শিরোনাম

খালেদার জীবন নিয়ে শঙ্কায় বিএনপি

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০০:৫০, জুলাই ১২, ২০১৮

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। বিএনপির ভাষ্যÑ খালেদাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এম শঙ্কা প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শঙ্কা তো বটেই। এক হচ্ছে রাজনীতি থেকে, দুই হচ্ছে নির্বাচন থেকে এবং এখন আশঙ্কা যেটা হচ্ছে, সেটা হলো পৃথিবী থেকে খালেদা জিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কী না সেটাই এখন আমাদের আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ ‘তার স্বাস্থ্যের কথা আমরা বহুবার বলেছি। এখন তার চিকিৎসার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। তাকে একটা বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল কিন্তু নিচ্ছেন না। বিভিন্ন টালবাহানা করে এখন আর কোনো চিকিৎসককে তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। উদ্দেশ্যটা কী? উদ্দেশ্য কি আপনারা তাকে সলিটারি কনফাইনমেন্টে রেখে শেষ করে দিতে চান?’ এমন প্রশ্ন ফখরুলের। তিনি বলেন, ‘ইতিহাস আপনাদের ক্ষমা করবে না। তাই আমরা আবার বলতে চাই, তাকে মুক্তি দিয়ে, সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেশে একটা পরিবেশ সৃষ্টি করুন।’গত ১০ দিনে খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজনরা বারবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আত্মীয়স্বজন বারবার চিঠি দিলেও কারাকর্তৃপক্ষ বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।’ তিনি বলেন, ‘কারাবিধি অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষই যথেষ্ট একজন ভিজিটরকে সাক্ষাৎ দেওয়ার জন্য। সেই ভিজিটরদের মধ্যে পড়েন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে পড়ে রাজনৈতিক সহকর্মী এবং আইনজীবী এটা জেলকোডেই আছে। জেলকোডের ২০০৬-এর ৬৬৩ থেকে ৬৮৮ ধারামতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে দেখা করার অধিকার রয়েছে। এটা তার সাংবিধানিক অধিকার।’সাংবিধানিক অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এবং এটি করে তারা (সরকার) প্রকৃতপক্ষে মানবাধিকার লংঘন করছেন, সংবিধান লংঘন করছেন’ অভিযোগ ফখরুলের। তিনি বলেন, ৩০ জুন সর্বশেষ খালেদা জিয়ার আত্মীয়-স্বজনরা তার সঙ্গে দেখা করেছেন। এরপর গত ১০ দিনে কয়েক দফা চেষ্টা করেও আত্মীয়-স্বজনরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, আমরাও দেখা করতে পারিনি, আইনজীবীরাও দেখা করতে পারেননি। ‘জেল সুপারকে বলা হলে তিনি বলেন আইজি প্রিজনকে বলেন। আইজি প্রিজনকে বলা হলে তিনি বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বললে, তিনি বলেন এক নম্বরের সম্মতি ছাড়া আমার পক্ষে কিছু করা সম্ভব না। আমি নিশ্চয়ই আপনাদের বিষয়টি বোঝাতে পেরেছি’ বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, যেখানে জেল সুপারই ফাইনাল অথোরিটি, সেখানে সাক্ষাতের জন্য যদি সরকারের প্রধান ব্যক্তির কাছে যেতে হয়, তাহলে এই দেশে অবশিষ্ট আর কিছু নেই। ফখরুল বলেন, যে মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে, সেই মামলায় তিনি আর কারাবন্দি নন। কারণ, তিনি জামিনে আছেন। তিনি এখন অন্যান্য মামলায়-যেগুলো ট্রায়ালে আছে, চার্জশিট হয়েছে, এখনো বিচার হয়নি, সেই মামলায় তিনি বন্দি আছেন। সেই হিসেবে কারাবিধির সপ্তবিংশ অধ্যায়ে ৯০৯-৯১০ বিধি অনুসারে উনি প্রথম শ্রেণির ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি। সেখানেও তার রাজনৈতিক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সাক্ষাতের অধিকার তাকে প্রদান করা আছে। সেখানে বলা আছে, সপ্তাহে ১ দিন, অর্থাৎ মাসে কমপক্ষে ৪ দিন তার সঙ্গে দেখা করতে দিতে হবে। এবং প্রয়োজনে জেল সুপার যদি মনে করেন তাহলে আরও বেশি করে তার সঙ্গে দেখা করতে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, কারাবিধির ৮০(৪) অনুসারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সাক্ষাৎপ্রার্থীর মতামত কারাবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রয়েছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত