শিরোনাম

বিএনপিবিহীন নির্বাচনের পরিকল্পনা আ.লীগের

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৯:২১, জুন ২১, ২০১৮

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপিকে বাদ নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ জন্যই আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠনের কথা বলছে।

বৃহস্পতিবার (২১জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের দুটি সংগঠন বিএফইউজে ও ডিইউজের একাংশের আয়োজনে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন- বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

মূলত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাব দিয়ে গিয়ে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার (২০জুন) কাদের বলেন, অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হতে পারে। এই সরকারের আকার হবে ছোট। নির্বাচনের সময় সেই সরকার কেবল ‘রুটিন ওয়ার্ক’ করবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার চায় না বিএনপি নির্বাচনে আসুক। কয়েকটি দল নিয়ে তারা নির্বাচন করতে চায় নিজেদের মতো করে। তিনি বলেন, বিএনপি অবশ্যই নির্বাচনে যেতে চায়। সেটা নির্বাচনের মতো হতে হবে। একটি দল ক্ষমতায় থাকবে। দলীয়রা প্রধান হেলিকপ্টারে চড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াবেন। বিরোধী দলকে কথা বলতে দেবেন না, ধরে ধরে জেলে দেবেন। সে ক্ষেত্রে তো নির্বাচন হবে না।

মির্জা ফখরুল সরকারকে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। তার আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সব দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এরও আগের বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের জনগণের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘হতাশাই শেষ কথা হতে পারে না। লড়াই করতে হবে, লড়াই করতে করতে আমরা একটা জায়গায় গিয়েই পৌঁছাবোই। আমরা এই দেশে কিন্তু বাকশালও দেখেছি। মানুষ কিন্তু জেগে উঠেছে। এই বাংলাদেশের মানুষই কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উড়ে গেছে। আমাদের সেভাবেই এগোতে হবে। নির্বাচন হবে, আমরা ক্ষমতায় যাবো, এটা মনে করার কারণ নেই। আপনাকে আদায় করে নিতে হবে। এজন্য জনগণের কাছে যেতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। সবসময় একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে একটা কথা বিশ্বাস করি, হোয়েন দেয়ার ইজ ক্রাইসিস গো টু দ্য পিপল, লার্ন ফ্রম দেম। তাদের কাছ থেকে জানো, তারপর সেটাকে প্রয়োগের চেষ্টা করো। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশের সব জায়গায় যাবো। মানুষকে জাগ্রত করার চেষ্টা করবো।’

সাংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব আছে মন্তব্য করে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, “যেমন ধরুন কাজের ক্ষেত্রে কোনো কোনো স্পর্শকাতর সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না। যেটা আমরা বিডিনিউজের ক্ষেত্রে দেখতে পেয়েছি।’’ “বিডিনিউজ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এই হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের অবস্থা। এরকম সংবাদ মাধ্যম থাকলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনগণ। তারা প্রকৃত তথ্য জানতে পারে না। তারা চতুর্থ স্টেটের দায়িত্ব পালন করতে পারে না।”

সভাপতির বক্তব্যে বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, “১৯৭৮ সাল থেকে এই দিবসটি সাংবাদিক সমাজ পালন করে আসছে। আমরা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা প্রতিদিনই কালো দিবস পালন করছি। “চ্যালেন ওয়ান, ইসলামিক টিভি, দিগন্ত টিভি বন্ধ করা হয়েছে, অসংখ্য প্রোগ্রাম, অসংখ্য পত্রিকা বন্ধ করা হয়েছে। সাগর-রুনিসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ সাংবাদিক হত্যা করা হয়েছে। একটিরও বিচার হয়নি। মিডিয়া কনট্রোল করা হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। “আমাদের অবশ্যই মাঠে নামতে হবে, প্রতিবাদ জানাতে হবে, সব বন্ধ মিডিয়া খুলে দিতে হবে। নইলে মিডিয়ার স্বাধীনতা থাকবে না।”

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত