শিরোনাম
সাড়াবাড়িয়ায় পথসভায় হাশেম রেজা

প্রতিটি মসজিদ-মন্দিরে বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করুন

প্রিন্ট সংস্করণ॥আজাদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা  |  ০০:২৬, আগস্ট ২০, ২০১৮

এলাকার প্রতিটি মসজিদ-মন্দিরে বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করুন। কারণ যে মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বিশ্বের প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সৃষ্টি করেছেন সেই বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। তাইতো বলতে হয়Ñ ‘তুমি জন্মেছিলে বলে জন্মেছিল এই দেশ, মুজিব তোমার আরেক নাম স্বাধীন বাংলাদেশ’। যে বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হতো না, সেই মহান নেতাকেই বাঙালি জাতির কিছু কুলাঙ্গার সন্তান আর তাদের বিদেশি দোসররা নির্মমভাবে এই আগস্ট মাসে হত্যা করেছে। সে কারণে জাতীয় শোকের মাসে আপনারা সবাই বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করুন, তাকে নিয়ে গবেষণা করুন, তার রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করুন আর তার সারা জীবনের স্বপ্ন সোনার বাংলা বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রতিটি গ্রাম বা ওয়ার্ডে ধারাবাহিক পথসভার অংশ হিসাবে গতকাল রোববার বিকালে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের অধীন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড সাড়াবাড়িয়া বাজারে দলীয় পথসভায় এ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সহ-সম্পাদক, দেশের অন্যতম সেরা জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদ সম্পাদক জননেতা হাশেম রেজা উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকসহ সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সাংবাদিক আজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় ও নবগঠিত গড়াইটুপি ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি আরও বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই আমাদের চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সকল ভোটারের কাছে যেতে হবে। কিন্তু তার আগে আমাদের দলীয় নেতা-কর্মী বিশেষ করে দলের সাংসদের অনিয়ম-দুর্নীতি ও বিভিন্ন অপকর্মের কারণে যারা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, সেইসব সহজ-সরল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের আবারো দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। সংখ্যার দিক দিয়ে তারা কিন্তু একেবারে কম নয়, তাদের উজ্জীবিত করতে না পারলে এ আসন ধরে রাখা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। এখানকার বর্তমান সাংসদের একগুয়েমি মনোভাবের কারণে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাংগঠনিক কাঠামো শেষ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলা লীগের মধ্যে গ্রুপিং এখন চরমে। দলের প্রকৃত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সাইড করে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার যখন সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি করে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন, যখন বিশ্ব নেতারা আমাদের দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে ধরে অনুসরণ, অনুকরণ করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখন আমাদের বর্তমান সাংসদ তার এলাকায় কোনো উন্নয়ন না করেও নিজে নিজেই উন্নয়নের কথিত রূপকার সেজে বসে আছেন। তিনি ঢাকায় থাকেন। এলাকায় এলে কেবল দামুড়হুদা, জীবননগর আর দর্শনায় সরকারি কিছু নিয়ম রক্ষার সভায় যোগদান করে ঢাকায় ফিরে যান। তিনি যাদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, এখন আর তাদের কাছে যান না, যেতে ভয় পান। দীর্ঘ অবহেলিত সেইসব এলাকার ভাঙা রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, মসজিদ, মাদরাসার উন্নয়ন করে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার এলাকার সকল মানুষকে বিদ্যুৎ দেবেন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন, ক্রীড়াঙ্গনে খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন, এরকম হাজারো কথা বলে এসে এতদিনে তিনি শুধু নিজের আর নিজের পরিবারের উন্নয়ন করেছেন। সেকারণে তিনি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের কোনো গ্রামে যান না, এটা আমার নিজের কথা না, এলাকার মানুষ এসব বলাবলি করছেন। আমি চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সকল স্থানে প্রতিনিয়ত গিয়েছি, অবহেলিত-বঞ্চিত সেসব মানুষের খোঁজ নিচ্ছি। সীমিত সামর্থ্যরে মাঝেও নিজের সাধ্যমতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। শোষণ-বঞ্চনা আর অবহেলার কারণে দলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া সেইসব নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের তাদের ভুল ভাঙিয়ে আবারো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ আওয়ামী লীগের পতাকা তলে নিয়ে আসার চেষ্টা করে চলেছি অবিরাম। পথসভা স্থলে সমবেত সকল মানুষ, সাংবাদিক এবং সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের অনুরোধ করে জননেতা হাশেম রেজা বলেন, আপনাদের যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে এ আসনের প্রতিটা গ্রাম, ইউনিয়ন, হাট-বাজার ও মহল্লায় গিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখুন, এলাকাবাসীর সাথে কথা বলুন, অবশ্যই আমার কথার সত্যতা খুঁজে পাবেন। বিগত প্রায় ১০ বছর যাবত ক্ষমতায় থেকে আমাদের সাংসদ কি করেছেন, তার নির্বাচনি এলাকার কোথাও একটি ইটের কাজও করেননি। আমি এর বেশিকিছু বলতে চাই না। কারণ তিনি আমাদের দলের নেতা। কিন্তু আপনারা দেখেন যদি এ বিষয়ে তিনি আন্তরিক হতেন তাহলে উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান সারা দেশের সাথে আমাদের এ এলাকাকেও সম্পৃক্ত করতে পারতেন। পারতেন এলাকার বিগত চার দলীয় জোট সরকারের উন্নয়ন-বঞ্চনার জবাব দিতে। যেভাবে এলাকাবাসী তাকে ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছিল, তার প্রতিদান দিতে। এ পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উদীয়মান তরুণ জনপ্রিয় নেতা হাশেম রেজা উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ যদি আপনারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে থাকেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অবিচল আস্থা রেখে চলেন তাহলে কেউ নৌকার বিপক্ষে যাবেন না, আপনাদের আগামী জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকায় ভোট দিয়ে পুনরায় জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় আনতে হবে। কিছু নেতা আজ ক্ষমতার লোভে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে চলেছেন। আপনাদের সবাইকে সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে যে উন্নয়নের জোয়ার সৃষ্টি করেছেন নেত্রী ছাড়া কারো পক্ষে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। পরিশেষে গণ-মানুষের নেতা হাশেম রেজা উল্লেখ করেন আমি রাজনীতি করতে এসেছি, এমপি হতে নয়। আমি বিগত ১৪ বছর যাবৎ মানুষের মাঝে রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের বার্তা নিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, এই বার্তা নিয়ে এলাকার প্রতিটি ঘরে যেতে চাই। আমি আপনাদের শাসক বা শোষক হতে চাই না। কিছু নিতে নয়, দিতে এসেছি। আমেরিকা, কানাডা, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব কিংবা ঢাকার মনসুরাবাদে আলিশান বাড়ি করার জন্য রাজনীতি করতে আসিনি। সময় এসেছে যে আপনাদের ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে আপনাদের কথা মনে রাখেনি, এলাকার হাট-ঘাট, বিল-বাঁওড় দখল করে নিয়েছেন, হাজার কোটি টাকার নিয়োগবাণিজ্য করেছেন, জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক সম্রাটদের সযেত্ন লালন করে চলেছেন তার দাঁতভাঙা জবাব দেয়ার।এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জানমহাম্মদ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ, হাউলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হক মন্ডল, দামুড়হুদা উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এসএম মহাসীন আলী, হাবিবুর রহমান হাবি, মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, জুড়ানপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক মজিবুল হক প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম মিন্টু, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, মাসুম বিল্লাহ মন্টু, জেলা মৎস্যজীবী লীগের সহ-সভাপতি সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম, দামুড়হুদা উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মলীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল-বাখার ডলার, মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, সাংবাদিক জিল্লুর রহমান মধু , সালাহউদ্দীন, আব্দুল মজিদ, আন্দুলবাড়িয়ার যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম, জীবননগরের যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম, রায়পুরের যুবলীগ নেতা শাহবুদ্দিন খান, যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম, বিপ্লব হোসেন দিলু, আ. রাশেদ, বিল্লাল, সাব্বির, মিয়াজী খান, লিপ্টন, আ. রাজ্জাক, সোহেলরানা, কামরুজ্জামান, জাহাঙ্গীর, মিন্টু, সান্টু, মজনু, তরিকুল ইসলাম, রঞ্জুসহ অনেকে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত