শিরোনাম

সারাদেশে বিএনপির ৩৫০০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৭:৪৬, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

পুলিশ মামলা হামলার বন্যা বইয়ে দিয়েছে।‘বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত তথ্য মতে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে গায়েবি মামলা করা হয়েছে তিন হাজারের অধিক। আসামি করা হয়েছে নামে-বেনামে প্রায় তিন লাখ নেতাকর্মীকে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন হাজার ৫০০ এর অধিক নেতাকর্মীকে।’

শুক্রবার (১৪সেপ্টেম্বর) সকালে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়ি ছাড়া, পরিবার ছাড়া পলাতক জীবন বেছে নিতে হয়েছে। প্রতিদিন রাতেই পোশাকধারী ও সাদা পোশাকধারীরা বিএনপি নেতাদের বাসা-বাড়িতে হানা দিচ্ছে, তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করা হচ্ছে দুর্ব্যবহার। আর মামলা দিয়ে সারাদেশকে ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য দুটি। একের পর এক মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাজার স্তুপ বৃদ্ধি করা, আরেকটি উদ্দেশ্য দিনের পর দিন আটকে রেখে শারীরিক অসুস্থতার আরো অবনতি ঘটিয়ে বেগম জিয়াকে বিপর্যস্ত করা। গতকালও আপনারা দেখেছেন হুইল চেয়ারে করে তাকে নিয়ে আসা হয়েছে। হাত-পা নড়াতে তার অসুবিধা হচ্ছিল। তিনি এতোটাই অসুস্থ ছিলেন যে, তিনি রীতিমতো কাঁপছিলেন এবং চেয়ার থেকে দাঁড়াতে পারছিলেন না। বার বার দাবি করা সত্যেও তার সু-চিকিৎসায় সরকার অবহেলা করেছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শনুযায়ী তার যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়নি। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার সু-চিকিৎসার দাবি বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে। গণমাধ্যমের কর্মীরা গতকাল স্বচক্ষে দেখলেন এবং তাদের মাধ্যমে জাতি আবারো জানলো বেগম খালেদা জিয়া কতটা গুরুতর অসুস্থ। তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে রেখে নির্যাতন করছেন সরকার প্রধান।পরিত্যক্ত কারাগারে তাকে যে কক্ষটি দেয়া হয়েছে তা বাস করার জন্য অনুপযুক্ত। মেরামতহীন অপরিচ্ছন্ন জরাজীর্ণ কক্ষটি দেয়া হয়েছে সরকারের ইচ্ছায়। বেগম জিয়া যাতে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিজ কক্ষে নির্বিঘ্নে বাস করতে না পারেন, তিনি যেন সারাক্ষণ কষ্ট পান সে জন্যই এই ব্যবস্থা।

রিজভী বলেন, সামগ্রিকভাবে আইন ও বিচারিক কার্যক্রমেই দেখা যায় বেগম জিয়ার ওপর জুলুমের প্রকাশ। দেশনেত্রী অসুস্থ থাকলেও জোর করে হলেও আদালতে নিয়ে আসতে হবে- এ ধরনের এক আক্রোশের মনোবৃত্তি ফুটে ওঠে আইনী কার্যক্রমে।

তিনি বলেন, বেগম জিয়ার ওপর যে অবিচার চলছে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন। এটি সরকারের বেআইনী হিংস্র আচরণ। এর জবাব ক্ষমতাসীনদের জনগণের কাছে দিতেই হবে। যে মামলায় বেগম জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়েছিল, সেই মামলায় তিনি জামিনে আছেন। অর্থাৎ বেগম জিয়াকে এখন বিনা বিচারে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশের সিনিয়র নাগরিক তার প্রতি সরকারের এমন নিষ্ঠুর আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা অবাধ ও সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চান না। কারণ এ ধরনের নির্বাচন হলে শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পরাজয় হবে। তাই একতরফা ভোটারশূন্য নির্বাচন করার জন্য শেখ হাসিনা সারাদেশে বিরোধীদলশূন্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িছাড়া, পরিবার ছাড়া পলাতক জীবন বেছে নিতে হয়েছে। প্রতিদিন রাতেই পোশাকধারী ও সাদা পোশাকধারীরা বিএনপি নেতাদের বাসা ও বাড়িতে হানা দিচ্ছে, তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের সাথে করা হচ্ছে দুর্ব্যবহার, গ্রেপ্তার করছে এবং জলোচ্ছ্বাসের মতো মামলা দিয়ে সারাদেশকে ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকারের বাহিনীগুলো বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জান্তব হিংস্রতায় ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, দপন-পীড়নের এতো তীব্র মাত্রার পরও জাতীয়তাবাদী শক্তির ক্ষয় হয়নি। জনগণের নীরব ক্ষোভ প্রতিদিন বেড়েই চলছে। সরকার বিরোধী দলের ওপর যত জুলুম করছে ততই সরকারের পতন ঘনিয়ে আসছে। অশান্তির আগুনে ভিতরে-ভিতরে মানুষ দগ্ধ হচ্ছে। জনগণের সাথে প্রতারণার মাশুল সরকারকে দিতেই হবে।

পোলিও টিকা খাওয়াতে সরকারের স্লোগানের উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এই মামলার ঘটনায় নিজের মতো করে একটি স্লোগান তৈরি করেন। তিনি বলেন, “এখন সরকার এই শ্লোগানটি ভিন্ন অর্থে প্রয়োগ করছে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর। অর্থাৎ ‘মামলা-হামলায় বাদ যাবে না একটিও বিএনপি নেতাকর্মী’।”

‘পুলিশের আগ্রাসী অভিযানে দেশের মানুষের জানমাল নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘এদেশে বিদেশি মিশনের কূটনীতিকদেরও নিরাপত্তা নেই। বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের উপরও হামলা হয়েছে। কোথাও আওয়াজ শুনলেই সেখানে সরকারি হামলা ধেয়ে আসছে।’ পরোয়ানা, গ্রেপ্তার, হাজতবাস, নিষ্ঠুর বিচার এখন মানুষের নিয়তি হয়ে গেছে বলে মনে করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘শুধু বিরোধীদল নয়, গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষকে এই সরকার অপরাধী বানাচ্ছে।’

‘সরকারের এই অপরাধের তালিকায় আছেন কোমলমতি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক, শিল্পী, আলোকচিত্রী, সাংবাদিক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, যাত্রী কল্যাণের মহাসচিব মোজাম্মেল হক এর ন্যায় নিরীহ নাগরিক, শিশু, অশীতিপর বৃদ্ধসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।’ ‘বাদ যায়নি কবরে শায়িত লাশ, প্যারালাইজড রোগী, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, পবিত্র হজব্রত পালনরত ব্যক্তিও। সরকার প্রধানের মনে ত্রাস ও ভয়ের সৃষ্টি হওয়ায় দেশজুড়ে চলছে সরকারি জুলুমের আতিশয্য।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে কুর্নিশ করতে হবে, কোন সমালোচনা চলবে না, এর ব্যত্যয় হলেই তার ঠাঁই হবে কারাগারে। এই তুঘলকি শাসন এখন চলছে বাংলাদেশে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত