শিরোনাম

কারও মাঝে ঈদের আনন্দ নেই: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৬:১২, আগস্ট ২০, ২০১৮

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মানুষের মনে ঈদের আনন্দ নেই। ‘সরকারের দুর্নীতি, টাকা পাচার, চাঁদাবজি, দখলবাজিতে মানুষ অতিষ্ঠ। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষ দিশেহারা। একদিন পরই ঈদুল আজহা। অথচ মানুষের মনে আনন্দ নেই।’

সোমবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, ড. মামুন আহমেদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ড. ওবায়দুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহীন, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এক দশকের মধ্যে ঈদ বাজারে এমন মন্দাভাব আগে কখনও দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা দোকানে ঈদের সামগ্রী তুলে বিপাকে পড়েছেন। বেচা-বিক্রি বন্ধ। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার জন্য ঘরমুখী মানুষরা প্রচণ্ড দুর্দশার মধ্যে পড়েছে। এ হলো দেশের বর্তমান অবস্থা।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল কিছু শিক্ষার্থী জামিন পেলেও এখনও বহু নিরপরাধ শিক্ষার্থী কারাগারে বন্দি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের জামিন মেলেনি এখনও। তাদের অভিভাবকদের আহাজারি আর কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জালনথির ওপর ভিত্তি করে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলেও দাবি রিজভীর। তিনি বলেন, ‘তিনি বার বার উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও নতুন নতুন মামলা ও অজুহাত দেখিয়ে তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও তাকে চিকিৎসা না দিয়ে নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, শুধুমাত্র আওয়ামী ভাবাপন্ন কিছু সংখ্যক লোক হয়ত নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারে, কিন্তু বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, দেশের সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধরাণ শিক্ষার্থী, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা এখন ‘অবৈধ’ সরকারের নানা বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত, ক্ষতবিক্ষত।’

রিজভী বলেন, ‘এতদিন শুধু বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা, জেল-জুলুম, নির্যাতন নিপীড়নের খড়গ চলছিল। চলছিল অপহরণ, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা। এখন হামলা. মামলা, রিমান্ড এমনকি তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরীহ শিক্ষার্থীদের।’

স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নিরীহ ও নিরপরাধ শিক্ষার্থীরা ন্যায় সঙ্গত ও যৌক্তিক আন্দোলনে অংশ নিয়ে ন্যায্য দাবিতে প্রতিবাদ করে এখন তারা কারাবন্দি। গতকাল কিছু শিক্ষার্থী জামিন পেলেও এখনও বহু নিরপরাধ শিক্ষার্থী কারাগারে বন্দি। মাথার ওপর মিথ্যা মামলার খড়গ ঝুলছে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের জামিন এখনও মেলেনি উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘তাদের এবং তাদের অভিভাবকদের আহাজারি আর কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। অভিভাবকরা এক থানা থেকে আরেক থানা, আদালত থেকে আদলতে ছুটাছুটি করেও জামিন করাতে পারেননি সন্তানদের। মিনতি জানালেও জনসমর্থনহীন সরকারের পাষাণ হৃদয় গলেনি।’

অজ্ঞাতনামা মামলায় হাজার হাজার আসামি করায় ঢাকাসহ সারাদেশের অভিভাকরা অজানা আতঙ্কে আছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা তাদের সহপাঠীদের জীবন বাঁচাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদ করেছিল সেটা কি অপরাধ? শিক্ষার্থীদের ন্যায় সঙ্গত কোটা সংস্কার আন্দোলন কি অপরাধ? অন্যায়ের বিরুদ্ধে মতপ্রকাশ করা কি অপরাধ?

রিজভীর প্রশ্ন—‘বেআইনি অস্ত্রে সজ্জিত হেলমেটধারী সরকারি দলের ক্যাডাররা ধাওয়া করে শিক্ষার্থীদের উপর আক্রমণ করে রক্তাক্ত করা কি ন্যায়সঙ্গত? আওয়ামী ক্যাডারদের হাতে আইন তুলে নেওয়া কি বৈধ কাজ? তাদের নামে মামলা কেন হলো না! তারা কেন গ্রেফতার হলো না!’

‘মনে হয় সরকারি দলের ক্যাডারদের প্রকাশ্যে সহিংস সন্ত্রাসের জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে । সে কারণে তারা আইনের ঊর্ধ্বে। সে জন্যেই প্রধানমন্ত্রী নিজ দলীয় ক্যাডারদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন অথচ আহত কোমলমতি শিক্ষার্থী ও আহত সাংবাদিকদের দেখতে যাননি’— বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘তবে এ অনাচারগুলোর উত্তর একদিন ক্ষমতাসীনদের দিতেই হবে। জবাবদিহীতার দিন ঘনিয়ে আসছে। ঈশান কোনে কালো মেঘ দেখা দিয়েছে, যে কোনো মুহূর্তে কালবৈশাখীর মত্ত ঝাপ্টায় বিনা ভোটের সরকার হুড়মুড় করে পড়ে যাবে।’

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘একদিন পরই মুসলিম বিশ্বর আরেকটি বড় উৎসব ঈদ-উল আযহা। ঈদ মানেই উৎসব, ঈদ মানেই আনন্দ। কিন্তু মানুষের মনে ঈদের আনন্দ নেই।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত