও ১১ লক্ষ্য তুলে ধরাই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, আমাদের দাবি ও লক্ষ্য তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আশা করি, ভালো ফিডব্যাক পাব। আমরা আশাবাদী। একই কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরুও। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, কাতার, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্কসহ ২৫ দেশের রাষ্ট্রদূত-হাইকমিশনার ও তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমদ, জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের সুব্রত রায় চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রমুখ।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত