শিরোনাম

‘হেলমেটপরা আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মী ছিল’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১২:৫৯, আগস্ট ১০, ২০১৮

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ‘হেলমেটপরা ও মুখোশধারী আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মী ছিল। এটি আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্রছাত্রীরা বলার পরও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়।’

শুক্রবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের এই বক্তব্যের জবাব দেন ফখরুল। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে শিক্ষার্থীরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। সেই আন্দোলন এক পর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। সরকার পক্ষ থেকে বলা হয় আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে জামায়াত-বিএনপি। বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ফোনালাপও ফাঁস হয়।

উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে।

এমন পরিস্থিতিতে দলের অবস্থান তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সমম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই যে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সহিংস কোনো কর্মকাণ্ডে বিএনপি কখনো জড়িত ছিল না।’ হামলায় জড়িত ছিল যুবলীগ ও ছাত্রলীগ।

তিনি বলেন , ‘হেলমেট পরা ও মুখোশধারী আক্রমণকারীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগকর্মী ছিল। এটি আহত সব সাংবাদিক এবং ছাত্রছাত্রীরা বলার পরও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের বিচার করার জন্য নাম চান। এমন বাজে রসিকতায় তিনি আনন্দ পেতে পারেন কিন্তু দেশবাসী লজ্জিত হয়।’ ‘তারাই (কাদের) পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সেই পুলিশই তাদেরই নির্দেশে হেলমেট ও মুখোশধারীদের মানুষ কোপানোর এবং অতঃপর নির্বিঘ্নে সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার পর হামলায় আহতদের কাছে নাম চাওয়া একটা নোংরা রসিকতা ছাড়া আর কিছু হতে পারে না।’

‘‘যারা পুলিশের সামনে হেলমেট ও মুখোশ পড়ে সহিংসতা করেছে, সাংবাদিকসহ আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে, আওয়ামী লীগের সেই ‘সন্ত্রাসীদের’ অবিলম্বে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি’’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শেষ দিকে অছাত্রদের এই আন্দোলনে জড়িয়ে যাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতাও। ছাত্রের পোশাক পরাদের মধ্যে যেমন চাপাতি হাতে তরুণদের দেখা যায়, তেমনি আবির্ভাব ঘটে হেলমেটধারী কিছু তরুণের, যারা আক্রমণ চালিয়েছে সাংবাদিকদের ওপরও।

অভিযোগ উঠেছে, যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে তারা ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত। তবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগ জড়িত, এই প্রমাণ পেলে তিনি বিচার করবেন। প্রমাণসহ তালিকাও চেয়েছেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংঠগন এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীগণ ও পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত শিশু কিশোরদের ৯ দফা দাবি আন্দোলন ও কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আমরাও বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করি।

‘কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে প্রথম দিন থেকেই সরকার এই আন্দোলনে ষড়যন্ত্র ও উসকানি আবিস্কারের অপচেষ্টা চালাতে শুরু করে। তাদের আক্রমণে নিরীহ ছাত্র-ছাত্রীরা গুম হয়েছে, আহত হয়েছে, মিথ্যা মামলায় হয়রানী হয়েছে। প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব ড. অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিও তাদের কটুক্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না’— বলেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘আজ স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনকে পেশী শক্তি দিয়ে দমন করার অপকৌশল হিসেবে বিএনপিসহ আন্দোলন সমর্থনকারী রাজনৈতিক, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সচেতন ব্যক্তিবর্গকে বিভিন্ন কায়দায় নিপীড়ন চালিয়েছে সরকার। বিএনপির মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ সারাদেশে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তার করে নিপীড়ন করেছে বহু নেতা-কর্মীকে। অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরাও নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পায়নি।’

সরকারি দলের সিদ্ধান্তেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোস পরে অগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, কিরিচ, রামদা ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর অমানবিক হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘পুলিশের সহায়তায় এবং তাদের সামনে বিএনপি-জামায়ত কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি-সোটা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মারপিট করবে, দায়িত্বপালনরত সাংবাদিকদের কোপাবে, ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিস আক্রমণ করবে আর তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে না— এটা পাগলেও বিশ্বাস করে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি মানার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার মন্ত্রীসভায় সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনী অনুমদন করেছে, তা পরিবহণ মালিক সমিতি ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে। সংশোধিত এই আইনে ছাত্র-ছাত্রীদে দাবিকৃত নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না।

ফখরুল বলেন, ‘এই আইনে সড়ক পরিবহণ খাতে মানুষ হত্যা ও অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা এড়ানোর স্পষ্ট দিক নির্দেশনা কিম্বা কঠোর শাস্তির বিধান নেই। শুধু চালকের অপরাধে দূর্ঘটনা ঘটে না। চালক নিয়োগে, গাড়ির ফিটনেস যথাযথ করা এবং চালকদের বেতন, ভাতা, অবসর শারিরীক সুস্থতা ইত্যাদি দেখার দায়িত্ব যে মালিকদের।

‘এছাড়া বিআরটিএ এর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমনের কোন বিধান আইনে রাখা হয়নি। দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলা হবে কি না?— এটা নির্ধারণের দায়িত্ব নিরপেক্ষ, যোগ্য, সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের মতামতেরও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমরা এই আন্দোলন এবং দীর্ঘদিন ধরে যারা নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছেন তাদের সাথে অর্থবহ আলোচনা করে প্রস্তাবিত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর দাবি জানাচ্ছি’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত