শিরোনাম

মাদকবিরোধী অভিযানে বিরোধী নেতা-কর্মীদের হত্যার শঙ্কা: বাজপা

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১৬:৫০, জুন ১৩, ২০১৮

সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (মতিন)। এ অভিযানের নামে সরকার বিরোধী নেতা-কর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যেতে পারে বলেও আশংকা করে সংগঠনটি। একটি অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, সমস্যার সমাধানের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে। গতকাল (১২জুন) পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় যুবপার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক মত বিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, সরকারি দলের সাংসদ, স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা, সরকারের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নামও মাদকব্যাবসার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। মাদকাসক্তদের অধিকাংশই নানারকম অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। মাদক থেকে দেশের তরুণ সমাজকে বাঁচাতে মাদক সম্রাট আর গডফাদারদের দমনেই হতে একমাত্র বিকল্পপথ। আগাম আশংকা করে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে বিচার বহির্ভূতভাবে সরকার বিরোধী নেতা-কর্মীদের হত্যা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত চলতে পারে।

যুব পার্টির আহ্বায়ক যুব নেতা লায়ন কে. এম শহিদ এর সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহা সচিব অ্যাড. জাফর আহমেদ জয়, বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক আক্কাছ। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাড. আবু বকর সিদ্দিক, যুব নেতা আতাউল্লাহ আরিফ, মো. শরিফ উল্লাহ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান ‍শুরুর পর থেকে অন্তত ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে পুলিশ বা র‌্যাবের গুলিতে। অভিযানে মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনার ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, মাদক কারবারিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে গুলি করায় পাল্টা গুলি চালাচ্ছে পুলিশ বা র‌্যাব, তাতে ঘটছে মৃত্যু।

কয়েকটি ক্ষেত্রে গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়ার কথা জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের মৃত্যু হয়েছে মাদক চোরাকারবারিদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। তাদের ওই বক্তব্য ও ঘটনার বিবরণ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বন্দুকযুদ্ধে নিহতের প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চেয়েছে। আর জাতিসংঘ বলেছে, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, দেশ থেকে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই বন্ধ হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত