শিরোনাম

সরকার পরিবর্তনের সময় এসে গেছে: মওদুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৬:৫৪, আগস্ট ১০, ২০১৮

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সরকার পরিবর্তনের শেষ সময় এসে গেছে। ‘আমি অনেক দিন আগে একটি কথা বলেছিলাম, অতি দ্রুত রাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটবে। কখন, কোথায়, কী ঘটবে আমরা কেউ তা জানি না। এটুকু জানি, এই সরকারের শেষ সময় এসে গেছে। দ্রুত বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটবে।’

শুক্রবার (১০ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সব কিছু দেখে মনে হয়, দেশে কোনো সরকার নাই। যেটুকু আছে, তার পরিবর্তনের সময় এখন এসে গেছে, শেষ সময় এসে গেছে। সময় আসছে, সত্যিকার অর্থে ইমানি ভূমিকা পালন করতে হবে’

মন্ত্রীসভায় প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার রাজনৈতিক প্রতারণা করেছে। এর চেয়ে বড় প্রতারণা আর হতে পারে না। শিক্ষার্থীরা হত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। কিন্তু আইন যা ছিল, তাই রাখা হয়েছে। আইনে শুধু পরিবর্তন হয়েছে—তিন বছরের জায়গায় ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং হত্যা যদি প্রমাণিত হয় তাহলে ফাঁসি হবে!’

মওদুদ বলেন, ‘আমাদের নেত্রী কারাগারে, সবাই মামলায় জর্জরিত। বিএনপিকে নিঃশেষ করার যেই পরিকল্পনা, তাতে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু তাতে কি দেশের কোনও উন্নতি হয়েছে? প্রকৃতির যে আইন তা নিজস্ব গতিতে চলে। এর একটি দৃষ্টান্ত কোটা আন্দোলন এবং আরেকটি হলো শিক্ষার্থীদের হত্যার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন। এগুলো কী আমরা কখনও কল্পনা করতে পেরেছিলাম? আজকে এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসবে এটা কি আমরা কখনও ভেবেছিলাম? এটাকেই বলে প্রকৃতির আইন।’

মওদুদ বলেন, ‘সবকিছু দেখে মনে হয় দেশে কোনও সরকার নেই। পুলিশ আছে, র‍্যাব আছে, কিন্তু কোনও সরকার নেই। রাজধানীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা করা হলো, কারা হামলা করেছে আমরা সবাই জানি কিন্তু কোনও গ্রেপ্তার নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০০ কোটি টাকা চলে গেল, সোনা চুরি হলো, কয়লা চুরি হলো, পাথর চুরি হলো, কঠিন শিলা চুরি হলো, কিন্তু একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দেশে সরকার থাকলে এগুলো হওয়ার কথা নয়।’

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মওদুদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার সরকারের তল্পিবাহক ব্যক্তি। কিন্তু বিবেকের তাড়নায় একটি সত্য কথা বলে ফেলেছেন, আগামী নির্বাচনে অনিয়ম যে হবে না তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। তার এই বক্তব্যের পরেই অন্য কমিশনাররা দ্বিমত পোষণ করেছেন। এরপরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আর নিজের পদে থাকার কোনও অধিকার থাকতে পারে না। আমরা অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করি।’

সাংবাদিকদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনেক সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। কিন্তু এরপরে শহিদুল আলমের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে এটা অকল্পনীয়। সরকার একদম বেপরোয়া হয়ে গেছে। সরকার বুঝতে পেরেছে জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আর নেই। জনগণ থেকে তারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই উপলব্ধি আজকে তাদের মধ্যে এসেছে বলেই তারা হিংস্র ও নিষ্ঠুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে ২২ জন ছাত্রকে রিমান্ডে পাঠানোর পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে, অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।

‘নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হবে না, এমন গ্যারান্টি দেওয়া যাবে না’— প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার এমন বক্তব্যের জবাবে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘চার জন নির্বাচন কমিশনার সিইসির বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আর ওই পদে থাকতে পারেন না। ওই পদে থাকার নৈতিক অধিকার তিনি হারিয়েছেন।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত